মো. সাজ্জাত হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুর -৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত “শান্তির প্রতীক হাতপাখা মার্কার প্রার্থী কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী প্রচারণার নির্দেশনা যথাযথ অনুসরণ করে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-পূবাইল-বাড়িয়া) আসনে হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মাওলানা গাজী আতাউর রহমানকে নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করেছেন। তাদের এই প্রচারণা গাজীপুর-৫ আসনের জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ধারাবাহিক প্রচারণায় বৃহস্পতিবার (২৯শে জানুয়ারি) দিনভর মাওলানা গাজী আতাউর রহমান কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন ঘোড়াশাল ফেরিঘাট, প্রাণ আর এফ এল গেইট, ঘোনাপাড়া, বালীগাঁও, কালীগঞ্জ উপজেলা এলাকা, কালীগঞ্জ বাজার, ঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গণসংযোগ গণমিছিলে রূপ নেয়।
গণসংযোগকালে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এলাকার ব্যবসায়ী, পেশাজীবী সহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের নানাবিধ সমস্যা ও দাবিদাওয়া মনোযোগ সহকারে শোনেন। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, কর্মসংস্থানের সংকট, স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর নেতৃত্বের অভাবের কথাও প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হতে পারলে গাজীপুর-৫ আসনের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানে সর্বোচ্চ কাজ করবো। মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা আমার রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে পীর সাহেব চরমোনাই আমাকে আপনাদের একজন সেবক হয়ে কাজ করতে পাঠিয়েছেন। আমিও আপানাদের সেবক হয়ে থাকতে চাই। আমি আপনাদের কে নিয়ে কালীগঞ্জের অতীতের সকল রাজনৈতিক কালিমা দূর করতে চাই। কালীগঞ্জ হবে শান্তির কালীগঞ্জ। আমি আপনাদের মুল্যবান ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে গিয়ে অবহেলিত কালীগঞ্জকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়তে চাই, যেখানে থাকবেনা মাদকের ছোবল, যা যুব সমাজকে ধ্বংস করে, অর্থনৈতিক ক্ষতি করে। এই কালীগঞ্জ হবে উন্নয়ন ও সুশাসনের কালীগঞ্জ ইনশাআল্লাহ।
বর্তমানে ঢাকা ও গাজীপুর জেলা শহরের সাথে কালীগঞ্জ থেকে সরাসরি যানবাহনের কোন ব্যবস্থা নেই। ঢাকার বিভিন্ন ভার্সিটি এবং কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের আশা যাওয়ার যে বিঢ়ম্বনা, গাজীপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কালীগঞ্জ থেকে আসা-যাওয়া করতে যে কষ্ট হয়, আমি নির্বাচিত হলে আবার কালীগঞ্জ টু ঢাকা, সরাসরি পাবলিক বাস চলাচলের ব্যবস্থা করবো এবং আমাদের প্রিয় জেলা গাজীপুরের সঙ্গে গাড়ির যোগাযোগের ব্যবস্থা করবো।
তিনি আরো বলেন- হাতপাখা মার্কা সাধারণ মানুষের প্রতীক। এই প্রতীক শান্তি, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাজনীতির বার্তা বহন করে। আমি ক্ষমতার রাজনীতি নয়, জনগণের রাজনীতি করতে চাই।
গণসংযোগকালে তার সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রচারণার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে হাতপাখা মার্কা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই পরিবর্তনের আশায় মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের প্রতি সমর্থন জানান।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী সরাসরি মাঠে নেমে মানুষের কথা শুনছেন এবং সমস্যার বাস্তব সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। এতে নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

