
গাজীপুর: গাজীপুরে ‘বিগ্রেডিয়ার সাজ্জাদ’ পরিচয়ে দৈনিক কালের কন্ঠের সাংবাদিক সহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টার পর এ বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর এই সতর্কতা জারী করে।
আইএসপিআর এর বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ ও ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রতারকরা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করছে। সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তাদের ছবি হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ব্যবহার করে তারা নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করছে।
আইএসপিআর স্পষ্টভাবে জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থা কখনোই ব্যক্তিগতভাবে ফোন কল বা বার্তার মাধ্যমে এ ধরনের যোগাযোগ করে না। এ ধরনের কোনো কল বা বার্তা পেলে তা ভুয়া হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানায়, প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দৈনিক কালের কন্ঠের গাজীপুর আঞ্চলিক প্রতিনিধি রিপন আনসারী সহ গাজীপুরের একাধিক গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষক সহ একাধিক ব্যাক্তির কাছে ‘বিগ্রেডিয়ার সাজ্জাদ’ পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোনে যোগাযোগ করে একটি প্রতারক চক্র।তারা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ভেরিফিকেশন কোড নেওয়ার চেষ্টা চালায়। একই ভাবে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তারুল আলম মাস্টার, শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী ও জয়দেবপুর রানী বিলাসমনি সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আসাদুজ্জামান নূর সহ বেশ কিছু লোককে একই কায়দায় ফোন করা হয়।
ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, (+৮৮০ ১৮৮৭-১৩৪২৯৮) নম্বর থেকে প্রথমে মেসেঞ্জারে একটি লিংক পাঠানো হয় এবং পরে হোয়াটসঅ্যাপে ভেরিফিকেশন কোড চাওয়া হয়। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে সামরিক পোশাক পরিহিত একটি ছবিও ব্যবহার করা হয়। ট্রুকলার অ্যাপে নম্বরটির নাম ‘বাটপার প্রোম্যাক্স’ হিসেবে প্রদর্শিত হওয়ায় প্রতারণার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।
দৈনিক কালের কণ্ঠের গাজীপুর আঞ্চলিক প্রতিনিধি রিপন আনসারী জানান, তাকে ফোন করে বলা হয় তার নম্বর সেনাবাহিনীর সার্ভারে ঢুকে গেছে এবং একটি লিংকে প্রবেশ করলে তা সরিয়ে দেওয়া যাবে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি কলটি কেটে দেন এবং পরে গাজীপুরের ধান গবেষণা আর্মি ক্যাম্পকে বিষয়টি অবহিত করেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সাহেব আলী পাঠান গণমাধ্যমকে জানান, এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে টার্গেট করছে। তাই অচেনা নম্বর থেকে পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক না করা এবং কোনো অবস্থাতেই ভেরিফিকেশন কোড শেয়ার না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
