ভোট কেন্দ্র মেরামত প্রকল্পের টাকা আসার আগেই সরকারী অফিসে টাইলসের প্রদর্শনী

Slider শিক্ষা

গাজীপুর: প্রতিটি ভোটের আগে কেন্দ্র মেরামতের জন্য টাকা দেয় সরকার। সেই টাকার আদৌ খরচ হয় কিনা! সেটা নিয়ে বিতর্ক লেগেই থাকে। এই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্র মেরামতের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর। সরকারী টাকার অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় একজন সহকারী প্রকৌশলীর অফিসের সামনে পাওয়া গেলো টাইলসের সিম্পল। মানে হল, ভোট কেন্দ্র মেরামতের জন্য এই টাইলস ব্যবহার করতে হবে। আর টাইলস বিক্রেতাও বললেন, ওই প্রকৌশলীর কথা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) দুপুরে গাজীপুর সদর ও টঙ্গীর দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর গাজীপুরে গিয়ে জানা গেছে এসব তথ্য।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, সদর ও টঙ্গীর দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ- সহকারী প্রকৈশলী ইমরান হাওলাদারের অফিস খোলা কিন্তু তিনি চেয়ারে নেই। তবে অফিসের দরজার সামনে সিম্পল হিসেবে অনেক টাইলস প্রদর্শন করা। সরকারী অফিসে টাইলসের বিক্রয় ডিসপ্লের বিষয়ে অন্য স্টাফরা জানান, ভোট কেন্দ্র মেরামতে এই টাইলস ব্যবহার করতে হবে তাই প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রদর্শিত টাইলসে লাগানো ভিজিটিং কার্ডে দেয়া নম্বরে সেলস এক্সিকিউটিভ ইমরান শাহকে কাস্টমার সেজে ফোন দিলে তিনি বলেন, আপনার কোন স্কুল! আপনি ঢাকায় আসেন। গাজীপুরে কার সাথে যোগাযোগ করা যাবে বললে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হাওলাদারের ( যার অফিসের দরজার সামনে টাইলসের সিম্পল) কথা বলেন।

গাজীপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হাওলাদার বলেন, আমি বাইরে আছি। এই টাইলসগুলো ভোট কেন্দ্র মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হয়। কেউ পছন্দ করলে নিতে পারেন।

ভোট কেন্দ্র মেরামতের জন্য সরকারের নিকট দেয়া চাহিদা পত্র সম্পর্কে গাজীপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসিফুর রহমান অফিসে নেই জানিয়ে সহকারী প্রকৌশলী রুবেল খলিফার সাথে কথা বলতে বলেন।

গাজীপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো: রুবেল খলিফা বলেন, গাজীপুর সদর উপজেলার (সদরও টঙ্গী) এলাকায় ২২ টি ভোট কেন্দ্র মেরামতের জন্য চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে কিন্তু বাজেট এখনো আসে নাই। উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হাওলাদারের রুমের সামনে টাইলসের সিম্পল সম্পর্কে তিনি বলেন, এগুলো রাখা ঠিক হয়নি। সরিয়ে দেয়া হবে। তিনি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকা গাজীপুরে ৬৪ টি ভোট কেন্দ্র মেরামতের জন্য ৩৪ লাখ টাকার চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে বলেও জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *