কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

Slider গ্রাম বাংলা ফুলজান বিবির বাংলা

31624_a-2

 

ঢাকা; কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। সৈকতের দর্শণীয় স্পট গুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। সমুদ্রের ঢেউয়ের উম্মাদনায় মেতে উঠেছেন পর্যটকরা। সমুদ্রে গোসল,ফুটবল খেলাসহ নানা আনন্দ উল্লাসে রয়েছেন পর্যটকরা।
রাখাইন মার্কেট, কুয়াকাটার কুয়া,শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার,মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ মন্দির, রাখাইন পাড়া, সুন্দরবনের পূর্বাংশ ফাতরারবন,গঙ্গামতির লেক, লাল কাকড়ার চর, লেম্বুর বন, ইলিশ পার্কসহ দর্শণীয় স্থান গুলোতে ভিড় পরে গেছে পর্যটকদের। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত পর্যটকদের আগমনে আবাসিক হোটেলগুলোতে রুম সংকট দেখা দিয়েছে। পযটকরা হোটেলে রুম না পেয়ে বাসাবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। নি¤œমানের আবাসিক হোটেল গুলোতে পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড়কে পুঁজি করে মাত্রাঅতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন পর্যটকরা। পর্যটনমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বেচাকেনার ধুম পড়ে গেছে। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। ঈদুল আযহার দ্বিতীয় দিন বিকাল থেকে বাস মাইক্রোবাস,প্রাইভেট কার যোগে দলে দলে আসছেন পর্যটকরা। কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সুত্রে জানান, প্রথম শ্রেনীর হোটেল গুলোর বেশির ভাগই অগ্রিম বুকিং হয়ে যাওয়ায় রুমের সংকট দেখা দিয়েছে। সমিতির আওতাভূক্ত নয় এমন কতিপয় নি¤œমানের আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। রংপুর থেকে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী রুমান দম্পত্তি জানান, কুয়াকাটা এত সুন্দর জায়গা, এখানে না আসলে অজানাই থেকে যেত আমাদের কাছে। সমুদ্রে গোসলসহ দর্শণীয় স্পট গুলো ঘুরে অনেক আনন্দ পেয়েছি। শরিয়তপুর থেকে ভ্রমনে আসা মুনতাসীর জানান, তারা চার বন্ধু মিলে বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়াকাটায় এসেছেন। কোন আবাসিক হোটেলে রুম না পেয়ে বেঙ্গল গেষ্ট হাউজের পাশে ছিদ্দিক উকিল নামের এক ব্যাক্তির বাসায় দুই হাজার টাকায় একটি রুম নিয়েছেন। অন্যন্য সময় এ রুমের ভাড়া দুই শত টাকার বেশি হবে না।
ঝিনুক ব্যবসায়ী আলমগীর চৌকিদার জানান, বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ হাজার টাকার আচার বিক্রি করেছেন। পর্যটকদের ভীড় সামলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। আবাসিক হোটেল বেঙ্গল গেষ্ট হাউজের ম্যানেজার সাঈদুর রহমান সুমন জানান, তার হোটেল ১৭ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। অনেক পর্যটক আসছে রুমের জন্য তাদেরকে রুম দিতে পারছেন না তারা।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এ্যসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সৈকত হোটেলের স্বত্তাধিকারী জিয়াউর রহমান শেখ বলেন, ঈদের লম্বা ছুটিতে অসংখ্য পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা সৈকত। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই আবাসিক হোটেল গুলো কানায় কানায় ভরে গেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয় জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, নি¤œমানের কতিপয় আবাসিক হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া রাখছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ থাকলেও এসব হোটেল সমিতির আওতাভূক্ত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোন এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মীর ফসিউর রহমান বলেন, ঈদুল আযহার দিন থেকে পর্যটকদের ভীড়ের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছেন তারা। যে কোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে সৈকতে নিরাপত্তা চৌকি সহ দর্শনীয় স্পট গুলোতে পুলিশ টহল রয়েছে। এ ছাড়া মহিপুর থানা পুলিশ,গোয়েন্দা পুলিশ বিশেষ নজর রেখেছে পর্যটকদের উপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *