৪ দিনে সড়কে ঝরল অর্ধশতাধিক প্রাণ

Slider সারাদেশ


ঈদের ছুটিতে রাস্তা ফাঁকা থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনা থেমে নেই। চার দিনের এ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৫০ জনের বেশি। এর মধ্যে নেত্রকোনায় সবচেয়ে বেশি আটজন মারা গেছে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকায় দুজনসহ সাতক্ষীরায় পাঁচজন; যশোর, কুমিল্লা ও জামালপুরে চারজন করে এবং ফরিদপুর, বগুড়া, বরিশাল, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে মারা গেছে তিনজন করে। আর মেহেরপুর, পিরোজপুর, খুলনা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম এবং মাদারীপুরে ঘটেছে অন্য দুর্ঘটনাগুলো। গত শুক্রবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। রাজধানীর পৃথক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আরজু নামের এক যুবক এবং রামপুরা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মেহেদী হাসান নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ সড়কের নেত্রকোনা সদর উপজেলাধীন কান্দুলিয়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের রমনী সরকারের ছেলে রমেশ সরকার (৪০) ও বারহাট্টা উপজেলার মনাস গ্রামের তুলসী দাসের ছেলে হারাধন দাস (৩৮)। এদিকে রবিবার রাতে নেত্রকোনা-মদন সড়কের নেত্রকোনা সদর উপজেলাধীন মৌজেবালী এলাকায় মোটরসাইকেলচাপায় রাজতু বেগম নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। আর শনিবার কলমাকান্দার বউবাজার এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে তিনজন এবং শুক্রবার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজার এলাকায় বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত হয়েছে আরো দুজন।

সাতক্ষীরার বাইপাস সড়কে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটায় ইমন (১৭) ও আরাফাত (১০) নামের দুই সহোদর নিহত হয়। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন কলারোয়া উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের আজিজুর রহমান সরদারের ছেলে আব্দুল বারি (৫৫), আব্দুল বারির ছেলে রেজোয়ান (২৫) ও সদরের খানপুর গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে মাহমুদুর রহমান (৩৬) হন।

যশোরের বাঘারপাড়া, সদর, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলায় ঈদ ও ঈদের পরদিন পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ঈদের দিন তিনজন ও একজন ঈদের পরদিন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন গৃহবধূ। তাঁরা হলেন আল আমিন (২০), ঐশী (১৮), ইমরান হোসেন (১৬) ও ইকবাল হোসেন (৪২)। তাঁদের মধ্যে ইকবাল হোসেন ঈদের পরদিন নিহত হন।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়েসহ তিনজন এবং দেবীদ্বারে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বজলুর রহমানের স্ত্রী আছমা আক্তার মুন্নী (৫০), ঘোলপাশা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের বাবা শাকিল (২৬) ও তাঁর মেয়ে এবং দেবীদ্বারের দুর্ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সায়েদাবাদ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সাইয়েম (১৮)।

জামালপুরে ইসলামপুর উপজেলায় একজন কলেজছাত্র, মাদারগঞ্জে একজন বৃদ্ধা এবং সদর উপজেলায় একজন কলেজছাত্র ও একজন হোটেল শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনটি দুর্ঘটনাই মোটরসাইকেলে ঘটেছে। সদর উপজেলার নারিকেলী এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী কলেজছাত্র মেহেদী হাসান অনিক (২০) নিহত এবং একই দিন রাত পৌনে ১টার দিকে মোটরসাইকেলের আঘাতে তারেক (২৫) নামের এক হোটেল শ্রমিক নিহত হন।

ইসলামপুর উপজেলায় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রফিকুল ইসলাম (২০) এবং মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আঙ্গুরী বেগম (৮০) নামের একজন বৃদ্ধা নিহত হন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ভাঙ্গা পৌরসভার প্রাণিসম্পদ ইনস্টিটিউটের সামনে বাসচাপায় মোটরসাইকেলচালক জুবায়ের হাসান (২০), চান্দ্রা ইউনিয়নের সলিলদিয়ায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জসিম মাতুব্বর (৩৩) এবং চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলায় পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে পিকআপচালক মমিনুর (২৯) নিহত হন।

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ঈদের দিন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে মোটরসাইকেলচালক আল-ইমরান (৩০), আবিদার (২৪) এবং বুলবুল হোসেন (৩০) নিহত হন।

বরিশাল নগরে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই ফায়েজ (৩৩) এবং হবিগঞ্জের দুদক কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক (৩৫) নিহত হন। তাঁরা দুজন মামাতো-ফুফাতো ভাই। কিশোরগঞ্জে ঈদের দিন মিঠামইনের ঢাকী সেতু এলাকায় মারা যান মধ্য অষ্টগ্রামের হারুন ভূঁইয়া (৪০) এবং এর এক দিন আগে ভাতশালার কাছে মারা যান মিঠামইন সদরের বড়হাটির নাক্কু দাস (৪৫)। নীলফামারীর ডিমলায় উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে রাফিক ইসলাম (২২) ও মো. বুলু হোসেনের ছেলে রিপন ইসলাম (২৩) এবং জলঢাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সন্দীপন ঘোষ তমাল (৩২) নিহত হন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে হাফেজ ওমর ফারুক (২০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দারিয়াপুর চৌহদ্দিটোলার সাইফুল ইসলাম মানিকের ছেলে হাফেজ জাহিদ হাসান (১৬) ও জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পারধুমি ট্যাপাপাড়া (গোলাপের হাট) গ্রামের আব্দুর রকিবের মেয়ে আফিয়া (৪) নিহত হয়।

এ ছাড়া মেহেরপুরের গাংনীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাদিয়া খাতুন (১১) নামের এক শিশু, পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ঈদের দিন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জাকারিয়া হোসেন (১৪) নামের এক কিশোর, খুলনায় গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় মানছিক এলাহী নামের (১৮) এক বাইসাইকেল আরোহী, রাজবাড়ী?তে পৃথক মোটরসাইকেল সংঘর্ষে রাহুল ইসলাম (২১), ঝিনাইদহ-কালীগঞ্জ সড়ক দুর্ঘটনায় ইমন (১৭) ও আজিম (১৬) নামের দুই মোটরসাইকেল আরোহী, মাদারীপুরের রাজৈর ও শিবচরে পৃথক দুর্ঘটনায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সাকিব হাওলাদার (১৯) ও খেলা করার সময় ইজি বাইকের ধাক্কায় নুজহাত সাড়া (৬) নামে এক শিশু এবং চট্টগ্রামের রাউজানে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোহাম্মদ মুশফিক উদ্দিন (১৫) নামের এক মাদরাসাছাত্র নিহত হয়। (প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি এবং জেলা অফিস)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *