গাজীপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের কাজ শেষ হলো। সবশেষ হিসেব অনুয়ায়ী গাজীপুরের পাঁচটি আসনে মোট ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এর মধ্যে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধি না থাকায় দুটি আসনে ধানের শীষ বিজয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই স্পষ্ট।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর-১ (কালিয়াকের) আসনে মোট ৮জন প্রার্থী প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। এরমধ্যে ধানের শীষের মুজিবুর রহমান ও জামায়াতের প্রার্থী শাহ আলম বক্সির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। গাজীপু-২(সদর-টঙ্গী) আসনে প্রার্থী ১২জন। এখানে ধানের শীষের মঞ্জুরুল করিম রনির সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টির আলী নাসের খানের সাথে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। গাজীপুর-৩(শ্রীপুর-সদরের আংশিক) আসনে ৭জন প্রার্থী। ধানের শীষের প্রার্থী ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলনের মূল প্রতিদ্বদ্ধিতা হবে। গাজীপুর-৪(কাপাসিয়া) আসনে প্রার্থী ৮জন। এই আসনে ধানের শীষের রিয়াজুল হান্নানের সাথে জামায়াতের সালাউদ্দিন আইউবীর মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। গাজীপুর-৫(কালিগঞ্জ) আসনে মোট প্রার্থী ৭জন। এখানে ধানের শীষের এ কে এম ফজলুল হক মিলনের সাথে জামায়াতের খাইরুল হাসানের মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হচ্ছে।
সকল আসনের একাধিকসূত্রে প্রকাশ, গাজীপুর-১ আসনে মুজিবুর রহমান ভালো অবস্থানে আছেন। আওয়ামীলীগের সময় একাধিকবার কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার কারণে আওয়ামীলীগের ভোট তার জন্য কোন ফ্যাক্ট হবে না। তবে দলীয় কোন্দল যতবেশী নিরসন হবে বিজয় ততবেশী নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া এই আসনে জামায়াতের প্রার্থীর অবস্থা এখনো তেমন ভালো নেই। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে নতুন সমীকরণ আসতে পারে।
গাজীপুর-২ আসনে ধানের শীষের সাথে তেমন কোন প্রতিদ্বন্ধিতা হচ্ছে না। তবে ১০ দলীয় জোট এনসিপির প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে পারলে প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। এছাড়া এই আসনে আওয়ামীলীগের ভোট কোন প্রতীকে যাবে তা এখনো স্থির হয়নি। সুতরাং আপাতত এই আসনে ধানের শীষের সাথে তেমন প্রতিদ্বন্ধিতার আভাস না থাকলেও সময়ে সাথে সাথে নতুন সমীকরণ হতে পারে।
গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপি থেকে বহি:স্কৃত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজদুর রহমান মিলন আওয়ামীলীগের সময় নির্বাচন করে গাজীপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হন। সেই কারণে আওয়ামীলীগের ভোট তার বাক্সে আসতে পারে। একই সাথে ধানের শীষের প্রার্থী ডা: বাচ্চুর বিরুদ্ধে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিলনের প্রতীকে ভোট দিতে পারে। ফলে এই আসনে লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে আওয়ামীলীগের ভোটার কেন্দ্রে যত কম যাবে ধানের শীষ তত এগিয়ে যাবে।
গাজীপুর-৪ আসনে ধানের শীষের সাথে মূল লড়াই হবে জামায়াতের। ধানের শীষের প্রার্থী যত বেশী আভ্যন্তরীন কোন্দল ভাঙতে পারবে তার পাল্লা তত ভারী হবে। তবে এই আসনেও আওয়ামীলীগের ভোট ফ্যাক্টর হয়ে গেছে। আওয়ামীলীগের ভোটার যত বেশী কেন্দ্রে যাবে জামায়াতের পাল্লা তত ভারী হবে।
গাজীপুর-৫ আসনে ধানের শীষের সাথে দাঁড়িপাল্লার লড়াই হবে। এই আসনে আওয়ামীলীগের ভোট হাতপাখা প্রতীকে পড়ার সম্ভাবনা বেশী। কারণ হাতপাখার সাথে আওয়ামীলীগে একটি সম্পর্ক ছিল। আর এই আসনে জামায়াতের ভোট ব্যাংকের সাথে যুক্ত হবে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতি দলের নাখোশ ভোটারদের। দীর্ঘ সময় ধরে ফজলুল হক মিলনের বিকল্প নেতৃত্ব তৈরী হতে না পারা ও দলীয় গোপন কেন্দলের কারণে বিএনপির মধ্যে একটি চাপা ক্ষোভ রয়েছে। প্রার্থী মিলন যতবেশী ক্ষোভ নিরসন করতে পারবেন তার বিজয় ততবেশী সহজ হবে।

