গাজীপুরে মুক্তিযোদ্ধার কবরে হামলার অভিযোগ

Slider গ্রাম বাংলা জাতীয় টপ নিউজ বাংলার সুখবর বিচিত্র

DSCF0523
আলী আজগর খান পিরু: গাজীপুর মহানগর সিটিকর্পোরশন সালনা কাথোরা বাশবাড়ি এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান এর কবর নিশ্চিহ্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৮ জানুয়ারি দুস্কৃতিকারীরা কবর খনন করে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নানের ছেলে শরিফুল ইসলাম।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে এবং জয়দেবপুর থানায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামা আরো চার, পাঁচ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহানগরের সালনা কাথোরা বাশাবাড়ি এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান গত ২৯ মার্চ ২০১৩ ইং সালে হৃদযন্ত্রেরক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরন করেন। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যদায় স্থানীয় কবরস্থানে ধর্মীয় ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সামাজিক কবর স্থান হওয়া ওই স্থানে আরো অনেকের কবর রয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি ২৯১৬ ইং দুস্কৃতিকারীরা ওই কবরস্থানে স্থানীয় এক ব্যাক্তিকে দাফন দেয়ার নামকরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নানের কবর খনন করে তাঁর কবরের বাশ, হাড় তুলে ছুড়ে ফেলতে থাকে। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে শরিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাধা প্রদান করে। কবর খনন কারীরা শরিফকে জানায় তারা মুক্তিযোদ্ধার কবর খনন করছে না। অপর একটি মৃত দেহের লাশ দাফনের উদ্দেশ্যে মাটি খনন অব্যাহত রাখে।

তাৎক্ষনিক ভাবে শরিফ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানালে, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার থানা পুলিশে সংবাদ দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কবর খনননে বাঁধা নিষেধ করলে খনন কাজ বন্ধ হয়। পরে শরিফকে প্রাণ নাশের হুমকী দেয়। এই বলিয়া হুমকী দেয় যে, তোর পিতার মরদেহ নিশ্চিহ্ন করিয়াছি, এই নিয়ে বাড়াবাড়ি কিংবা মামলা মোকদ্দমা করিলে তোর পরিবারকে এলাকা থেকে নিশ্চিহ্ন করিয়া দিবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধার কবরটি খনন করে কবরের বাশ, হাড়গোড় ছাড়ানো ছিটানো অবস্থায় পড়ে আছে।
এব্যাপারে মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ জহিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাস করলে বলেন, বিষয়টি ভুলে করা হয়ে ছিলো এটা বোঝার পর খনন কাজ বন্ধ রাখা হয়।

কবরস্থানের সভাপতি আলহাজ্ব মো: মকবুল হোসেন বলেন, অভিযুক্ত সমশের আলীসহ আরো কয়েকজন স্থানীয়লোক পুরাতন কবর থাকায় না বুঝে উক্তস্থানে কবর খনন করতে বলে। পরে শরিফ এসে বাধাদিলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং খনন কাজ বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় আব্দুল কাদির জানান, কবর খনন করার সময় তিনি কবরের চিহ্নিদেখে খনন কারীদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন এটা কিছু না। পরে তিনি সেখান থেকে চলে আসার পর শুনতেপান কবর থেকে হাড়গোড় পাওয়া গেছে। আবার সেখানে গিয়ে দেখতে পান খনন কাজ প্রায় শেষ। কোদাল দিয়ে চেছে সমান করা হচ্ছে, এসময় নিহত মুক্তিযোদ্ধার দাড়ি কোদালে উঠে আসে। কোদালে উঠে আসা দাড়ি অন্যত্র ঢিল মেরে ফেলে দেয় খনন কারীরা।

এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খননকারীদের কাউকে এলাকায় পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) শামিম বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে কাজটি ভুল বশত করে ফেলেছে। এব্যাপারে এখনো মামলা নেয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধিন রয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অপরদিকে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স¤œান হিসাবে শরিফুল ইসলাম তার পিতার মৃত দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিলুপ্ত করীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করেন। পাশাপাশি তার পিতার কবরটি শুরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোড় দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *