আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আজ সকাল ১০টায় সমবেত হওয়ার আহ্বান

Slider শিক্ষা

309747_134

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা পদ্ধতি বাতিল করার ঘোষণা দেয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্যের সামনে সাংবাদিকদের সামনে তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক সেখানে বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য রাতে আমরা ভালোভাবে শুনব, বিচার বিশ্লেষণ করব। তার বক্তব্য কতটুকু গ্রহণযোগ্য, সেটি বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব। আজকের মতো কর্মসূচি এখানেই সমাপ্ত। এরপর তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সবাইকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় আসার আহ্বান জানান।

গতকাল বিকেলে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের এ ঘোষণায় উল্লাস প্রকাশ করতে পারেননি কোটা সংস্কার আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতৃবৃন্দ। কারণ তাদের দাবি ছিল কোটা সংস্কার করা হোক। ১০ শতাংশের বেশি কোটা থাকবে না কোনো অবস্থাতেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করায় অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এর ফলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ অনেকে আদালতে যাবেন কোটা রক্ষার জন্য। তখন বিষয়টি স্থগিত বা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে যাবে।

অগ্নিগর্ভ ক্যাম্পাস

কোটা সংস্কার আন্দোলনে গতকালও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি বিরাজ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে রাজপথে নেমে আসেন। এতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় রাজধানীতে।

ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা কাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভে অংশ নেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে গত মঙ্গলবার রাত থেকে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশা এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে গভীর রাতে। এর পর থেকেই বিজয় একাত্তর হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, জগন্নাথ হল, জহুরুল হক হল, কবি জসীমউদদীন হলের ছাত্ররা বেরিয়ে আসেন। তারা জড়ো হন সুফিয়া কামাল হলের সামনে। অপর দিকে রগকাটার খবরে ছাত্রীরা আবাসিক হলের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
মধ্যরাতে ছাত্রলীগ নেত্রী সুফিয়া কামাল হলে রগ কাটার ঘটনা ঘটে মোর্শেদা আক্তার নামে এক ছাত্রীর। খবর পেয়ে বিজয় একাত্তর হলের প্রায় সব শিক্ষার্থী রুম থেকে বারান্দায় বের হয়ে আসেন। ছাত্রলীগের বাধা উপেক্ষা করে রাতে পৌনে ৩টায় তারা গেট ভেঙে ছুটে যান সুফিয়া কামাল হলে। ভোর সোয়া ৪টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করেন। সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ ছাত্রীরা ছাত্রলীগ নেত্রীকে জুতার মালা পরানোর পর ক্যাম্পাসে ফিরে যান মিছিল করতে করতে। এভাবে নির্ঘুম রাত পার করে আবার সকালে তারা যোগ দেন আন্দোলনে।

এশাকে স্থায়ী বহিষ্কারে আলটিমেটাম : রগকাটা ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনের নেতারা। সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এই ঘোষণা দেন তারা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরণ পরিষদের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাশেদ খান। এ সময় পরিষদের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগ সভাপতি এক শিার্থীর ওপর হামলার ঘটনাকে বর্বোরোচিত এবং ঘৃণ্য কাজ বলে মন্তব্য করেন তারা।

এ সময় ঢাবির বিভিন্ন হলে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নিন্দা এবং হামলাকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টির তীব্র নিন্দা এবং যারা এ কাজ করেছে তাদের মনোভাব পরিবর্তন করে সারা দেশের ছাত্রসমাজের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করার আহ্বান জানান আন্দোলনকারী নেতারা। তিনি অভিযোগ করেন।

রাশেদ খান বলেন, ‘সরকারের একেক ব্যক্তির একক ধরনের বক্তব্য আমরা গ্রহণযোগ্য মনে করি না।’ তিনি বলেন, যারা ভিসি স্যারের বাসায় হামলা চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে তারা সুবিধাভোগী ও অনুপ্রবেশকারী। আমরা তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনে না আসার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে যে হামলা চালানো হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাধাদানকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারেরও দাবি জানানো হয়।
কোটা বাতিলের ঘোষণা ছাত্রলীগের : এ দিকে দুপুরে ঢাবি মধুর কেন্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন সরকারি চাকরিতে আর কোটা ব্যবস্থা থাকবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে কথা বলবেন।
এ সময় উপস্থিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, আমরা ২০ জনের প্রতিনিধিদল সকাল ১০টায় গিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে। আমরা ছাত্রসমাজের প থেকে দাবির বিষয়ে তাকে বলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোনো ধরনের কোটা থাকবে না। ছাত্রলীগ সভাপতির এ ঘোষণার পর আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান বলেন, আমরা কারো কথায় বিশ্বাস করি না। ইতোমধ্যে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি : ঢাবির একটি ছাত্রী হলে গভীর রাতে শিার্থীকে রক্তাক্ত করার প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্দোলনকারী শিার্থীরা। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে শিার্থীরা ক্যাম্পাসে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শিার্থীদের পক্ষে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরণ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, এই আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, আন্দোলন শেষে তাদের প্রত্যেককে হলে ফিরতে হবে। কিন্তু সেখানে তারা নিরাপদ নয়। এই ক্যাম্পাসের কোনো ছাত্র যদি অন্যায় করে তাহলে প্রশাসন তদন্ত সাপেে তার ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু একজন ছাত্রের, তিনি যেই হোন না কেন, আরেকজন ছাত্রের গায়ে হাত তোলার বা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার কোনো অধিকার নেই। তাই শিার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসনকে আন্তরিক হতে হবে।

আরো বলেন, ক্যাম্পাসে শিার্থী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে : কোটা সংস্কারের দাবিতে চলা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিসহ প্রায় সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজধানীর রাজপথের বিভিন্ন পয়েন্টে নেমে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। এর আগের দিন মঙ্গলবারও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। তখন রাস্তা অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। আর যেসব রাস্তায় যানবাহন চলাচল করে সেখানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির শিার্থীরা অবস্থান নেন। তারা পান্থপথ সিগন্যাল মোড়ে বিােভ করেন। দুপুর ১২টার দিকে ওই মোড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় কাঁঠালবাগান, গ্রিন রোড, পান্থপথ ও ফার্মগেট, বসুন্ধরা সিটি এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া খামারবাড়ির সামনের সড়কেও পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেন।
ধানমন্ডিতে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিার্থীরা সোবহানবাগ মসজিদ ও রাপা প্লাজার মোড়ে অবস্থান নেন। হাজার হাজার শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। বিােভকারীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে ইট দিয়ে সড়কে বিভিন্ন স্লোগান লিখেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে তারা সড়ক প্রদণি করেন। এ কারণে আসাদ গেট মোড় থেকে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে যানবাহনগুলোকে সংসদ ভবনে রাস্তায় ঘুরিয়ে দেন। তখন আসাদ গেট থেকে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত পুরো রাস্তা ফাঁকা হয়ে পড়ে। ওই এলাকার মানুষ যানবাহন না পেয়ে হেঁটে গন্তব্যস্থলে পৌঁছান।

এদিকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিার্থীরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তাদের সাথে যোগ দেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিার্থীরা। শিার্থীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটার ঠাঁই নাই’ বলে স্লোগান দেন তারা।
একাত্মতা প্রকাশ ঢাবি শিক সমিতির : এ দিকে বেলা সোয়া ১টায় রাজু ভাস্কর্যে এসে আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্বথবিদ্যালয় শিক সমিতি।

পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো ঝামেলা হলে সেটা আমরা শিক-ছাত্ররা দেখব। পুলিশ যেন হামলা না করে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ শিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান প্রমুখ।
শিার্থীদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে কোনো ধরনের পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

দুপুরে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম স্বারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
এতে বলা হয়, শিার্থীদের কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবির প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক সমিতির প থেকে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। শিক সমিতি মনে করে, এই কোটা সংস্কার এখন যুগের চাহিদা। সে অনুযায়ী কোটা সংস্কার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত দ্রুততম সময়ে ঘোষণা করার জন্য আমরা আহ্বান জানাই।
শিার্থীদের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালীন কোনোরূপ পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর প্রতি আমরা আহ্বান জানাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক সমিতি শিক ও শিার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত আন্দোলনে আড়াই শতাধিক আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৪ জনকে। তবে তাদের বেশির ভাগ ছাড়া পেয়েছেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) বর্তমানে প্রতি ১০০ জনে ৫৬ জন চাকরির সুযোগ পায় কোটার মাধ্যমে।
৫৬ ভাগ এই কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পোষ্যদের জন্য ৩০ ভাগ, নারী ১০ ভাগ, জেলা ১০ ভাগ, ুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ ভাগ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ ভাগ বরাদ্দ রয়েছে।

বিসিএস ক্যাডার ছাড়াও প্রথম শ্রেণীর আরো সরকারি চাকরি রয়েছে। তারা নন-ক্যাডার। প্রথম শ্রেণীর এই নন-ক্যাডার এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও ৫৬ শতাংশ কোটা পদ্ধতি বহাল রয়েছে। এর বাইরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটার হার আরো বেশি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় ৭০ ভাগ পর্যন্ত কোটায় নিয়োগ দেয়া হয়।
সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে এক দিকে কোটা আরেক দিকে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি। ৫৬ ভাগ কোটায় নিয়োগের পর বাকি ৪৪ ভাগ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পদে পদে চলছে অনিয়ম। দেশ বঞ্চিত হচ্ছে যোগ্যদের সেবা থেকে। বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার যোগ্য তরুণ মেধাবী। বছরের পর বছর ধরে চলা এ বঞ্চনা আর হতাশা রূপ নেয় প্রচণ্ড ক্ষোভে।

দীর্ঘ দিন ধরে এ কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা শাহবাগে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যায়। গত রোববার বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও শিক্ষার্থী এবং চাকরি প্রার্থীরা আন্দোলনে যোগ দেন। কিন্তু ওই দিন তাদের ওপর পুলিশের হামলায় পরের দিন থেকে সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *