স্বপ্ন পূরণ গ্রুপের সুপার এক্টিভ সদস্য মনিষার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

Slider সাহিত্য ও সাংস্কৃতি

স্বপ্ন পূরণ উদ্যোক্তাদের গল্প অনুষ্ঠানে আজ আমরা কথা বলছি গ্রুপের সুপার একটিভ সদস্য মনিষা রিফাহ তাসফিয়ার সাথে-
ঃ প্রথমে ছোট করে আপনার পরিচয় দিন।

ঃ আমি মনিষা রিফাহ তাসফিয়া। আমার ডাক নাম মনিষা।

ঃ আপনার জন্মস্থান, বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনার বিষয়ে কিছু বলুন।

ঃ আমার জন্মস্থান ঢাকায়। আমার বেড়ে ওঠাও ঢাকাতেই। আমি এখন বর্তমানে বিবিএ করছি মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে। আমি ২০১৫ সালে এইচএসসি পাশ করেছি ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ থেকে এবং ২০১৩ সালে এসএসসি পাশ করেছি ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল থেকে। আমার পড়াশোনার বেশির ভাগ সময় কেটেছে খিলগাঁও, তালতলায়।

ঃ উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা কেমন করে মাথায় এলো?

ঃ ২০১৭ সালে আমি পরিচিত আপু ভাইয়াদের পেইজে সেলের জন্য অনলাইন মার্কেটিং এর কাজ করতাম।
পেইজ কিভাবে চালাতে হয়, কাষ্টমারদেকে কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হয় এই কাজগুলো তখন আমাকে করতে হতো।
এগুলো করতে গিয়েই আমার মনে হলো নিজে কিছু করার কথা কিন্তু পড়াশোনার প্রেসারে কিভাবে কাজগুলো সামলাবো এগুলা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম পড়াশুনা শেষ করে কাজ শুরু করবো।

২০২০ সালে যখন করোনা শুরু হয় তখন ইউনিভার্সিটি বন্ধ হয়ে যায়। ঘরে বসে থাকতে আর ভালো লাগছিলো না।তখন আমার মাথায় একটা প্লান এলো শাড়ি,থ্রিপিস নিয়ে কাজ করার।এই কথাটা আমি আমার বন্ধু অন্তরের সাথে শেয়ার করলাম।সে তখন আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে বললো, “তোমার প্রোডাক্ট সোর্স থেকে শুরু করে যা কিছু লাগবে সব কিছুর বিষয়ে আমি তোমাকে সহযোগিতা করবো।”
২০২০ সালেই আমরা দুজনে মিলে আমাদের উদ্যোগটা শুরু করি।

ঃ আপনার উদ্যোগের নাম কি?এই নামকরনের কারণ কি?

ঃ প্রথমে আমার উদ্যোগের নাম হ্যাংগার ছিলো পরে নাম পরিবর্তন করে পোশাক রাখি।
এই পোশাক নামকরন করেছে আমার বিজনেস পার্টনার অন্তর । আমরা যেহেতু ড্রেস নিয়ে কাজ করি, আমাদের কাছে ছেলেমেয়ে উভয়েরই সব ধরনের পোশাক থাকবে। এই ধারণা থেকেই পোশাক নামকরন করা হয়েছে।

ঃ আপনি কি নিয়ে কাজ করেন?
ঃ মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের শাড়ী, কুর্তী, স্যালোয়ার, কামিজ এবং ছেলেদের শার্ট, টিশার্ট, পাঞ্জাবী ইত্যাদি নিয়ে।

ঃ উদ্যোক্তা জীবনে আপনার কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে কি?

ঃ আছে। সেটাই এখন শেয়ার করবো।ঢাকার বাহিরের কাস্টমাররা এডভান্স করে পার্সেল নিতে চায় না। যেহেতু তখন আমি নতুন উদ্যোক্তা। কোনো কিছু না বুঝেই এভভান্স ছাড়াই পার্সেল দিয়েছি। সেই পার্সেল পর পর ২বার রিটার্ন এসেছে। তখন আমার খুব খারাপ লেগেছে।
তখনও আমার বন্ধু আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে, যেহেতু সে ইকমার্স মার্কেটিং এর সাথে জড়িত তাই সে আমাকে অনেক বুঝিয়েছে।

ঃ আপনার উদ্যোক্তা জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা বলুন।

ঃ আমার উদ্যোক্তা জীবনের শুরুর দিকে যখন আমার পেইজের বয়স মাত্র ১/২ মাস
সেই সময় ঢাকার বাইরের একজন কাষ্টমার প্রডাক্ট অর্ডার করে আমাদেরকে বিশ্বাস করে অগ্রিম পেমেন্ট করে দেয়। আমরাও তার বিশ্বাসের অমর্যাদা করিনি।যথাসময়ে তার পণ্য ডেলিভারি দেই।আমাদের বিহেভিয়ার ও সার্ভিস দেখে তিনি ভীষণ মুগ্ধ হয়ে যান।আমাদের খুব প্রশংসা করেন। তার সেই কথাগুলো আমাদের ভীষণ অনুপ্রেরণা দেয়।এটাই আমার উদ্যোক্তা জীবনের স্মরণীয় ঘটনা।

ঃ আপনার ছোট্ট উদ্যোক্তা জীবনে আপনি কতটা সফল হয়েছেন বলে মনে করেন?

ঃ আমি এখনো শিখছি। আমার জীবনে অনেক কিছু শেখার আছে। আমি ঠিক কতটুক সফল সেটা বলতে পারবো না। আমি সব সময় নিজের সব টুকু দিয়ে ভালো কিছু করতে চাই। নতুন বিজনেস অনুয়ায়ী রেসপন্স মোটামুটি ভালো আসে। এটা আমার মতো উদ্যোক্তার জন্য অনেক কিছু । ইনশাআল্লাহ একদিন সফল হতে পারবো।

ঃ মাত্র ১ মাসে আপনি কেমন করে স্বপ্ন পূরণ টপ থ্রি তে এলেন?

ঃ স্বপ্ন পূরণ গ্রুপের এডমিন খায়রুননেসা রিমি আপু যদি অনুপ্রেরণা না দিত এবং গাইড না করতো তবে টপ থ্রিতে আসা সম্ভব ছিলো না। আমি নিজের পরিচিতি, নিজের পণ্যের পরিচিতির জন্য বেশী বেশি গঠন মূলক পোষ্ট করেছি।
অন্যেদের পোষ্টে গঠনমূলক কমেন্ট করে এক্টিভ থেকেছি। আল্লাহর উপর ভরসা করে আপুর গাইড অনুযায়ী পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং মজবুত করার চেষ্টা করেছি। আমি টপে আসবো এতো কম সময়ের মধ্যে এটা ভাবি নি।

ঃ পড়াশোনা ও উদ্যোক্তা জীবন একসাথে চালাতে গিয়ে আপনি কখনও কি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন?

ঃহ্যাঁ সমস্যা হয়েছে অনেক। যেমন নিজের উদ্যোগে সময় দেয়া, ক্লাস, এসাইনমেন্ট, পড়াশুনার প্রেসার, এক্সাম সব কিছু একসাথে করতে গিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে কিন্তু আমরা ২ বন্ধু মিলে সেই কাজ ভাগ করে নিয়েছি বলে বড় কোনো সমস্যার
মুখোমুখি হতে হয়নি।

পড়াশুনার পাশাপাশি উদ্যোগ চালানো অনেক চ্যালেঞ্জের ব্যাপার ছিলো। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ দুটোই একসাথে করে যাচ্ছি

ঃ আপনার উদ্যোগ নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

ঃ আমার উদ্যোগ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে। একদিন আমাদের নিজস্ব ডিজাইনার দিয়ে তৈরী পোশাকের আলাদা শোরুম থাকবে। ইনশাআল্লাহ একদিন সেই স্বপ্নও পূরণ হবে।

ঃ আপনার কাজে যারা অনুপ্রেরণা দিয়েছে তাদের বিষয়ে কিছু বলুন।

ঃ আমি সব থেকে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছি আমার আম্মু, ভাইয়া, ভাবীর থেকে। আম্মু আমাকে ব্যবসায়ের জন্য মূলধন দিয়েছে, ভাইয়া আমার প্রথম ক্রেতা হয়েছে। সব কিছুতে অনুপ্রেরণা দেয় ভাইয়া, ভাবী, ভাবীর ফ্যামিলি থেকেও সার্পোট পেয়েছি । আমার বন্ধু অন্তর সব থেকে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে ।
মনোবল যাতে না হারাই বার বার অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে । আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে অন্তরের ভূমিকা অনেক। আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য সব সময় সে বলতো,”তুমি পরিশ্রমী, তোমাকে দিয়ে ভালো কিছু হবে।” সে আমাকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করেছে।

শওকত নামে আমার আরেকজন বন্ধুকে পেয়েছি সাহিত্য জগতে এসে। শওকত আমাকে অনেক সময় মার্কেটিং সাইটের কাজ গুলোতে সাহায্য করেছে।

আমার বন্ধুদের মধ্যে নৌশিন, মুমু, মিথিলা, রাফা, সালেহিন ওরাও আমাকে অনেকভাবে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।বন্ধুরা বলতো,” তুই পারবি তোকে দিয়েই হবে”
বন্ধুদের এই কথাগুলোই আজ আমাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।

বর্তামানে আমাকে আরও বেশি অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন এডমিন আপু খায়রুননেসা রিমি।আপুর মতো একজন মানুষ পাশে থাকলে সফল না হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।

ঃ স্বপ্ন পূরণ গ্রুপ আপনার স্বপ্ন পূরণে কতটা সহায়তা করবে বলে আপনি মনে করেন?

ঃ স্বপ্ন পূরণ গ্রুপ আমার স্বপ্নপূরণে অনেক সহায়তা করবে বলে আমি মনে করি। আমার নিজেকেও স্বপ্ন পূরণ গ্রুপের সকল সদস্যের কাছে পরিচিতি পেতে হবে এইজন্য বেশি বেশি এক্টিভ থাকতে হবে আমাকে। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যাতে করে আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি

এই স্বপ্ন পূরণ গ্রুপের মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *