সন্ধ্যার পর থেকে বেড়েছে চাপ, গাজীপুর ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ

Slider ফুলজান বিবির বাংলা


ঈদকে সামনে রেখে শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর ছেড়ে যাচ্ছেন ঘরমুখো নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকেই ভোগান্তি এড়াতে আগেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পাঠিয়ে দিচ্ছেন নিজ নিজ বাড়িতে।

সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে গাজীপুরের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশপথ চন্দ্রা বাস টার্মিনাল থেকে একের পর এক দূরপাল্লার যানবাহন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে।

ঢাকা – টাঙ্গাইল সড়কের চন্দ্রা, খাড়াজোড়া ও কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় ঘরমুখী যাত্রীদের ভিড় সন্ধ্যার পর থেকে বাড়তে শুরু করে। যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে যানবাহণের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

চন্দ্রা বাস টার্মিনালে থাকা কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ যাত্রীরা দরদাম করে বাসে উঠছেন। অনেক যাত্রীরাই অভিযোগ করছেন ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই পরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও তুলনামূলক বেশি দামে তেল কেনার কারণে আগের তুলনায় ভাড়া কিছুটা বেশি ধরা হচ্ছে।

চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকার হানিফ পরিবহণ বাস কাউন্টার মালিক আব্দুল মান্নান বলেন, “এ বছর ঈদে চন্দ্রা এলাকার সব কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে আগাম টিকিট কেটে যাত্রীরা বাসে উঠে যাচ্ছে। যার ফলে চন্দ্রা বাস টার্মিনালে আগের মতো ভোগান্তি থাকার সম্ভাবনা নেই।”

শ্যামলী পরিবহনের চালক রহমত আলী আকন্দ বলেন, “ঈদের দুই একদিন আগে যেন বড় ধরনের ভোগান্তি না হয় সেজন্য আগেই মানুষজন চলে যাচ্ছেন। আমরা আজ থেকেই যাত্রী বহন শুরু করেছি। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত আসতেই বাস ভরে গেছে। সব স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।”

দিনাজপুরগামী যাত্রী সুলাইমান মিয়া বলেন, “পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগে আগেই চলে যাচ্ছি। অনেকটাই আরামদায়ক ভাবে গড়িতে উঠেছি। ভালো সিট পেয়েছি, টাকা একটু বেশি হলেও ভোগান্তি অনেক কম হচ্ছে।”

গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলম বলেন, “এ বছর ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে ইতিমধ্যেই আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক কন্ট্রোল টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সর্বক্ষণ নজরদারি রাখা হচ্ছে। সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহণ চলাচল বন্ধ, ভাড়া নৈরাজ্যতা বন্ধের পাশাপাশি নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে আমরা তিন শতাধিক পুলিশ কাজ করছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *