
‘নির্বাচনের পর ও সরকার গঠনের আগে বিএনপির সঙ্গে আবারও বসার ইচ্ছের কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের স্বার্থে মিলে মিশে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে একথা বলেন তিনি।
আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে আরও ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। এসময় তারেক রহমান ও তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান তিনি।
বৈঠক শেষে জামায়াত আমির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) জাতির জন্য যে অবদান রেখেছেন তিনি তার পাওনাটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে পেয়েছেন। তার এই পাওনা দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হই। আমরাও যদি জাতির জন্য সেরকমটা অবদান রাখতে পারি হয়তোবা এদেশের মানুষ আমাদের এই রকমই একদিন বিদায় দেবে। এটা সবার কপালে জুটে না। এই সম্মানটা পাওয়া, মানুষের চোখের পানি দিয়ে বিদায় সংবর্ধনা পাওয়া এটা বিশাল ব্যাপার।
তিনি বলেন, দেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। সংস্কারের জন্য গণভোট আর সরকার গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচন। ১২ তারিখের এই নির্বাচন নির্বিঘ্ন হোক, সুন্দর হোক এবং গ্রহণযোগ্য। আমরা এটা দোয়া করি।
‘আজকে এই বিষয় নিয়ে আমরা আলাপ আলোচনা করেছি এবং আমরা এটাও বলেছি প্রিয় দেশের স্বার্থে অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও দেশের স্বার্থে ইনশআল্লাহ আমরা একসঙ্গে কাজ করবো।’
জামায়াত আমির বলেন, তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতারা একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। আমরাও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি। এমনকি আমরা এটাও বলেছি যে পাঁচটা বছরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমরা সবাই মিলে মিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি কিনা! সে ব্যাপারে কথা বলেছি। বিএনপি নেতারাও একই কথা বলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগে আমরা আবারও বসতে চাই। খোলা মনে কথা বলবো, জাতির জন্য আমরা চিন্তা করবো, সিদ্ধান্ত নেবো। আপনারা দোআ করবেন। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) ঐক্যের যে পাটাতন তৈরি করে দিয়ে গেছেন সেই জায়গা থেকে আমরা যেন নিজেদের দায়িত্বটা পালন করতে পারি।
এসময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন।
