৮০০ গ্রুপ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিপাকে

Slider তথ্যপ্রযুক্তি


করোনার সময়ে বেড়েছে ই-কমার্সের ব্যাপ্তি। বিশেষ করে ফেসবুক ভিত্তিক ই-কমার্সের প্রসার ঘটেছে বেশি। ঘরবন্দি মানুষ অনলাইনের মাধ্যমে শুধু পণ্য নয়, খাবারও অর্ডার দিয়েছেন অনলাইন প্রতিষ্ঠানের

মাধ্যমে। দ্রুত পৌঁছে গেছে তাদের অর্ডারকৃত পণ্যটি। কিন্তু, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহককে পণ্য বুঝিয়ে না দেয়ার অভিযোগ ওঠে। সঠিক সময়ে পণ্য বুঝিয়ে না দেয়া এবং টাকা ফেরতের টালবাহানার কারণে একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। যারা পলাতক আছে তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা বড় বড় অনলাইন প্ল্যাটফরমের ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা ও কর্মচারী ওইসব প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ পণ্য কেনার অর্ডার দিয়েছিল। তারা পণ্য না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি শেয়ার করলে বিষয়টি সব স্থানে চাউর হয়। নড়েচড়ে বসে সরকার ও পুলিশ। কিন্তু, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০০ টি ফেসবুক ভিত্তিক অনলাইন পেজ। তারা অনায়াসে ব্যবসা করছে। তাদের নেই কোনো রেজিস্ট্রেশন। কেউ কেউ গ্রাহকের টাকা নয়-ছয় করছে। অনেকেই পণ্য পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন দিনের পর দিন। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদেরও আশ্বাস দিতেই আছে। যারা অল্প টাকা বিনিয়োগ করেছেন তাদের অনেকেই পণ্য পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। আর যারা বেশি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তারা কেউ কেউ আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন। আবার অনেক গ্রাহক টাকা না পাওয়ার ভয়ে থানায় অভিযোগ করতে যাচ্ছেন না। তারা ভাবছে যে, থানায় মামলা করলেই তারা আর টাকা পাবেন না। তাই ওইসব ভুক্তভোগীর ধৈর্য ধরা ছাড়া তাদের কোনো উপাই নেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঢাকায় প্রায় ৬৫০টি ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন শপিং এর পেজ চালু আছে। আর বাকি ১৫০ টি ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহর ও জেলাতে চালু আছে। পুলিশ বলছে, যারা ফেসবুক ভিত্তিক ই-অনলাইনে শপিংয়ে প্রতারণার শিকার হবেন তারা যাতে থানায় গিয়ে মামলা করেন। তাহলে প্রতারকদের আইনের আওতায় আনা যাবে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকলে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া কঠিন। এতে প্রতারকেরা দ্রুত আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবার সরব হচ্ছে ফেসবুক অনলাইন শপিং এর প্রতারণায়।

বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পুলিশের বিশেষ শাখা সিআইডি’র সদর দপ্তরের এডিশনাল ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন মানবজমিনকে জানান, ‘ফেসবুক ভিত্তিক প্রায় ৮০০ প্রতিষ্ঠান অনলাইন শপিং এর ব্যবসা করছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সুনামের সঙ্গেই ব্যবসা করছে। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও অনলাইন থেকে পণ্য কিনে থাকেন।

তিনি আরও জানান, যারা ভালো ব্যবসা করছে তাদের আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু, যারা গ্রাহকের পণ্য বুঝিয়ে দিচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সিআইডি’র সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেসবুক ভিত্তিক বিভিন্ন ই-কমার্স এর ব্যবসার দ্রুত প্রচার ঘটেছে। প্রায় ৮০০টি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে। প্রযুক্তির কারণে মানুষ ঘরে বসেই সব পণ্য পাচ্ছে। কিন্তু, এতোগুলো প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে সব প্রতিষ্ঠানকে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে পুলিশের সাইবার ইউনিট কিছু আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়। কারণ কয়েকটি বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের টাকা নয়-ছয় করতে দেখা গেছে। পরে গ্রাহকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৭ই সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ইভ্যালির সিও মো. রাসেলসহ তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

গত ৪ই অক্টোবর ধানমন্ডি এলাকা থেকে কিউকমের চেয়ারম্যান রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে আরজে নীরবকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এছাড়াও গত ২৯শে সেপ্টেম্বর ধামাকার তিন কর্মকর্তাকে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার র‌্যাব। সিআইডি বলছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ই-কমার্স এখনো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। অনলাইনে অর্ডার দেয়া গেলেও এখনো নগদ অর্থেই লেন-দেন বেশি। এটাকে বলা হয়ে থাকে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’।

ফেসবুক ভিত্তিক ইউরোপিয়ান শার্ট এর অনলাইন ভিত্তিক বাজার হলো ‘স্টাইল ডটকম’। প্রতিষ্ঠানের মালিক শামসুর রহমান জানালেন, গত বছরের মে মাসে তিনি শার্টের ব্যবসা শুরু করেন। ৪০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেয়ার কারণে তার শার্টের অর্ডার ফেসবুকে গ্রাহকেরা অফার করে।
তিনি আরও জানান, পরে তার পণ্য ডেলিভারি দেয়া কর্মচারীরা অফার দেয়া গ্রাহককে পণ্য দিয়ে আসেন। পণ্য নেয়ার জন্য শার্টের মোট মূল্যের ২০ শতাংশ টাকা আগেই পরিশোধ করতে হয়। আর পণ্য বুঝিয়ে দেয়ার সময় বাকি টাকা গ্রাহককে দিতে হয়। তারা খুব স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা করছেন বলে দাবি করেন।

তবে গত বছরের জুন মাসে ফেসবুক ভিত্তিক ই-কমার্স ‘মিষ্টান্ন ডটকম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে রিপন নামে এক ব্যক্তি ৫ হাজার টাকা দই কেনার জন্য দেন। ওই প্রতিষ্ঠানটি সিরাজগঞ্জের বিখ্যাত চন্দনচুর নামে দই বিক্রয় করে থাকে। তিনি অগ্রিম ২০০০ টাকা পরিষোধ করেন। কিন্তু, কয়েকদিন পরেই পেজটি ফেসবুকে আর দেখা যায় না। প্রতিষ্ঠানের সব নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। রিপনের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *