ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধার- ১৮ জনের লাশ পাওয়া গেলে

Slider সারাদেশ
14429252_539832519533433_1906171248_n

 

 

বরিশাল; বানারীপাড়া উপজেলার দাসের হাট এলাকার মসজিদ পয়েন্টে সন্ধ্যা নদীতে ডুবি যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমএল ঐশী’ উদ্ধার করেছে ‘নির্ভীক’। এসময় ওই লঞ্চের ভেতর থেকে আরও চার শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছেন। এর আগে বুধবার ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টায় বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। ব্যাপক চেষ্টার পর সকাল পৌনে ৯টায় লঞ্চটি টেনে উপরে তুলতে সক্ষম হয় উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক। এসময় ওই লঞ্চ ভেতর থেকে চার শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফলে এই লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনার কবলে পড়া ওই লঞ্চে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকর্মীরা। বৃহস্পতিবার আরো ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এ সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮ জনে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র পরিদর্শক মো. রিয়াদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমএল ঐশী-২’র কোনো রুট পারমিট ছিল না।

এদিকে সার্বিক দুর্ঘটনা তদন্তে  বুধবারই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেনকে প্রধান করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বানারীপাড়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইউসুফ আলী হাওলাদারের মালিকানাধীন অননুমোদিত লঞ্চটি বুধবার সকাল ১১টার দিকে প্রায় ৩০ জন যাত্রী নিয়ে পাশ্ববর্তী উপজেলা উজিরপুরে হাবিবপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ১১টায় ছোট আকারের এ লঞ্চটি বানারীপাড়া উপজেলার দাসেরহাট বাজার সংলগ্ন রাজারখালের মোহনায় সন্ধ্যা নদী তীরে যাত্রা বিরতি দেয়। এসময় কিছু যাত্রী উঠানামা করেন। এরপর লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে ঘোরানোর সময় নদীর পাড় ভেঙে একটি বিশাল মাটির চাপ (খণ্ড) লঞ্চটির সামনের অংশে পড়ে। এতে লঞ্চটি এক দিকে কাত হয়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই ৪-৫ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাদের একটি দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ডুবে যাওয়া লঞ্চের অবস্থান শনাক্ত করা হয় বুধবার দুপুর ২টার দিকে। এরপর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক অভিযান চালিয়ে সকাল পৌনে ৯টার দিকে ওই লঞ্চটি টেনে তুলতে সক্ষম হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *