
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে এক বৃদ্ধকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও সেতু থেকে খালে ফেলে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. লিটন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। রোববার (১২ এপ্রিল) তাকে নোয়াখালীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়।
লিটন চৌধুরী নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য সচিব।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকাল ১১টার দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ মধ্য বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আবদুল হাই (৭৫) নিজের জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। লিটন চৌধুরীর নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা তার ও তার দুই ছেলের ওপর হামলা চালায়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা আবদুল হাইকে বেধড়ক মারধর করে একটি সেতু থেকে নিচের খালে ফেলে দেয়। এতে তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. সুমন বাদী হয়ে লিটন চৌধুরীসহ ছয়জনকে আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর লিটন পালিয়ে গেলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তাকে রায়পুর থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় যুবদল লিটন চৌধুরীকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
