ওয়াইনস্টিনের হয়রানির শিকার অভিনেত্রীরা

Slider বিনোদন ও মিডিয়া

1ec21e50f1a2b4b336068fc97110bdb6-59e1dd7ba4924

বিনোদনজগতে প্রায়ই গুঞ্জন শোনা যায়, ভালো সিনেমা বা গান পেতে অনেক সময় নারী শিল্পীরা প্রযোজক, পরিচালক বা অর্থলগ্নিকারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য হন। পর্দার পেছনের এই বাস্তবতা কতটা রূঢ় হতে পারে, তা সম্প্রতি বেরিয়ে এল হার্ভি ওয়াইনস্টিন–কাণ্ডে। পুরো হলিউড এখন সরগরম এই প্রভাবশালী প্রযোজকের যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা নিয়ে।

পাল্প ফিকশন, মালেনা, দ্য কিংস স্পিচ, শেক্‌সপিয়র ইন লাভ, মাই উইক উইথ মেরিলিন, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক-এর মতো ছবিগুলোর প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিন। তিনি প্রভাবশালী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দ্য ওয়াইনস্টিন কোম্পানির প্রধান ছিলেন। ছিলেন মিরাম্যাক্স ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতাও। এমন কোনো বড় হলিউড তারকা নেই, যিনি কাজ করেননি হার্ভির সঙ্গে।

৫ অক্টোবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ১০ অক্টোবর দ্য নিউ ইয়র্কার পত্রিকা হার্ভির যৌন কেলেঙ্কারি বিষয়ে দুটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপে। প্রতিবেদন দুটিতে হলিউডের প্রভাবশালী অভিনেত্রী থেকে শুরু করে উঠতি মডেল, এমনকি ওয়াইনস্টিন কোম্পানির নারী কর্মচারীরা পর্যন্ত হার্ভির যৌন নির্যাতন ও হয়রানির রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

ওয়াইনস্টিনের ছবি মাইটি আফ্রোদিতির জন্য অস্কার জেতা অভিনেত্রী মিরা সরোভিন বলেছেন, ১৯৯৫ সালে টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের সময় তাঁকে নিজ হোটেলরুমে ডেকে নেন হার্ভি। মিরার অভিনয়জীবনে সাফল্য এনে দিতে হার্ভি তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। মিরা অস্বস্তি বোধ করেন, বেরিয়ে আসেন রুম থেকে। প্রতিবেদনে অভিনেত্রী এশিয়া আর্জেন্টো বলেন, হার্ভি ওয়াইনস্টিনের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি বলে এখনো অপরাধবোধে ভোগেন তিনি। ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন রোজ ম্যাকগাওয়ানও। যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন জেসিকা বার্থ, রোজানা আরকেতও।

প্রতিবেদন দুটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অভিনেত্রী মুখ খুলছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, গিনেথ প্যাল্ট্রো, অ্যাশলে জুড, কারা ডালাভিনেন, কেট বেকিনসেল, লি সিডু, হিথার গ্রাহাম। তাঁদের সবাইকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন এই প্রযোজক।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছেন, ‘হার্ভির আচরণ আমার অভিনয়জীবনের একটা বাজে অভিজ্ঞতা। সেই আচরণ দেখার পরই আমি ঠিক করেছিলাম তাঁর সঙ্গে আর কাজ করব না। এমনকি যখনই আমাকে কেউ জানিয়েছে, সে হার্ভির সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছে, তখনই আমি তাকে সাবধান করে দিতাম।’

এরই মধ্যে এই ব্যক্তির মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁকে তাঁরই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এফবিআই শুরু করেছে তদন্ত। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য নিউ ইয়র্কার, হাফিংটন পোস্ট, দ্য গার্ডিয়ান, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইট, ইয়াহু মুভিজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *