প্রধান শিক্ষক নেই ৪৪৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

Slider জাতীয় সারাদেশ

th-2

পটুয়াখালী;  সকাল ১০টা। শিক্ষক মরিয়ম বেগম এক শ্রেণিকক্ষ থেকে অন্য শ্রেণিকক্ষে ছুটছেন। এরপর আরেক শ্রেণিকক্ষে। প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত দুই শিফটে ছয়টি শ্রেণিকক্ষে এভাবে একাই পাঠদান করছেন তিনি।
গত রোববার সকালে পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে এই চিত্র।

মরিয়ম বেগম জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকের পদ রয়েছে পাঁচটি। তবে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন। তিনি (মরিয়ম বেগম) মাতৃকালীন ছুটিতে থাকায় দীর্ঘদিন মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছিল বিদ্যালয়টি। ছুটি কাটিয়ে গত ২৮ আগস্ট বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন তিনি। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। তাই সহকারী শিক্ষিকা ফাতিমা বেগম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। ফাতিমা বেগম রোববার জেলা সদরে মাসিক সভায় যোগ দেওয়ায় তাঁকে একাই বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ হাজার ১৫০টি। এর মধ্যে আগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬০২টি এবং নতুন জাতীয়করণ করা বিদ্যালয় ৫৪৮টি। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৪৮টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। এ ছাড়া জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ হাজার ৪৮২ জন সহকারী শিক্ষকের পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৪৯৩টি।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, উপজেলার ইটবাড়ীয়া ইউনিয়নের উত্তর পুকুরজনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের চারটি পদ থাকলেও সেখানে মাত্র একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। ইউনিয়নের ধনখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষকের পদে কর্মরত আছেন দুজন।

এদিকে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের উত্তর বাদুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রায় ৪০০ ছাত্রছাত্রীর জন্য শিক্ষকের পদ সাতটি থাকলেও পাঁচজন কর্মরত রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য এবং অপর একজন শিক্ষক প্রেষণে শহরে রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ভেদে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৫ থেকে ২০ জন পর্যন্ত শিক্ষক রয়েছেন। তবে যাঁদের তদবির ভালো, তাঁরা গ্রামে আসেন না। তদবির করে শহরে চলে যাচ্ছেন। অথচ যে বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন, সেই বিদ্যালয়ে শিক্ষকের প্রয়োজনই নেই।

জেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বক্তিয়ার রহমান  বলেন, আসলে প্রধান শিক্ষক না থাকলে সহকারী শিক্ষককেই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকার পরও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। শিক্ষক নিয়োগ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *