
ক্যাপশন: প্রতিপক্ষের হামলায় ভাঙচূর হয় বিএনপি নেতা শাহীনের অফিস।
গাজীপুর: ক্ষমতার প্রভাবে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে সৃষ্ট আভ্যন্তরীন কোন্দলে কোনঠাসা হচ্ছে বিএনপি। এই ফাঁকে ঢুকে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ। এই প্রভাব দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। একাধিক ঘটনায় একপক্ষীয় মামলা হলেও বিচার পাচ্ছে না বিএনপির লোকজন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি শিল্পনগরী টঙ্গীতে নির্বাচনী জেরে স্থানীয় যুবদলের কয়েকজনে সাথে আওয়ামীলীগ সমর্থিতদের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়। এই ঘটনায় আওয়ামীলীগ সমর্থিতদের মামলায় যুবদলের তিনজন গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ড খেটে এখন জেলে আছেন। কিন্তু আহত যুবদলের কর্মীদের মারধরের ঘটনায় মামলা নেয়নি থানা পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয় এক যুবদল নেতা গ্রেপ্তারকৃত যুবদল কর্মীরা যুবদলের লোক নয় বলে জানালেও ওই তিন যুবদল কর্মী ধানের শীষের লোক ও কারো কারো পদও আছে বলে যথেষ্ট তথ্যপ্রমান ভাসছে। শুধু এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য অস্বীকার করায় তারা তিনজন এখন কারাগারে।
গাজীপুরের গাছায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গাছা থানা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহীনের অফিস ভাংচূর হয়েছে বলে থানায় মামলা হয়েছে। ওই অফিসে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ দলীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের ছবি ভাংচূর করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ঝুট ব্যবসা নিয়ে ঝামেলা থেকে শাহীনের অফিস ভাংচূর হয়েছে কিন্ত এটা বিএনপির কোন অফিস নয়। এই ক্ষেত্রে দুই পক্ষই প্রভাব বিস্তার ও ঝুট ব্যবসার জন্য পরস্পরকে আওয়ামীলীগ বলছে।

ক্যপশন: প্রতিপক্ষের মামলায় আহত হয়ে গ্রেপ্তার হন য়ুবদলের তিন কর্মী
গাজীপুরের সকল এলাকায় এই একই ধরণের অবস্থা বিরাজমান। প্রভাব বিস্তার ও এলাকায় আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে বিএনপির মধ্যে সৃষ্ট আভ্যন্তরীন কোন্দলে কোনঠাসা হয়ে যাচ্ছে বিএনপি। আর এই সুয়োগে বিএনপিতে যোগ দেয়া আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে দলে দলে বিএনপিতে আসছে আওয়ামীলীগের লোকজন। ইতোমধ্যে গাজীপুর জেলা ও মহানগরে কয়েক হাজার আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী বিএনপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদান করেছেন। ফলে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সাথে পেরে উঠতে পারছে না শুধু বিএনপির লোকজন। ফলে জেল জুলুম ও মারধরের শিকার হচ্ছে বিএনপির লোকজন।
বিএনপির ত্যাগী কর্মীরা বলছেন, ১৭ বছর নির্যাতন সহ্য করে এখন যদি আমাদের নেতাদের ব্যবসা নিরাপদ করতে নির্যাতিতদের আক্রমনে আহত ও জেল খাটতে হয় তবে বিএনপি করে কি লাভ হয়েছে?
এ সব বিষয়ে জিএমপি পুলিশ ও বিএনপির নেতৃবৃন্ধ বলছেন, বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখব। কেউ যেন ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় খেয়াল রাখা হবে।
