দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেফতার, ১৪৪ ধারা জারি

Slider ফুলজান বিবির বাংলা


ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশের এলাকায় জারি করা হয়েছে ১১৪ ধারা।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার বাড়িতে পৌঁছায় ইডি। দুই ঘণ্টা তল্লাশি শেষে বাজেয়াপ্ত করা হয় তার মোবাইলফোন। মদ নীতি কেলেঙ্কারির মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৯ বার তলব করার পরেও হাজিরা না দেয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি।

শুক্রবার পিএমএলএ আদালতে হাজির করানো হবে আম আদমি পার্টির প্রধানকে।

দিল্লির মন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেত্রী অতিশি জানিয়েছেন, গ্রেফতার হলেও কেজরিওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন। তিনি জেলে বসেই সরকার চালাবেন।

অতিশি বলেন, কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারের বিষয়টি মোদি ও বিজেপির একটি ষড়যন্ত্র। দুই বছর আগে মদ নীতি কেলেঙ্কারির মামলার তদন্ত শুরু হয়। আম আদমি পার্টির এক হাজার নেতাদের বিরুদ্ধে ইডি ও সিবিআই এক হাজারের বেশি অভিযান চালিয়েও একটি অর্থও পায়নি।

তিনি আরো বলেন, লোকসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার একটি ষড়যন্ত্র। কেজরিওয়াল শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নয়, তিনি চিন্তাধারা। যদি মনে করেন একজন কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করে এই চিন্তাধারা বন্ধ করে দিতে পারবেন, তাহলে আপনি ভুল। কেজরিওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং থাকবেন। আমরা প্রথম থেকে বলছি প্রয়োজনে জেল থেকে তিনি সরকার পরিচালনা করবেন। কোনো আইন তাকে আটকাতে পারবে না।

স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গ্রেফতার হলেন কেজরিওয়াল। এর আগে ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকেও গ্রেফতার করে ইডি। তবে গ্রেফতারির আগে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির পরেই তার বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন আম আদমি কর্মী-সমর্থকেরা। গোটা রাজধানী জুড়েই প্রতিবাদ শুরু করেন তারা।

সূত্র জানায়, ১২ জনের ইডির একটি দল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে আসেন। তারা তল্লাশির জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়েই কেজরিওয়ালের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কেজরিওয়াল। জরুরি ভিত্তিতে মামলা শোনার জন্য আবেদন করেন। তবে সেই শুনানি হয়নি বৃহস্পতিবার। শুক্রবার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরআগে, বৃহস্পতিবার বিচারপতি সুরেশকুমার কাইথ এব‌ং বিচারপতি মনোজ জৈনের ডিভিশন বেঞ্চে কেজরিওয়ালের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। শুনানি শেষে ডিভিশন বেঞ্চ বলেন,‘আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। তবে আমরা এই পর্যায়ে মামলাকারীকে কোনো সুরক্ষা দেয়ার কথা দিচ্ছি না।’ এরপরই তৎপর হয় ইডি।

দিল্লির মদ নীতি কেলেঙ্কারির মামলায় আম আদমি পার্র্টির প্রধানকে মোট ৯ বার সমন পাঠায় ইডি। কিন্তু আট বারই হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। শেষ বার পাঠানো সমনে বৃহস্পতিবার ইডি দফতরে হাজিরা দেয়ার কথা ছিল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু হাজিরা না দিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কেজরিওয়াল। হাই কোর্ট তা খারিজ করলে সুপ্রিম কোর্টে যান তিনি। আদালতে পেশ করা আবেদনে কেজরিওয়াল বলেন,‘ইডি নিশ্চয়তা দিক, তাদের তলবে সাড়া দিলে আমার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে না।’

আম আদমির অভিযোগ ছিল, ইডির লক্ষ্য জিজ্ঞাসাবাদ নয়। এত দিন ধরেও তারা এই মামলায় কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে কোনো তথ্যপ্রমাণ পায়নি। তাই লোকসভা ভোটের আগে সমন পাঠিয়ে তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।

এ মামলায় বিআরএস নেত্রী কবিতাকে কয়েক দিন আগেই গ্রেফতার করে ইডি। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ইডি হেফাজতে রয়েছেন তিনি। কবিতা ছাড়াও এই মামলায় এখন পর্যন্ত আম আদমি পার্টির দুই প্রবীণ নেতা সিসৌদিয়া এবং আপের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংহ গ্রেফতার হয়েছেন। রয়েছেন তিহাড় জেলে। অভিযোগ ওঠে, দিল্লি সরকারের ২০২১-২২ সালের আবগারি নীতি বেশ কিছু মদ ব্যবসায়ীকে সুবিধা করে দিচ্ছিল। এই নীতি প্রণয়নের জন্য যারা ঘুষ দিয়েছিলেন, তাদের সুবিধা করে দেয়া হচ্ছিল। আপ সরকার সেই অভিযোগ মানেনি। সেই নীতি যদিও পরে খারিজ করা হয়।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা ও অন্যান্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *