গাজীপুর শিক্ষা বিভাগে দুর্নীতি-১, মৌচাক সংরক্ষনে অল ম্যানেজ!

Slider টপ নিউজ


গাজীপুর: দুর্নীতিগ্রস্থ খাত হিসেবে মানুষ পুলিশ, রাজস্ব সহ যে কয়টি খাতকে বুঝত তার মধ্যে শিক্ষাখাত ছিল না। কিন্তু শিক্ষাখাতের দুর্নীতি যে এত ভয়য়াবহ তা অনুসন্ধান না করলে জানা যেত না। তাই গাজীপুরের শিক্ষাখাতের দুর্নীতি নিয়ে গ্রামবাংলানিউজের ধারাবাহিক প্রতিবেদন শুরু হল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর মহানগর ও ৫টি উপজেলায় অবস্থিত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে দূর্নীতির মহাযজ্ঞ চলছে। মানুষ শিক্ষাখাতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ বিবেচনার দৃষ্টিতে দেখার সুবাধে দূর্নীতি হয়ে গেছে লাগামহীন। বিনামূল্যে বই, পরীক্ষার ফি, ভর্তি ফি, সেশস ফি,প্রত্যয়নপত্র ও সনদপত্রে অতিরিক্ত টাকা আদায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কার, মেরামত, নতুন ভবন নির্মান, স্লিপের টাকা, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থের তালিকা তৈরী করে চাহিদাপত্র,ভোটকেন্দ্র মেরামত, সরকারী টিফিন, শিক্ষক নিযোগ, বদলী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তির আয় ব্যবস্থাপনা সহ সকল ক্ষেত্রেই এখন দুর্নীতির সিন্ডিকেট হয়ে গেছে। এই সকল সেক্টরে দুর্নীতি অব্যাহত রাখতে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা যে কখন রাজনীতির সাথে জড়িয়ে গেছে তা তারা নিজেরাও জানেন না। দুর্নীতির ধারাবাহিকতা চলমান রাখতে যখন যে সরকার আসে সে সরকারের নেতাদের সাথে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে গেছে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। কাঁচা টাকার মৌ মৌ গন্ধে এই বিভাগ এখন মৌচাকে পরিণত হয়েছে। যারা ঢিল দিবে তাদের ম্যানেজ করে অক্ষতভাবেই বহমান এই বিভাগের দূর্নীতি। দূর্নীতি চালু রাখতে এই বিভাগের সংশ্লিষ্টরা অতিরাজনীতিতে জড়িয়ে আছে। আগের সরকারের রাজনৈতিক দলে যারা জড়িয়ে ছিলেন তারা এখন অবস্থান পরিবর্তন করে নতুনদের সাথে জড়িয়ে গেছেন। এই সব কিছুই দূর্নীতি চলমান রাখার জন্য। সম্প্রতি বদলী হওয়া গাজীপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিজেকে ছাত্রদলের নেতা দাবী করে পুলিশের কাছে আবেদনই করেছিলেন শিক্ষকদের হয়রানী করার জন্য। তার সাথে য়ুক্ত ছিলেন কয়েকজন সব সময় সরকারী দলে থাকা সাংবাদিক।

সূত্র বলছে, বিগত সরকারের আমলে নেতাদের নাম ভাঙিয়ে যে সকল শিক্ষক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন তারা এখন বিএনপি বা জামায়াতের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি চলমান রেখেছেন। ফলে সব সময় সরকারী দলে থাকা কপিতয় শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গাজীপুর শিক্ষাখাত। সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব দেখিয়ে তারা শিক্ষা বিভাগকে জিম্মি করে দূর্নীতি চলমান রাখতে কাজ করছেন। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, বিগত সরকারের লুটপাটের ভোটে যারা ভোট গ্রহনের দায়িত্বে ছিলেন তারাই এখন ভোট নেয়ার দায়িত্ব পালন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এমনটা হলে বর্তমান নির্দলীয় সরকার ভোট অনুষ্ঠান কতটুকু নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন তা নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। আগামীকাল গাজীপুর শিক্ষা বিভাগে দূর্নীতি-২।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *