
গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুরে খাল খনন কর্মসূচিকে ‘বিপ্লবী উদ্যোগ’ আখ্যা দিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরবে। দীর্ঘদিন অবহেলা ও দখলের কারণে দেশের বহু খাল অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে এই সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে চায়।
সোমবার দুপুরে শ্রীপুর পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা চৌক্কার খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, খালে বর্জ্য ফেলা, প্রভাবশালীদের বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নগর-গ্রাম উভয় এলাকাতেই জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার খাল খনন ও দখলমুক্ত করার কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষকদের স্বার্থে খাল খননের যে দর্শন ও উদ্যোগ চালু করেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই সরকার নতুন করে কর্মসূচি শুরু করেছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সরকার গঠনের পরপরই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃষিঋণ মওকুফসহ নানা সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষকরা উৎপাদনে উৎসাহ পান। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ—কৃষিই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সরকার চায় কৃষক টিকে থাকুক, উৎপাদন বাড়ুক এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হোক। সবাইকে চাকরি দেওয়া সম্ভব না হলেও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে; প্রথম ১৮০ দিনেই তার অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব এবং সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী। বক্তব্য দেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পরে গাজীপুর মহানগরের গাছা খাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গাছা খালসহ দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকা সব খাল পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে এবং খালের জমি দখলমুক্ত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জনগণের সরকার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো খাল বা নদীর জমি দখলের সুযোগ দেওয়া হবে না। দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।’
গাছা খাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আলম হোসেন, জিসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল খনন ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শ্রীপুর ও গাজীপুর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
