শিক্ষক আন্তরিক হলে প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে শিক্ষার্থীমুখী!

Slider শিক্ষা


মো: জাকারিয়া:স্টাফ রিপোর্টার: দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সরকার প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় সেই বিনিয়োগ প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছ থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও কার্যকর উদ্যোগ বাড়লে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো আবারও শিক্ষার্থীতে ভরে উঠতে পারে।

ধরা যাক একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। গড় হিসেবে প্রত্যেকের বেতন প্রায পঁচিশ হাজার টাকা করে ধরা হলে পাঁচজন শিক্ষকের পেছনে মাসে ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দারোয়ানের বেতন ১৫ হাজার এবং বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচ আরও প্রায় ১৫ হাজার টাকা যোগ করলে একটি বিদ্যালয় পরিচালনায় সরকারের মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কিন্তু অনেক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০০ জনেরও কম। সে ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৫০০০ টাকা বা তার বেশি। অথচ একই বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক কম। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে একটি বিদ্যালয়ে সহজেই ২৫০-৩০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে পারে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অবহেলা ও পড়াশোনায় যথাযথ মনোযোগ না থাকার কারণে অনেক পরিবার সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহী হয় না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে বেসরকারি বিদ্যালয় বা কোচিং-নির্ভর শিক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, একজন শিক্ষার্থী যদি রাষ্ট্রের কাছ থেকে মাসে হাজার টাকার বেশি ব্যয় সুবিধা পায়, তবে সেই শিক্ষার্থীকে যত্ন নিয়ে পড়ানো ও দক্ষভাবে গড়ে তোলা শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করেন না, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার কারিগর।

শিক্ষার্থীমুখী করতে করণীয়
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আবার শিক্ষার্থীতে ভরিয়ে তুলতে কয়েকটি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যেমন—
বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভর্তি কার্যক্রম জোরদার করা
শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দমুখর ও অংশগ্রহণমূলক ক্লাসরুম পরিবেশ তৈরি করা
নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা
দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক ক্লাসের ব্যবস্থা করা
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক-অভিভাবক কমিটির সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা
শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি। এই ভিত্তি মজবুত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও সৃজনশীল উদ্যোগ বাড়লে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো আবারও শিক্ষার্থীদের প্রধান ভরসার জায়গা হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, “বিদ্যালয় শুধু ভবন নয়, এটি ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। শিক্ষকরা যদি আন্তরিকভাবে কাজ করেন, তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেই দেশের সেরা প্রজন্ম তৈরি হওয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *