গাজীপুর: ঢাকা–ভৈরব রেলরুটে গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল রেলস্টেশনের বাজার গেট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক মা ও তার দুই সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মা- হাফেজা খাতুন (৩৫), পিতা- মোজাম্মেল হক, মাতা-আমেনা বেগম, গ্রাম-দক্ষিণ সোম,পোস্ট-সোম নতুন বাজার,থানা- কালিগঞ্জ জেলা- গাজীপুর। তার মেয়ে তাবাসসুম (৮) ও ছেলে মারুফ (৫)।
পুবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনাজনিত—ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেললাইন পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি ট্রেনে নীচে ওই মা ও দুই সন্তান এর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
নরসিংদী রেলস্টেশনের রেল পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন,“আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছি। তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
নরসিংদী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাফেজা খাতুন মালা তার শ্বশুরবাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। সোমবার সকালে শ্বশুরবাড়িতে ঝগড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তার মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। পরে মেয়েকে ইউনিফর্ম পরিয়ে স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর সকাল পৌনে ১১টার দিকে পূবাইল বাজার রেলগেট থেকে পূর্ব দিকের আউটার সিগন্যাল এলাকায় গিয়ে সন্তানদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।

