বিমর্ষ ওরা তিন জন

Slider জাতীয় রাজনীতি সিলেট

সিলেট: বিমর্ষ হয়ে গেল সিলেটের তিন মুখ। রাজনীতিতে দাপিয়ে বেড়ানো নেতা তারা। সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি নানা ব্যস্ততা। নেতাকর্মীবেষ্টিত সব সময়। সদা হাসিখুশী। সবখানেই তাদের বিচরণ। কিন্তু হঠাৎ করেই থমকে গেল সব। মুখের হাসি উধাও হয়ে গেল।
নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়লেন তারা।

এরা তিনজন হলেন- সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার থেকে তারা সিলেট আওয়ামী লীগে ‘সাবেক’ হয়ে গেলেন। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক যখন সিলেটে এসে পৌঁছান তখন থেকেই তাদের চেহারা পাল্টে যেতে শুরু করে। এ কারণে সম্মেলনে ভাষণ দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বিদায় নেন তারা। এর খানিক পরেই যখন নতুন কমিটির নাম ঘোষণা হলো তখন অন্ধকার আচ্ছন্ন করে ফেলে তাদের।

এরপরও স্বভাবগতভাবেই কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদককে বিমানবন্দর পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন তারা। শোক সওয়া হয়ে গেছে কামরানের। পরপর দুইবার নিজ দলের নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয় বরণ করতে হয় তাকে। নগরের মসনদ হারিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন পুরোপুরি আওয়ামী লীগার। দলই ছিলো তার কাছে সব। কেন্দ্রীয় সদস্য হওয়ার কারণে বিগত সংসদ, উপজেলা নির্বাচনে তিনি সিলেট বিভাগের নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। কামরান ছিলেন সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি। পরে তিনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। দীর্ঘদিন ধরে মহানগরকে ঘিরে তার রাজনীতি। সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগর আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব হারান তিনি। তবে- হতাশ নন কামরান। নতুন করে শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। দলীয় সভানেত্রী তাকে যে কাজে লাগাবেন সেই কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান। ২০১১ সালের সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি হলো সিলেটে। তখন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জাঁদরেল রাজনীতিবিদ ইফতেখার হোসেন শামীম। প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ছিলেন। সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে সাধারণ সম্পাদক থেকে বাদ দেয়া হয়। সিলেট আওয়ামী লীগে তোলপাড় শুরু হয়। শামীমের পক্ষে নেমেছিলেন উপজেলা পর্যায়ের নেতারা। নানা নাটকীয় ঘটনা। এরপরও দলের সিদ্ধান্ত অটল থাকে। নতুন সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী।

তখন তিনি এমপি ছিলেন। দীর্ঘ ৮ বছরে শফিকুর রহমান চৌধুরীও সিলেট আওয়ামী লীগে নিজের জায়গা গড়ে তুলেছিলেন। এখন তিনিও হয়ে উঠেছিলেন ইফতেখার শামীমের মতো প্রভাবশালী নেতা। এবারের সম্মেলনে তাকেও নেতৃত্ব থেকে বাদ দেয়া হলো। শফিক হয়ে গেলেন সাবেক। দলের নির্দেশে পরপর দু’দফা এমপি পদ বিসর্জন দিয়েছিলেন। শরিক দলকে ছেড়ে দিয়েছিলেন আসন। এতো ত্যাগেও শফিকুর রহমান চৌধুরীতে মন ভরেনি কেন্দ্রীয় নেতাদের। বাদ পড়তেই হলো তাকে। শফিকুর রহমান চৌধুরী বাদ পড়ার পর সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতারা বৃহস্পতিবার রাত থেকেই তার বাসায় ছুটে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন সান্ত্বনা। শফিকুর রহমান চৌধুরী সঙ্গে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন নেতাদের। জানিয়েছেন- যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ছেড়ে তিনি সিলেটে এসে আসন গেড়েছেন। সিলেটের রাজনীতির সঙ্গে মিশেই থাকবেন। দলের প্রতি অনুগত থেকে কাজ করবেন। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের জন্য আকাঙ্ক্ষায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। এ পদটি ছিলো তার স্বপ্নের।

তার স্বপ্নের পদে আসীন হয়েছেন বড় ভাই মাসুক উদ্দিন আহমদ। জেলার রাজনীতি থেকে মহানগরের রাজনীতিতে চলে এলেন তিনি। বড় ভাই মহানগরের নেতৃত্বে আসায় অখুশি নন আসাদ। কিছুটা হতাশ হলেও আপাতত ভাইকে সঙ্গ দেয়ার কাজে নামবেন তিনি। এদিকে- সম্মেলনের পর থেকে বদলে গেছে সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতি। এখন নতুন নেতৃত্বকে নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন নেতারা। গতকাল সকালে নবনির্বাচিত জেলার সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হযরত শাহ্‌জালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। সম্মেলনের পর সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তেমন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। বরং নতুন নির্বাচিতরা ছুটে গেছেন সাবেকদের বাসায়। আগামী পথচলায় সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন সাবেকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *