শিক্ষালয়ে চুল কেটে শ্রেণীকক্ষে শিশুকে হেনস্তা অভিযোগ করায় বহিষ্কার

Slider টপ নিউজ


গাজীপুর: গাজীপুরে কালীগঞ্জে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর লম্বা চুল অপমানজনকভাবে কেটে শ্রেণীকক্ষে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে। বাবা কর্তৃক ঘটনার বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করায় লাঞ্ছিত শিশুকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট ভুক্তভোগীর বাবা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ওই শিশুকেই বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

লিখিত অভিযোগে প্রকাশ, গত ১৫ মার্চ কালীগঞ্জ পৌরসভার দুর্বাটি এলাকার ‘হিউম্যান বাড টিউটোরিয়াল’ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছেলে শিশু(৯) শিক্ষার্থীর মাথার চুল লম্বা বলে শ্রেনী কক্ষের সামনে কেঁচি দিয়ে এলোমেলো ভাবে চুল কাটেন এক শিক্ষক। এরপর তাকে শ্রেনীকক্ষে নিয়ে গেলে সহপাঠীরা ঠাট্টা মশকরা করে। অতঃপর শিশুটি লজ্জায় ও অপমানে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুর বাবা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। এই অভিযোগ করার পর বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ‘হিউম্যান বাড টিউটোরিয়াল’-এর প্যাডে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওম্মে হাফসা স্বাক্ষরিত একটি নোটিশে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের ‘শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে ভুক্তভোগী শিশুকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার প্রতিশোধ হিসেবেই শিশুটিকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. মজিবুর রহমান ও প্রধান শিক্ষককে ফোন করা হলে ফোন ধরেননি। তবে প্রতিষ্ঠাতার ছেলে ও স্কুলের তত্ত্বাবধায়ক মারুফুর রহমান বলেন, চুল কাটার ঘটনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। চুল কাটার সিদ্ধান্তটি স্কুল কর্তৃপক্ষের। “ওই দিন আরবি ক্লাসের সময় ওজুখানায় নিয়ে চুল কাটা হয়েছিল। আমাদের স্কুলে কোনো প্রফেশনাল নাপিত নেই, তাই চুল ঠিকভাবে কাটা হয়নি। অভিভাবককে বারবার সতর্ক করার পরও শিশুর চুল কাটা হয়নি, তাই চুল কাটা হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, “ঘটনার পর শিশুর আচরণ বেপরোয়া হয়ে পড়ে। তাই তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত বলেন, “ছেলেকে অপমান করেছে, আবার স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে। আমি প্রতিবাদ করেছি বলেই আমার ছেলেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা আরও অনেক শিক্ষার্থীর সাথেই হয়েছে, কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করেনি।”

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “শিশুর চুল কেটে দেওয়া এবং তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কারের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *