গাজীপুরে ঈদের প্রস্তুতি জমজমাট

Slider গ্রাম বাংলা ফুলজান বিবির বাংলা

photo-1467556446

মো:আলী আজগর খান পিরু  গাজীপুর অফিস : ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মানুষ বাজারে ছুটছেন নিয়মিত। আর  গরীব ও হতদরিদ্র মানুষ ছুটছেন ধনাঢ়্য ব্যাক্তিদের দ্বারে দ্বারে    যাকাত ও  ফিতরার জন্য। সব মিলিয়ে গাজীপুরে সকল শ্রেনীর মুসলমানই ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিজেদের মত করে।

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে গাজীপুরে জমে উঠেছে ঈদ বাজার গুলো। রাতে দেখা য়ায় বাহারি রংএর আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে মার্কেট ও শপিংমল। ছোট-খাটো বিপণী বিতান আর দোকানপাটগুলোও পিছিয়ে নেই আলোকসজ্জায়। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠেছে ঈদ বাজার গুলো। মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ভিড়,সব শ্রেণীপেশার মানুষের। সাধ আর বাজেটের সঙ্গে মিল রেখে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আপনজনদের জন্য করছেন কেনাকাটা, তবে ক্রেতাদের অভিযোগ গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাকের দাম বেশি।

দোকানিরা জানান, মোকামে পণ্যের দাম বেশী হওয়ায় একটু বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পোশাক তৈরীর কারিগররাও (দর্জি)। দিন-রাত বিরামহীনভাবে কাজ করছেন তারা। সময়ের অভাবে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারছে না।

গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কেনাকাটা করতে বিপণী বিতানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। পরিবারের সকলের জন্য নতুন কাপড় কিনতে বিপণী বিতানগুলিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছুটছেন সব শ্রেণিপেশার মানুষ।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আয়ের সঙ্গে মিল রেখে কেনাকাটার কথা ভাবছে কেউ কেউ। তবে প্রতিটি দোকানে পুরুষের চেয়ে মহিলা ক্রেতার সংখ্যা বেশি। দাম বেশি হওয়ায় অনেক শিশু-কিশোর-কিশোরী ও নারী-পুরুষ তাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক কিনতে না পেরে হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে যাচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে এবার নতুনত্বের ছোঁয়া এসেছে বাজারে। নতুন নতুন ডিজাইনের নানা রঙের পোশাক। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তৈরী পোশাকের বিপনী বিতানে রকমারী পোশাক শোভা পাচ্ছে। এসব পোশাকের পাশাপাশি নিত্যনতুন জুতা-স্যান্ডেলের প্রতি চাহিদা রয়েছে ছেলেমেয়ে উভয়ের। ঈদ উৎসবে অন্যান্য পোশাকের সাথে থাকা চাই পাঞ্জাবি। এবারের ঈদে বাজারে নরমাল, নবাব, প্রিন্ট, বুটিক ও হাতে কাজ করাসহ বাহারী ডিজাইনের নানা বৈচিত্র্যের পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাঞ্জাবির পাশাপাশি তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ফিটিং হাফ শার্ট, ফুল শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট, চায়না গ্যাবাডিন, ফরমাল প্যান্ট, টি-শার্ট, ফরমাল শার্ট ও শেরোয়ানি। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে বেল্ট, নানা রঙের জুতা-সেন্ডেল কিনছেন। সুতি ও সিল্কের পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শিশুদের রেডিমেন্ট জামা কাপড় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে মেয়েদের জন্য নামি-দামি ঈদের পোশাকের ছড়াছড়ি রয়েছে বড় বড় বিপণিগুলোতে। এবারে ভারতীয় পোশাক বাজিরাও মাস্তানি নারী ক্রেতাদের দৃষ্টি কেড়েছে। লং গাউনের মতো ড্রেসটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। তবে এবার গোপালগঞ্জে মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে লেহেঙ্গা। ভারতীয় পোশাকের মধ্যে ডার্লিং তেরে লিয়ে, তোমাকে চাই, কিরণমালা, কটকটি, বাজিরাও মাস্তানি, অ্যারাবিয়ান হিপ, লেহেঙ্গা-আনটিস দিলু ফোর টাচ ফ্রক বা লং ড্রেস রয়েছে।

এ ছাড়াও কামিজসহ বিভিন্ন পোশাক থাকলেও মেয়েদের বাড়তি পছন্দের শীর্ষে রয়েছে লেহেঙ্গা কিরণমালা আর সেই সাথে চাহিদা রয়েছে জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ির।

এদিকে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে নানা রঙের জুতা-সেন্ডেল, জুয়েলারি এবং কসমেটিকস কিনছেন। ঈদে নতুন পোশাক কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাকের দাম একটু বেশী। গত বছর যে থ্রি পিসের দাম ছিল ১১শ থেকে ১৫শ’ টাকা এ বছর তার দাম ১৬শ’ থেকে দুই হাজার টাকা। একই পোশাক একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে।

এবছর ভারতীয় ও চাইনা পোশাকের কদর রয়েছে। অন্যান্য বারের তুলনায় বিক্রিও বেশি হচ্ছে। ডিজাইনের কারণে মোকামে এ বছর পণ্যের দাম একটু বেশী। তাই বেশী দামে কেনায় একটু বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আর সব শ্রেণীমানুষের পোষাক তৈরীরতে ও বিরতিহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন পোশাক তৈরীর দর্জিরা। দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। তাদের লক্ষ্য ঈদ আসার আগে ক্রেতাদের হাতে নতুন কাপড় তুলে দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *