সম্পাদকীয়: ভোটে ভুুত আতঙ্ক কেন!

Slider সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের বয়স ৫৫ বছর। এই সময়ে অনেক ভোট হয়েছে। গণতান্ত্রিক ভোট, স্বৈরতান্ত্রিক ভোট, হ্যাঁ/না ভোট ও ভোট না হয়েই ফালাফলের ভোট। কখনো কেন্দ্রে ভোটের বাক্স এসেছে আবার কখনো সিল মেরেই ভোট শেষ করা হয়েছে, ভোটারের দরকার হয়নি। আবার অর্ধেক ভোট হওয়ার পর বিজয় মিছিলও হয়েছে। এ সবই বাংলাদেশের ভোটের চিত্র। ভোট দিতে গিয়ে বা ভোটে দাঁড়িয়ে বা ভোট গ্রহন করতে গিয়ে ভোটারের মৃত্যুও হয়েছে। কখনো কখনো ভোট কেন্দ্র জ্বালিয়েও দেয়া হয়েছে। সময় বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, উৎসবের ভোট বিষাদেও পরিণত হয়। তাই ভোট উৎসব না হয়ে বেদনার হয়ে যাওয়ায় ভোটাররা ভোটকে ভয় পায়। মানুষ ভুতকে ভয় পায় বলেই খালিঘরে থাকে না, ফাঁকা রাস্তায় হাঁটে না। ঠিক তেমনি ভোট দিতে গিয়ে ভোটারের মৃত্যু হয়ে যাওয়ার কারণে ভয়ঙ্কর এই ভোট উৎসবকে মানুষ ভুতও মনে করে।

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নৈতিকতার মানদন্ডে এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, এখন রাজনীতিকে মানুষ অপরাধ মনে করতেও দ্বিধা করে না। রাজনীতিবিদ দেশ ও মানুষের কল্যানে নিজেকে বিসর্জন দিতেও কৃপনতা করে না এই কথা এখন উল্টে গেছে। বাস্তবতা বলছে, রাজনীতিবিদ এখন নিজের স্বার্থের প্রয়োজনে দেশ ও মানুষকে বিসর্জন দিতেও কৃপনতা করে না। রাজনীতিবিদরা এক সময় অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের জীবনবাজী রেখে যুদ্ধ করতেন আর এখন রাজনীতি করলেই বড় লোক হওয়া যায়। কোন কাজ না করে শুধু রাজনীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার সংস্কৃতি যেদিন রীতিতে পরিণত হয়েছে, সেদিন থেকে রাজনীতি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন নেতারা কোন কথা বলে বিপদে পড়লে মোকাবেলা করার জন্য বলেন, বক্তব্যটা রাজনৈতিক ছিল। মানে হলো, রাজনীতিতে মিথ্যা বলা যায়। সত্য আর দেশপ্রেমে বিভোর মানুষের রাজনীতি করার কথা, আর এখন ঠিক উল্টো চিত্র। রাজনীতিবিদরা যাদের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করবে, এখন তারাই রাজনীতিতে বেশী সক্রিয়। রাজনৈতিক নেতারা মঞ্চে যা বলেন, তার কোনটা সঠিক সেটাও মানুষ জানে। রাজনৈতিক নেতার কথায় হাত তালি দিলেও মানুষ বুঝে এই তালি অন্যায়কে সমর্থন করে। তবুও তারা তালি দেয়। কারণ গণতন্ত্রের নমুনাই এখন এমন।

ফলে রাজনীতি তার স্বকীয়তা যেমন হারাচ্ছে ঠিক তেমনি উৎসবে ভরা ভোট এখন আতঙ্কের ভোট হয়ে গেছে। ভোটার খুন হওয়ার ভোট হলে, সেই ভোট না আসাই ভালো। আমরা ভোট চাই, খুন হতে চাই না। তবুও আমরা হতভাগা জাতি, আশায় বুক বেঁধে থাকি, যদি ভোট, উৎসব ডেকে আনে কোন দিন! সেদিন হয়ত আমেজ ফিরে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *