জামায়াতের সাবেক এমপি খালেক মণ্ডলসহ দুইজনের রায় আজ

Slider বাংলার আদালত


মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক মণ্ডলসহ দুজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ। মামলার অপর আসামি হলেন খান রোকনুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম।

এর আগে গত সোমবার (২২ মার্চ) রায়ের জন্য আজকের এ দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ের বিষয়টি প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১১ নভেম্বর এই মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) করে আদেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রায়ের দিন ঠিক করা হয়।

ওইদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন, সঙ্গে ছিলেন আরেক প্রসিকিউটর মো. মুখলেসুর রহমান বাদল। আসামিপক্ষের শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার ও গাজী এইচএম তামিম।

২০১৫ সালের এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১৮ সালের ৫ মার্চ। মামলার চার আসামির মধ্যে আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং জহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কা খান নামের দুই আসামি বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান। বাকি দুই আসামির মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাতক্ষীরা সদর আসনের সাবেক এমপি আব্দুল খালেক মণ্ডলকে তদন্তের সময় গ্রেফতার করা হয়। আর খান রোকনুজ্জামান এখনো পলাতক।

চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। আর আসামি পক্ষ অভিযোগ থেকে আসামিদের খালাস চেয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজাকার বাহিনী গঠন করে এর নেতৃত্ব দেন খালেক মণ্ডল। এরপর অন্য আসামিদের নিয়ে তৎকালীন সাতক্ষীরা সদর মহকুমা এলাকায় এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন।

২০১৫ সালের ১৬ জুন ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খলিলনগর মহিলা মাদরাসায় বৈঠকের সময় খালেক মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই বছরের ২৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলার মধ্যে শহীদ মোস্তফা গাজী হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

শিমুলবাড়িয়া গ্রামের রুস্তম আলীসহ পাঁচজনকে হত্যার অভিযোগে ২০০৯ সালের ২ জুলাই খালেক মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন শহীদ রুস্তম আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম গাজী।

এ মামলার চার আসামির বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষ হয় ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ মোট ৬০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ (আইও) ১৭ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি পেশ করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ আনা হলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে ছয়টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *