নবনির্মিত ৪০টি ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Slider জাতীয়

দেশের বিভিন্ন জেলায় নবনির্মিত ৪০টি ফায়ার স্টেশনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সকাল ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো, সাজ্জাদ হোসাইন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-এর প্রায় ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারে আসে। আমি যখন ক্ষমতায় আসি তখন মাত্র ১০৯টি ফায়ার স্টেশন আমাদের দেশে ছিল। ইতোমধ্যে আমাদের জনসংখ্যা বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আগুন লাগলে অথবা কোনো দুর্যোগ দেখা দিলে উদ্ধার কাজের তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিলই না। ৯৬ সালেই উদ্যোগ নিয়েছিলাম আরও ১০০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করার। এর বেশি আর বাড়েনি।
আমরা যতটুকু করে যাই ২০০৯ সালে এসেও দেখি একই অবস্থা। মাত্র ২০৪টি ফায়ার স্টেশন, এর বেশি আর হয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, বসুন্ধরা শপিং মলে যখন আগুন লাগলো, তখন সেই আগুন নির্বাপনের তেমন ব্যবস্থা ছিল না। এই শপিং মলটি পান্থপথে যেখানে হয়েছে সেখানে ছিল খাল। নদীর সঙ্গে সংযুক্ত, ওখানে নৌকাও আসতো। এলাকাটা ছিল বিশাল বিল এলাকা। সেই বিল এলাকা ভরাট এবং খালে বক্স কালভার্ট করার ফলে বসুন্ধরায় যখন আগুন লাগলো; যে বিল্ডিং গড়ে উঠেছে বিলের ভেতরে। সেই বিল্ডিংয়ে আগুন নেভানোর জন্য পানি দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। পানি আনতে হয়েছিল সোনারগাঁওয়ের সুইমিং পুল থেকে। সে সময় মাত্র ৪ তলা পর্যন্ত পানি দেয়ার ব্যবস্থা ছিল, সে পর্যন্ত ল্যাডার ছিল। এরপর আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নেই যেন এই প্রতিষ্ঠান আরও সুন্দরভাবে গড়ে ওঠে, আধুনিক হয়। আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অবশ্যই হতে হবে। পাশাপাশি আমাদের দেশের মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে সর্বমোট ৪৫৬টি ফায়ার স্টেশন চালু রয়েছে। নতুন ৪০টি ফায়ার স্টেশন যোগ হওয়া এই সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৯৬টি। ইতোমধ্যে ৪০টি ফায়ার স্টেশনে জনবল নিয়োগ ও অগ্নি নির্বাপণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ প্রদান করা হয়েছে। ৪০টি ফায়ার স্টেশন চালুর মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর নতুন করে আরও সক্ষমতা অর্জন করলো। এতে অগ্নি দুর্ঘটনা রোধ, জনজীবন ও জনগণের সম্পদ রক্ষা বহুলাংশে কমে আসবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, নবনির্মিত ৪০টি ফায়ার স্টেশন হলো- টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ফায়ার স্টেশন, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, দৌলতপুর ও সাটুরিয়া ফায়ার স্টেশন, গাজীপুরের কাপাসিয়া, মুন্সীগঞ্জ সদর (পুনর্র্নিমাণ) ও সিরাজদিখান, মাগুরা সদর (পুনর্র্নিমাণ), কিশোরগঞ্জের নিকলী স্থল কাম-নদী, ঢাকার কল্যাণপুর, জামালপুর সদর ও সরিষাবাড়ী (পুনর্র্নিমাণ), যশোর সদর ও ঝিকরগাছা (পুনর্র্নিমাণ), যশোর সেনানিবাস, যশোরের চৌগাছা ও কেশবপুর, বাগেরহাটের মোল্লাহাট, ফরিদপুর সদর (পুনর্র্নিমাণ), চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, খাগড়াছড়ির পানছড়ি, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, কিশোরগঞ্জের ইটনা, অষ্টগ্রাম, হোসেনপুর, মিঠামইন ও পাকুন্দিয়া, মেহেরপুরের মুজিবনগর, রাজবাড়ীর কালুখালী, সাতক্ষীরার দেবহাটা, নোয়াখালীর কবিরহাট, বিবাড়ীয়ার বিজয়নগর, বান্দরবানের থানচি ও রামু, খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, নেত্রকোনার পূর্বধলা, ময়মনসিংহের গৌরীপুর এবং মাদারীপুরের কালকিনি ফায়ার স্টেশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *