এবার মাকে রড দিয়ে পেটাল ছেলে

Slider বিচিত্র

পান্তা ভাত খেতে দেওয়ার ‘অপরাধে’ বৃদ্ধা মাকে মারপিট করেছে ছেলে। লোহার রডের আঘাতে বৃদ্ধার ডান হাতের কিছু অংশ জখম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের অশোকনগর থানার কল্যাণগড়ের ষাটফুট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

বিষয়টি স্বীকার করলেও বৃদ্ধা ছেলের নামে থানায় অভিযোগ করতে রাজি নন। উল্টো, শুক্রবার সকালে থানায় গিয়ে ওসি আশিস দলুইয়ের কাছে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। পুলিশ অবশ্য ছেলেকে ছাড়েনি।

বুধবার রাতেও অশোকনগর থানার ওসি একই ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন। বিল্ডিংমোড় এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ মানিকলাল বিশ্বাস থানায় গিয়ে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। ছেলে প্রদীপের বিরুদ্ধে বাবাকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ছিল।

পুলিশ প্রদীপকেও ছাড়েনি। পরে সে আদালতে জামিন পায়।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবারও পুলিশ বৃদ্ধা লক্ষ্মী মিত্রের অনুরোধ রাখেনি। ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা কোনও অভিযোগ না করলেও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে (সুয়ো মোটো) শিবশঙ্কর মিত্র নামে তার ছেলের বিরুদ্ধে মদ খেয়ে ঝামেলা জড়ানো মামলা দায়ের করেছে।

ছেলের হাতে মার খেয়ে রক্তাক্ত হয়েও লক্ষ্মী কেন পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেন না?

শুক্রবার নিজের বাড়িতে বসে ৬৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা বলেন, ছেলে ছাড়া আমাদের তো আর কেউ দেখার নেই। ছেলেকে আর একটা সুযোগ দিতে চাই।

এর আগে একই যুক্তি দিয়েছিলেন মানিকলাল ও তার স্ত্রীও।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবশঙ্কর গাড়িচালক। মাস তিনেক আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন। মা ছাড়াও বাড়িতে আছে দুই মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায়দিনই মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে শিবশঙ্কর অশান্তি করত। মা-মেয়েদের মারধর করত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে ভাত খেতে চায়। লক্ষ্মী পান্তাভাত দিতে যান। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শিবশঙ্কর। গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

শিবশঙ্করের স্ত্রীর মৃত্যুর পরে শাশুড়ি প্রতিমা হালদার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে এসে থাকেন। তার কথায়, ‘নাতনিদের ওর বাবার অত্যাচারের হাত থেকে ঠেকাতে আমি নিজের বাড়িতে তালা দিয়ে এখানে থাকছি।

প্রতিমা বলেন, জামাই বিকেলে বাড়ি ফিরবে, সেটা জানতেন না লক্ষ্মী। বাড়িতে প্রচুর পানি দেওয়া ভাত ছিল। পূজার প্রসাদও ছিল বাড়িতে। তাই গরম ভাত আর রান্না করা হয়নি। ছেলেকে বলেছিলেন, পান্তা ভাতের সঙ্গে আলু ভেজে দেবেন। কিন্তু জামাই তাতে কান দেয়নি।

অভিযোগ, রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে শিবশঙ্কর ফের ভাত নিয়ে অশান্তি শুরু করে। মাকে চড়-ঘুষি মারে। রড দিয়েও মারার চেষ্টা করেন। লক্ষ্মীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তারা শঙ্করকে আটকে পুলিশে খবর দেন। লক্ষ্মীকে অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

লক্ষ্মীর এক নাতনির কথায়, মা মারা যাওয়ার পর থেকে বাবার অত্যাচার আরও বেড়েছে। আমরা চাই, বাবা ভালো হয়ে যাক।

ছেলেদের হাতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা মার খেয়ে, অপমানিত হয়েও যে ভাবে ছেলেদের স্নেহ দিয়ে আড়াল করতে চাইছেন, তাতে সকলে অবাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *