সকালে ভুয়া পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা, বিকেলে জামিন

Slider বাংলার আদালত


শ্রীপুর, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে, পুলিশ পরিচয়দানকারী তিন ব্যক্তিকে আটক করে শ্রীপুর থানা পুলিশ, মঙ্গলবার ১৭ই অক্টোবর অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে জেল হাজতে প্রেরণ করে, শ্রীপুর থানা পুলিশ। আশ্চর্যের বিষয় হল, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর মডেল থানায় একাধিক অভিযোগ থাকার পরও সকালে মামলা করে চালান দেওয়ার পর ঐদিন বিকালে কিভাবে জেল হাজত থেকে জামিন পেয়ে নিজ এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য গত সোমবার ১৬ই অক্টোবর কারখানার পাশের দোকানের সামনে চলা লুডু খেলার ভিডিও ধারণ করেন তিন যুবক। পরে নিজেদেরকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে লুডু খেলতে থাকা লোকজনের কাছ থেকে টাকা দাবি করে। এসময় তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে জাতীয় জরুরি পরিসেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশে খবর দিলে ওই তিন যুবককে আটক করে থানা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকালের দিকে শ্রীপুর থানা পুলিশ বাংলাদেশ সমাচারকে এমন তথ্য জানিয়েছেন। এরআগে,সোমবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুর গ্রামের হা-মিম নামক পোশাক কারখানার পাশ থেকে তাদের গণধোলাই দেয়।

আটককৃতরা হলেন- শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের তেলিহাটি গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে গ্রাম পুলিশ মিলন মিয়া, একই ইউনিয়নের মূলাইদ গ্রামের সাইজ দ্দিনের ছেলে সোহেল রানা ও জুয়েল রানা।

অভিযুক্ত সোহেল রানা ও জুয়েল রানার মোলাইদ গ্রামে গিয়ে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিন অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মধ্যে মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজি করে আসছে। অভিযুক্ত জুয়েল, সোহেল ও মিলন পুলিশ পরিচয় দিয়ে, রিপন মিয়ার মুদির দোকানে ঢুকে দোকান তল্লাশি নামে অভিযুক্ত মিলনের পকেট থেকে গাঁজার তুবলা দোকানে রেখে দোকানি কে ফাঁসাতে চেয়েছিল, পরে এলাকার মানুষ বিষয়টি দেখে ফেলায় তাদেরকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। অভিযুক্তদের নিজ এলাকা মোলাইদ গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবারকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এবং ভুয়া পুলিশ এনে তাদেরকে হয়রানি করে আসছে এই চক্রটি।

গত কয়েক মাসে এই তিনজনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর মডেল থানায় ৪-৫টি অভিযোগ করেও এই চক্রটির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না এলাকার মানুষ। আশ্চর্যের বিষয় হল সকালে ভুয়া পুলিশ পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে শ্রীপুরে মামলা হয় মামলার প্রেক্ষিতে ১৭ তারিখ তাদেরকে শ্রীপুর থানা পুলিশ আদালতে প্রেরণ করার ৫-৬ ঘন্টা পরেই জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ এলাকায় এসে আবারো এলাকার মানুষদেরকে হুমকি ধামকি দিয়ে হয় জানি করছে।

বুধবার সকালে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও জুয়েল রানা এলাকায় গিয়ে জানা যায়, আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ এলাকার রিপনের চায়ের দোকানের সামনে এসে দোকানদার রিপনকে হুমকি দিয়ে যায় জুয়েল ও সোহেল। এই ঘটনা নিয়ে এলাকার মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জনায় স্থানীয় প্রতাপশালী নেতাদের সাথে ঘোরাফেরা করার কারণে সোহেল ও জুয়েলের বিরুদ্ধে এলাকার কোন লোক প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। তারা যত ধরনের বিপদে পড়ুক এলাকার রাজনীতিবিদরা তাদেরকে জামিনে মুক্ত করে আনেন। এলাকাবাসি আরো জানায় সোহেল ও জুয়েলের হাত থেকে তাদের কে রক্ষা করার মত একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই এই জালিমদের অত্যাচারের হাত থেকে এলাকাবাসী মুক্তি চায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিলন মিয়া গ্রাম পুলিশ। বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার প্রতিবেদককে জানান, আমি তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের একজন গ্রাম পুলিশ। সোমবার ১৬ অক্টোবর রাত আটটার দিকে অভিযুক্ত সোহেল ও জুয়েল আমাকে ফোন করে তাদের সাথে দেখা করতে বলে। আমি তাদের সাথে দেখা করলে লুডু খেলার মাধ্যমে জুয়া খেলা হচ্ছে এই বিষয়টি আমাকে জানালে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে লুডু খেলার ভিডিও ধারণ করি সে সময় কিছু লোক আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়, তারপর তারা আমাদেরকে বেধড়ক পিটনি দিয়ে, শ্রীপুর থানা পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়। আমার সাথে থাকা সোহেল ও জুয়েল পুলিশের সোর্স তারা বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে আগেও তারা অভিযুক্ত ছিল। আমি মনে করেছিলাম তারা হয়তো বা অপরাধ জগতের চক্রের সাথে জড়িত নয়, আমার সাথে থাকাকালী ওই এলাকার মধ্যে তারা পুলিশ পরিচয় দিয়েছিল কিনা সেটা আমার জানা নেই তবে এই অপরাধের সাথে আমি জড়িত নই সোহেল এবং জুয়েলের সাথে আমি আর কোনদিন চলাফেরা করব না।

দ্রুত সময়ের মধ্যে জামিন হওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন শ্রীপুর থানার পুলিশ আমাকে গ্রাম পুলিশ হিসেবে চিনে সেই সুবাদে মামলাটি একটু হালকা করে দেওয়ার কারণে একদিনের মধ্যেই জামিন পেয়েছি এ বিষয়ে আমার কোন টাকা পয়সা লাগেনি, সোহেল ও জুয়েলের মাধ্যমে তাদের সাথেই আমি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছি। সোহেল ও জুয়েলের কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে রটনা রটেছে, আমি সোহেল ও জুয়েলের বিচার চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *