হলুদে ছেয়ে বিল ডাকাতিয়া, সরিষায় ঝুঁকছে চাষিরা

Slider কৃষি, পরিবেশ ও প্রকৃতি


খুলনা: খুলনার ফুলতলা উপজেলাধীন বিল ডাকাতিয়া, মশিয়ালি ও গিলাতলা এলাকায় চলতি মৌসুমে সরিষা চাষ কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে ফসলের মাঠে সরিষা ফুলের হলুদের সমারোহ। হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জন এবং বাতাসে দুলতে থাকা ফুলে দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলতলা উপজেলায় আটরা গিলাতলা ইউনিয়নে সরিষা চাষ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। আমন আর বোরো ফসলের মাঝখানে কৃষকরা সরিষা চাষকে বোনাস হিসেবে দেখছে। সরিষা তুলে সে জমিতে আবার বোরো আবাদ করা যায়। এতে কৃষিজমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। একসময় কৃষকরা আমন ধান কাটার পর জমি পতিত ফেলে রাখত। সময়ের সাথে সাথে তা পুরোটাই পাল্টে গেছে। আমন ধান কাটার পর জমিতে সরিষা লাগাতে হয়। মাত্র ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারে।

আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখন সরিষা চাষ খুবই লাভজনক একটা আবাদ। অতি অল্প সময়ে, অল্প পুঁজিতে এ ফসল চাষ করা যায়। এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে সরিষা আবাদ করতে খরচ হয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। যদি সঠিকভাবে পরিচর্যা করা যায় তাহলে প্রতি বিঘায় ফলন হয় পাঁচ থেকে ছয় মণ সরিষা। গিলাতলা দক্ষিণপাড়া এলাকার চাষি হালিম জানান, দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে দেড় হাজার টাকা করে ব্যয় হয়েছে। সরিষার ফুলে ক্ষেত ভরে গেছে। আর কোনো সমস্যা না হলে বিঘাপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় মণ সরিষা পাওয়া যাবে।

বিল ডাকাতিয়া এলাকার গ্রামের কৃষক আফসার মিয়া বলেন, আমন ধান কাটার পর দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। আশা করছি বেশ ভালো ফলন হবে। এই সরিষা বিক্রি করে বোরো আবাদের তেল ও সার কেনার টাকা জোগাড় হয়ে যাবে। পাড়িয়ারডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, ধান আবাদে কোনো লাভ নেই, উৎপাদন খরচই ওঠে না। সরিষা আবাদে এক থেকে দুইবার সেচ দিলে চলে। বাজারদর ভালো হলে এক মণ সরিষা ১৭০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, সরিষা মূলত একটি মসলা জাতীয় ফসল। স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষককে অধিক ফলন পেতে নানাভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, যাতে কৃষকের কোনো সমস্যা না হয়। আশা করছি প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *