সম্পাদকীয়: আজ বাঁচা-মরা দিবস!

Slider টপ নিউজ ফুলজান বিবির বাংলা বাংলার মুখোমুখি রাজনীতি সম্পাদকীয়

dsc_0308

 

 

 

 

 

 

আজ ৫ জানুয়ারী।  ২০১৪ সালের আজকের দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়। আজ এই সরকারের তৃতীয় বর্ষ। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন না করে নির্বাচন প্রতিহতের চেষ্টা করে। ফলে রক্তক্ষয় ও স্বহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ ও সম্পদ বিনষ্ট হয়। এতে রক্তাক্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আজকের সরকার গঠিত হয়। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের একটি ছাড়া অন্যটি এক তরফা নির্বাচন করে আজকের দিনে  ক্ষমতায় আসে। এই দিনটিকে সরকারী দল বলছে গনতন্ত্র রক্ষার দিন, রাজপথের বিরোধী দল বলছে গনতন্ত্র হত্যার দিন। আর সাধারণ মানুষের অভিযোগ এই ধরণের দিন গনতন্ত্র ধ্বংসের দিন। মানে হল, আজ গনতন্ত্রের বাঁচা বা মরার দিন।

১৯৯৬ সনের ১৫ ফ্রেব্রুয়ারী। ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আজকের সরকারী দল আওয়ামীলীগ অংশ গ্রহন করেনি। বিএনপি সংবিধান রক্ষা করতে এক তরফা ওই নির্বাচন করে বলে দাবী করেছে। তখনো রক্ত ঝড়েছে। প্রাণ গেছে। ওই সময় আওয়ামীলীগের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেয় বিএনপি। মেনে নেয় আওয়ামীলীগের দাবী। তারপর অনুষ্ঠিত হয় ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অংশ নেয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপিও।

নিকট অতীত বলছে, গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়। ৯০ সনে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নূর হোসেনরা শহীদ হয়। ওই সময় নূর হোসেনকে যারা খুন করে শহীদ বানিয়েছিল আজ তারাই ক্ষমতার অংশীদার। নূর হোসেনের কবরে খুনীরাও যায় ফুল নিয়ে অভিযোগ রাজনীতিবিদদের। ফলে নূর হোসেনের অকাল মৃত্যু খুন না শহীদ, তা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে আমাদের রাজনীতি।

লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ৯০ সনে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলাম ছিল। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটে ১৯৯৬ সনে আওয়ামীলীগ সরকারে জামায়াত নেতা  নুরুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রী হয়ে যান। ২০০১ সালে বিএনপির সরকারে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহীদ মন্ত্রী হন।  ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে গঠিত সরকারের অংশীদার হয় ৯০ সনের স্বৈরাচারী সরকারী দল জাতীয় পার্টি|  আবার একই জাতীয় পার্টি বিরোধী দলও গঠন করে। মানে হল, নূর হোসেনদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গনতন্ত্রের প্রতিপক্ষ জাতীয় পার্টি  শত্রু দল আওয়ামীলীগের সঙ্গে সরকারে যোগ দিয়ে একই সংসদে বিরোধী দলেও যোগ দেয়। বলা যায়, জাতীয় পার্টি এখন সরকারী ও বিরোধী দল।  ফলে তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকাও।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, আওয়ামীলীগ ও বিএনপি উভয় দলই গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে যে আন্দোলন করেছে, রক্তের ঝড় তুলেছে, রাষ্ট্র ও জনগনের সম্পদ নষ্ট করেছে এমনকি স্বাধীনতা ও গনতন্ত্র বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকাও তুলে দিয়ে সম্মানিত করেছে। এই দুই দল মিলে যে দলের বিরুদ্ধে গনতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে নিরীহ মানুষের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে ওই দলকেই একই সংসদে সরকারী ও বিরোধী দল গঠনে ডবল সূযোগ করে দিয়েছে। ১৯৯৬ সনের  ১৫ ফেব্রুয়ারী ও ২০১৪ সনের  ৫ জানুয়ারী দুটি এক তরফা নির্বাচন অনুষ্ঠান ও প্রতিহতের নামে যে মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন তাদের রক্তের বিনিময়ে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়নি। বরং অগনতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী শক্তি উৎসাহিত হয়েছে।

তাই আজকের দিনটিকে গনতন্ত্র হত্যা না  রক্ষা না ধ্বংস দিবস পালন করা উচিত তা জনগনই ঠিক করবে। এই দিনটির নামকরণ আর রাজনীতিবিদদের ঠিক করার নৈতিক অধিকার নেই।

তবে জাতি আশাবাদী, এখনো সময় আছে দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার। যদি রাজনীতিকেরা মনে করেন গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন তবেই সম্ভব। না হয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা আর রক্ষার নামে রাষ্ট্রের মালিক জনগন জীবনের বিনিময়ে ভোটের অধিকার পাওয়ার আশা করতেই থাকবেন, যা হবে মরহুম গনতন্ত্রের নামান্তর মাত্র।

ড. এ কে এম রিপন আনসারী

এডিটর ইনচীফ

গ্রামবাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *