মুখোমুখি তুরস্ক-রাশিয়া, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আলামত

Slider ফুলজান বিবির বাংলা সারাবিশ্ব

103102_GRAPHIC-Syria-crisis-explainer-map

তুরস্কের হাতে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করায় মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের দামামা বাজছে। এ যুদ্ধ হতে পারে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে। তবে তাতে তুরস্কের সঙ্গে যোগ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র সহ ন্যাটোভুক্ত আরও কিছু দেশ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনও ক্ষেপেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করায় তার ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’ করা হয়েছে। তবে কি তিনি এর বদলা নেবেন? পারমাণবিক শক্তিধর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কথায় তারই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। যদি তিনি বদলা নেন তাহলে সেটা হতে পারে পারমাণবিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধই রূপ নিতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে। মস্কোর প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক পাভেল ফেলজেঙ্গুর এমন এক সংঘাতের মুখে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া আর কোন সুযোগ নেই বলেই মনে করেন। তিনি রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক বিশ্লেষক। তার মতে, রাশিয়া-তুরস্ক সংঘাত যদি যুদ্ধের পর্যায়ে যায়, তাতে জড়িয়ে পড়বে ন্যাটো। এতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি আলামত পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে রাশিয়া যখন সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় তখন পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আভাষ দিয়েছিলেন মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কারণ, সিরিয়ার আকাশে যেভাবে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান, মার্কিন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য দেশের যুুদ্ধবিমানের উড়াউড়ি তাতে যেকোন সময় তাদের মধ্যে টক্কর লেগে যাওয়া খুবই সম্ভব। এমনটা হলেই ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে লাগতে পারে বিশ্বযুদ্ধ। এমন যুদ্ধ হলে একদিকের জোটে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, কাতার, বেলজিয়াম, কানাডা, জর্ডান, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও তুরস্ক। অন্যদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষ নিয়ে একজোট হতে পারে রাশিয়া, সিরিয়া, ইরান, চীন, লেবানন ও ইরাক। তৃতীয় একটি শক্তি হিসেবে থাকতে পারে ইসলামিক স্টেট বা আইএস। রাশিয়ান বিশ্লেষক পাভেল বলেছেন, মঙ্গলবার তুরস্ক রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এর ফলে হয়তো মস্কোকে ওই জোন মেনে নিতে হবে না হয় তুরস্কের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। তবে সে যুদ্ধে জয় আসবে যদি তা হয় পারমাণবিক যুদ্ধ। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে যুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। যদি আমাদের  বোমারুদের নিরাপত্তা দিতে হয় তাহলে তুরস্কের যুদ্ধবিমানে হামলা চালাতে হবে। এতে লড়াই আরও জোরালো হবে। রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে নৌপথেও যুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে তুরস্ক হয়তো বোসফোরাস প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। এই প্রণালী বা খাল দিয়েই রাশিয়ার ব্লাক সি ফ্লিটগুলো যায় ভূমধ্যসাগরে। এ ছাড়া তাদের ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার আর কোন পথ নেই। এক্ষেত্রে তুরস্কের সঙ্গে যোগ দিতে পারে ন্যাটোর অন্য দেশগুলো। যদি তা-ই হয় তাহলে রাশিয়ার সামনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই বললেই চলে। এভাবে যুদ্ধ শুরু হলে তা হবে দীর্ঘস্থায়ী। এরই মধ্যে ভøাদিমির পুতিন ‘করুণ পরিণতি’র হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের পাইলট বা আমাদের যুদ্ধবিমান তুরস্কের সীমানায় প্রবেশ করেনি। যার জন্য তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে। এটা সন্ত্রাসী হামলা। একে অন্য কোনভাবে বর্ণনা করা যায় না। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে সিরিয়ার ৪ কিলোমিটার ভিতরে। মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট নিয়ে যখন ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে তখন রাশিয়া ও তুরস্কের ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কের প্রতি এরই মধ্যে সমর্থন দিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব ইয়ান্স স্টল্টেনবার্র্গ। রাশিয়ার বিমান তুরস্কের অভ্যন্তরে ভূপাতিত হয়েছে বলে তার দাবি। ওদিকে দু’পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।
ওদিকে বিবিসি জানায়, সিরিয়া-তুরস্কে সীমান্তে ভূপাতিত জেট বিমানের ক্রুদের উদ্ধার করতে গিয়ে রাশিয়ার একজন মেরিন সেনা নিহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে যাওয়া দুইটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা গুলি করলে এই ঘটনা ঘটে। জরুরি অবতরণের পর একটি হেলিকপ্টারে মর্টার হামলায় আগুন লেগে যায় বলেও রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভূপাতিত জেট বিমানটির দুই পাইলটকেও গুলি করে হত্যার দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। তবে বাকি ক্রুদের ভাগ্যে কি ঘটেছে, তা জানা যায়নি। এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব ইয়ান্স স্টল্টেনবার্গ বলেছেন, তুরস্ক সিরিয়া সীমান্তে একটি রুশ বিমানকে ভূপাতিত করার পর ন্যাটো জোট তুরস্কের সাথেই আছে। তুরস্কের ডাকে ন্যাটো জোটের একটি জরুরি বৈঠক শেষে স্টল্টেনবার্গ বলেন, ন্যাটোর মূল্যায়নে রুশ যুদ্ধবিমান তুর্কী আকাশসীমায় আসলেই প্রবেশ করেছিল। তুর্কী প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, তার দেশের সীমান্ত রক্ষার অধিকার সবাইকে সম্মান করতে হবে। তাকেকে টেলিফোন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তুরস্কের সার্বভৌমত্বের অধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র পাশেই থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *