হাতে টিকিট, রাতে ফ্লাইট, করোনা পরীক্ষার ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা

Slider জাতীয়


সৌদি আরবের ফ্লাইট ধরতে প্রবাসীদের বিমানবন্দরে রিপোর্ট করতে হবে সন্ধ্যায়। ফ্লাইট ছাড়বে রাত সাড়ে ১২টায়। এর মধ্যে টিকিটও হাতে পেয়েছেন বেশ কয়েকজন সৌদি প্রবাসী। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অনেকেই হাতে পাননি করোনা পরীক্ষার ফল। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন রাতের ফ্লাইটের যাত্রীরা। রাত ৮টার আগে রিপোর্ট আসবে না বলে জানিয়েছেন করোনা টেস্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, বিশ্বের অনেক দেশে যেতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখতে হয়। তবে সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী দেশটিতে পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকতে হবে যাত্রীদের।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার টিকিট হাতে পাওয়ার পর যাত্রীরা মহাখালীতে ডিএনসিসি করোনা স্যাম্পল কালেকশন বুথে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা পরীক্ষা দিতে যান।

আজ সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের কাউন্টার থেকে ৫০১ থেকে ৮৫০ নম্বর টোকেনধারী ৩৫০ জনের সৌদি ফেরার টিকিট নিশ্চিত করা হয়।
এদিন সকাল ১০টা থেকে টিকিট দেয়া শুরু হয়। তবে যারাই টিকিট পেয়েছেন, তাদের সবার গন্তব্য ছিল মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেটের করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টা থেকে মহাখালীতে লাইন ধরেন খালিদ। সকালে তারা সাড়ে ৯টার মধ্যে নমুনা জমা দিতে পারেন। তিনি এখন অপেক্ষা করছেন রিপোর্টের জন্য, যা নিয়ে বিমানবন্দরে যাবেন। একই রকম দুশ্চিন্তায় অনেকেই। সন্ধ্যা বিমানবন্দরে যেতে হলেও এখনও হাতে পাননি রিপোর্ট।

সৌদিগামী আরেক প্রবাসী এনায়েত বলেন, ‘আমরা তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করে টিকিট পেলাম। ভিসার মেয়াদ শেষ হবে ৩০শে সেপ্টেম্বর। কিন্তু এখনও করোনার রিপোর্ট না পেলে তো আমাদের বিদেশ যাওয়া হবে না। সব শেষ হয়ে যাবে। গতকাল বিকালে গিয়েও নমুনা দিতে পারেনি। আজ ভোর রাতে লাইন ধরে সকালে স্যাম্পল দিয়েছি। এখন আমরা কী করবো বুঝতে পারছি না।’

ডিএনসিসি করোনা স্যাম্পল কালেকশন বুথে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বিপত্তি হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের সাবেক পরিচালক ডা. সামির কান্তি সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের সাবেক এই পরিচালক বর্তমানে এই কেন্দ্রের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ডা. সামির বলেন, ‘গতকাল আমাদের জানা ছিল না এতোগুলো লোক পরের দিন ফ্লাইটে যাবেন। তবে সকালে দ্রুত তাদের নমুনা নেয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। তা না হলে আমরা রাত ৮টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে পারতাম। তবে তাদের রিপোর্ট দিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা বাজতে পারে।’

ডা. সামির বলেন, ‘তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেগেটিভ সার্টিফিকেট লাগবে। টিকিট দেয়ার সময় পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করলে সংকট তৈরি হবে না। এখন বিদেশগামী যাত্রীর চাপ বেড়েছে। ফলে এ বিষয়গুলো বিবেচনা না করে টিকিট দিলে বিপত্তি দেখা দেবে না।’ তবে সৌদিগামীদের বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে বিমানবন্দরেই রিপোর্ট দেয়া হবে বলেও জানান ডা. সামির।

আগামীকাল শনিবার সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের কাউন্টার থেকে ৮৫১ থেকে ১২০০ নম্বর টোকেনধারীদের ফেরার টিকিট দেয়া হবে। রোববার ১২০১ থেকে ১৫০০ নম্বর টোকেনধারীদের টিকিট দেয়া হবে। যারা টোকেন পাননি, তাদের ২৯শে সেপ্টেম্বর আসতে বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করার পর বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিসার মেয়াদ, ফ্লাইট সংকট থাকায় কিছুটা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে প্রবাসীদের। সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স বিশেষ ফ্লাইটের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইটে যাত্রী নেয়া ‍শুরু করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও প্রবাসীদের সৌদিতে ফেরাতে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। তবে করোনা মহামারির মধ্যে সৌদিতে ফিরতে প্রবাসীদের মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধিসহ বেশকিছু শর্ত।

এদিকে সৌদি প্রবাসীদের ফেরার তাড়া থাকলেও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস নতুন করে কোনো ফ্লাইটের জন্য আবেদন করেনি বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। তিনি বলেন, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস চলতি মাসে ঢাকা থেকে চারটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল। পরে ২৮শে সেপ্টেম্বরের জন্য আরেকটি ফ্লাইটের আবেদন করে তারা। এরপর নতুন করে ফ্লাইট বাড়ানোর ব্যাপারে আর কোনো আবেদন এয়ারলাইনসটি করেনি।

এদিকে গত বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম জানান, আকামার মেয়াদ আরবি সফর মাসের শেষ দিন পর্যন্ত (মানে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আরো ২৪ দিন) বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমানকে রিয়াদ এবং জেদ্দায় সপ্তাহে মোট চার ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ঢাকায় সৌদি আরব দূতাবাসের ভিসা অফিস রোববার থেকে খোলা থাকবে এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নতুন নিয়মাবলি মেনে কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *