নেইমার ম্যাজিকে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিল পিএসজি

Slider খেলা


এই মৌসুমে তার পিএসজিতেই থাকার কথা ছিল না। উপযুক্ত দাম পেলেই তাকে বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন খোদ ক্লাবের সভাপতি। বলছি নেইমারের কথা। পিএসজিতে পায়ের নিচে মাটি হারাতে থাকা ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার যেন সব অবজ্ঞার জবাব মাঠে দেওয়ার সংকল্প করেই শুরু করেছেন নতুন মৌসুম। তাই তো প্রতি ম্যাচেই সবুজ গালিচায় আঁকছেন মনোরম ছবি। লিগ ওয়ানে মপেলিয়েরের বিপক্ষে নেইমারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বড় জয় পেয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই।

২০২২-২৩ মৌসুমে প্রতি ম্যাচেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে নেমছেন নেইমার। ক্যারিয়ারের শুরুতে যে সম্ভাবনার বীজ বুনেছিলেন, তার চারাটা মিইয়ে পড়েছিল প্যারিসে এসে। তবে বিশ্বকাপের বছর আসতেই নিজেকে ফিরে পেয়েছেন সাম্বাবয়। কাপের ম্যাচ দিয়ে শুরু, এরপর লিগের খেলাতেও কমেনি নেইমারের গোলক্ষুধা। মপেলিয়েরের বিপক্ষে লিগের ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন নেইমার।

শনিবার (১৩ আগস্ট) লিগ ওয়ানে নেইমারের জোড়া গোল ও এমবাপ্পে-রেনাতো সানচেসের গোলে মপেলিয়েরকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। বাকি গোলটি ছিল আত্মঘাতী।

নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পিএসজি। ফলও পায় হাতেনাতে। ডি-বক্সে ফাউল করলে শুরুতেই পেনাল্টি পায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। তবে মৌসুমে এদিনই প্রথম খেলতে নামা এমবাপ্পে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।

প্রথমার্ধে এরপর গোলের দেখা পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের ৩৯ মিনিট পর্যন্ত। মপেলিয়েরের রাইটব্যাক ফালায়ে সাকোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। এমবাপ্পের নিচু ক্রসে এই মালিয়ান ডিফেন্ডারের পা লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়।

গোলের দেখা পেয়ে উজ্জীবিত পিএসজি আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে ফের পেনাল্টির দেখা পায় তারা। এবারের গোলের নাতের গুরুও সাকো। ডি-বক্সে তার হাতে বল লাগলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজায়। এমবাপ্পে মিস করলেও নেইমার গোল করতে ভুল করেননি। প্রথমার্ধে এই ২ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় প্যারিসিয়ানরা।

বিরতির পর মাঠে ফিরে লিড বাড়াতে খুব একটা সময় নেয়নি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। ৫১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলীয় তৃতীয় গোলটি করেন নেইমার। মরোক্কান রাইটব্যাক হাকিমির নেওয়া ক্রস প্রতিপক্ষের একজনের শরীরে বাঁধা পেয়ে তার দিকে আসলে হেডে গোল করেন পিএসজির ১০ নম্বর জার্সিধারী।

৫৮ মিনিটে ওহাবি খাঁজরি একটি গোল শোধ করলে খেলায় কিছুটা উত্তেজনা ফিরে আসে। তবে ৬৯ মিনিটে গোলের দেখা পান এমবাপ্পে। ৮৭ মিনিটে গোল করেন এই মৌসুমেই লিলে থেকে পিএসজিতে যোগ দেওয়া পর্তুগিজ মিডফিল্ডার রেনাতো সানচেস। প্যারিসিয়ানদের হয়ে এটাই তার প্রথম গোল। বদলি হিসেবে নামার এক মিনিটের মাথায় গোলটি করেন তিনি। তার গোলটিতে সহায়তা করেন আরেক পর্তুগিজ নুনো মেন্দেজ।

নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে যোগ করা সময়ের ২ মিনিটের মাথায় মপেলিয়েরের পক্ষে আরও একটি গোল শোধ করেন এনজো চাট। শেষ পর্যন্ত ৫-২ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্যারিসিয়ানরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *