গাজীপুরে হামলা-পাল্টা হামলা ও গুলির বর্ষনের অভিযোগ, আহত-৪

Slider গ্রাম বাংলা


ক্যাপশন: (বৃহসপতিবার টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন— ছবি কালের কন্ঠ)

গাজীপুর: পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে একই দিনে দুইবার হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ উঠেছে। আদালত এলাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একদিনে দুই দফায় হামলায় উভয়পক্ষের ৪জন আহত হয়েছে। হামলায় গাড়ি ভাংচূর ও গুলিবর্ষনের কথা উল্লেখ করে থানায় ও মারামারির কথা উল্লেখ করে আদালতে পাল্টাপাল্টি আবেদন করেছে দুই পক্ষ। ঘটনার প্রতিবাদে এক পক্ষে বিএনপির নেতারা মানববন্ধন করেছেন।

বৃহসপতিবার(০৮ জানুয়ারী) বিকেলে ঘোড়াশাল-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের টঙ্গীর টিএন্ডটি বাজার এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

অবিভক্ত টঙ্গী থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও টঙ্গীর ৪৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আইয়ুব আলীর উপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার, বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী, নবীন হোসেন, কাওসার হোসেনসহ ৪৭ ওয়ার্ড এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে আইয়ুব আলী অভিযোগ করেন, গণঅভুথ্যানের পর টিএন্ডটি এলাকায় লুটপাটের রাজ্য গড়ে তুলেছেন আব্বাস আলী ও তার ছেলেরা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে টার্গেট করে চোরচক্র। সম্প্রতি তার বাসায় চোর ঢুকলে স্থানীয়রা চোরচক্রের এক সদস্যকে আটক করে। চোরের স্বীকারোক্তি মতে আব্বাস আলীর গুদাম থেকে চুরির মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন তিনি। বুধবার(৭ জানুয়ারী) দুপুরে এই মামলার কাজে আদলতের বারান্দায় এক দফা হামলা হয় তার উপর। ফেরার পথে ফিল্মি কায়দায় আবার হামলা চালায় আব্বাস আলী ও তার ছেলেরা। একপর্যায়ে তার গাড়ি থামিয়ে তাকে এক রাউন্ড গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করে। পরে গাড়ি চালকের দক্ষতায় কোন রকমে প্রাণে বেঁচে ফেরেন তিনি। এসব বিষয়ে আদালত ও থানাকে লিখিতভাবে জানান তিনি। এঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে সন্ত্রাসী চোর চক্রের মূল হোতা আব্বাস আলী, তার ছেলে রাকিব ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন তিনি।

বিএনপি নেতা আইয়ুব বলেন, আব্বাস আলী ও তার ছেলে আদালতের বারান্দায় তাকে প্রথম মারধর করে। এই ঘটনায় তিনি সদর থানায় জিডি করে লিখিতভাবে আদালতকে অবহিত করেন। এরপর আদালত থেকে টঙ্গী ফেরার পথে ধীরাশ্রম এলাকায় আব্বাস আলী ও তার ছেলে রাকীব আলী দ্বিতীয় দফায় তার গাড়ির উপর হামলা করে গাড়ি ভাংচূর করে এক রাউন্ড গুলি করে। কিন্তু গুলি তার শরীরে লাগেনি। তবে গাড়ির গ্লাস ভাংচূর হওয়ায় তিনি আহত হয়েছেন। এই সংবাদ দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীতে তার বাসায় পৌছে দেয়।

এ বিষয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাপসাতালে চিকিৎসাধীন আব্বাস আলরী(৭৫) স্ত্রী নাসিমা বেগম(৫৪) বলেন, আদালতের বারান্দায় আইয়ুব আলী আমার স্বামী ও আমার ছেলে রাকীব আলী(২৭) সহ আমাকে মেরেছে। এই ঘটনা আমরা লিখিতভাবে আদালতকে জানিয়ে সদর থানায় অভিযোগ দেই। এরপর আমার ছেলে টঙ্গীতে নিজ বাসায় ফেরার পথে ধীরাশ্রমে আইয়ুব আলী লোকজন নিয়ে তাকে মারধর করে। এখন আমরা শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য ভর্তি আছি। কিন্তু আমি বাসা ফাঁকা থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যাই। এখন আমার স্বামী ও ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিএনপি পরিবারের লোক দাবী করে তিনি বলেন, আমার ছেলে রাজীব আলী বিএনপি করে কয়েকটি মামলায় আসামী হয়ে কয়েক মাস আগে স্ট্রোক করে মারা যায়। এই হামলার ঘটনায় আমি ন্যায় বিচার চাই।

টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থল মেট্রো সদর থানায়। ভিকটিমের বাসা টঙ্গী। এ বিষয়ে সদর থানা বিস্তারিত বলতে পারবে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রো সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, গুলির ঘটনার প্রমান পাইনি। একটি ভিডিও পেয়েছি। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *