সরবরাহ সংকট কাটেনি, তেল নেই অনেক পাম্পেই

Slider সারাদেশ


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে জ্বালানি অস্থিরতা। তার প্রভাবে দেশেও তৈরি হয়েছে ‘কৃত্রিম সংকট’। সরকার কর্তৃক গত শুক্রবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ শুরুর আগে প্যানিক বায়িংয়ের জন্য অনেক পাম্পেই তেল শেষ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের তরফ থেকে বলা হয়, শুক্র-শনি সরকারি ছুটি থাকায় ডিপো থেকে তেলবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকেই তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

তবে আজ (সোমবার) রাজধানীর অনেক পাম্পেই তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি, কোনো পাম্পে আবার তেলও নেই। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদার তুলনায় তেল এসেছে অতি অল্প, যা দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

অনেক পাম্পেই তেল নেই, স্বাভাবিক হচ্ছে না সরবরাহ

এয়ারপোর্টে পরপর অবস্থিত দুইটি পেট্রোল পাম্পে আজ সকাল থেকেই তেল নেই। ডি এল ফিলিং স্টেশন ও মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা বলেন, গতকাল (৮ মার্চ) একটি করে তেলের গাড়ি এসেছে, যা গতকালই শেষ হয়ে গেছে।

ডি এল ফিলিং স্টেশনের কর্মী বলেন, আমাদের দৈনিক গাড়ি লাগে ৬টা, অথচ সেখানে গাড়ি এসেছে মাত্র ১টা। যা বিপুল চাহিদার তুলনায় সামান্য। আজ আবার গাড়ি এলে তেল বিক্রি হবে।

মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনেরও একই বক্তব্য। সকাল থেকে এ পাম্পেও তেল নেই। দুপুর নাগাদ গাড়ি আসলে তেল সরবরাহ করা হবে।

শুক্র-শনিবারের সরকারি ছুটির কারণে তেলের গাড়ি না আসার যুক্তি মেনে নিয়ে অধিকাংশ গ্রাহক আজ থেকে স্বাভাবিক তেল সরবরাহের আশা করেছিলেন। তবে তা না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।

ডি এল স্টেশনে তেল নিতে আসা গ্রাহক মুকুল বলেন, পাম্পগুলো বলছিল শুক্র-শনিবারের পর থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। কিন্তু এখানে এসে তো তা দেখতে পাচ্ছি না। ঘণ্টাখানেক যাবত অপেক্ষা করছি, কখন তেল আসবে কে জানে।

আরেক গ্রাহক মো. সগীর বলেন, টঙ্গীর কয়েকটা পাম্পে কোনো তেল নেই, ভাবলাম এখানে এসে পাবো। কিন্তু এখানেও নেই, বলছে গাড়ি এলে পাওয়া যাবে। তেলের এই সংকট কতদিন ভোগাবে কে জানে।

রেশনিংয়ে তেল মিলছে ট্রাস্ট-ক্লিনে

অন্যান্য পাম্পে তেল সরবরাহের সংকট থাকলেও তা স্বাভাবিক দেখা গেছে বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে। বরাবরের মতো আজও পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহকের লাইন ছুঁইছুঁই করছে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত।

পাম্পের কর্মচারী লিটন বলেন, আমাদের এখানে চাহিদামাফিক গাড়ি আসছে্ সুতরাং এখানে তেলের সংকট নেই। প্রত্যেকে এসেই তেল নিতে পারছে।

একটি তেলের গাড়ি সাধারণত ১৩ হাজার ৫০০ লিটার তেল বহন করতে পারে। রেশনিং পদ্ধতিতে এতে করে ৬ হাজার ৭৫০টি বাইক বা ১ হাজার ৩৫০টি গাড়িকে তেল দেওয়া সম্ভব। যদিও কিছু পাম্প বলছে, সব গাড়ি ফুল লোড হয়ে আসছে না।

কথা হয় মহাখালীর ক্লিন ফুয়েলের কর্মচারী জুয়েলে সঙ্গে। তিনি বলেন, সব পাম্প চাহিদামাফিক তেল পাচ্ছে না। ৬ গাড়ির অর্ডার দিলে ৪ গাড়ি আসে। আমাদের এখানে এখন তেল আছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আশা করি সংকট হবে না।

কেন এই সংকট?

বিভিন্ন পাম্পে তেলের গাড়ি না যাওয়া বা চাহিদামাফিক তেল না পাওয়ার কারণ জানতে কথা হয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির (একাংশ) সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিমের সঙ্গে। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই সংকটের কারণ হলো, মূলত ডিপো থেকেই তেল কম দেওয়া হচ্ছে। ফলে সব পাম্প চাইলেও তেল পাচ্ছে না। ধরুন একটি গাড়ির ধারণক্ষমতা ৪ হাজার লিটার হলে সে তেল পাচ্ছে ১ হাজার লিটার, যা দিয়ে বেশিক্ষণ তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব না।

তিনি আরও বলেন, দেশে তেলবাহী জাহাজ প্রবেশ করলেও তা কাস্টমস ও ডিসচার্জ পেরিয়ে পাম্প অবধি আসতে কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। কিন্তু এটা তো মানুষরা বুঝতে পারছে না, ফলে প্রতিনিয়ত প্যানিক বায়িং বাড়ছে। সরকারের উচিত এখন তেলের দাম কমিয়ে দেওয়া, যাতে বোঝানো হয় যে, আমাদের কোনো সংকট নেই। এতে করে জনগণের আতঙ্কও কমে আসবে।

দেশীয়ভাবে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাকৃতিকভাবে আমরা যে পেট্রোল-অকটেন পেয়ে থাকি, সেটার পরিমাণ কমার কারণ হলো গ্যাসের উৎপাদন কমে গেছে। উৎপাদন কমলে কনডেনসেট কম উৎপাদিত হয়, ফলে এদিকেও তার প্রভাব পড়ে।

সার্বিক বিষয়ে বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, রেশনিং পদ্ধতিতে পাম্পগুলোকে তেল দেওয়া হচ্ছে বিধায় কোথাও তেল দ্রুতই শেষ হচ্ছে। তবে তেলের কোনো সংকট নেই, যথেষ্ট মজুদ আছে। এছাড়া শিপমেন্টে আরও তেল দেশে এসেছে। দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *