শনিবারের সমাবেশে কর্মপন্থা ঘোষণা করা হবে: ফখরুল

Slider রাজনীতি


ঢাকা: সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে বিএনপি’র ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে আমরা আমাদের নীতি-নির্ধারণী বক্তব্য দেবো। আমাদের ভবিষ্যতের কর্মপন্থা, ভবিষ্যতের কর্মসূচি- এগুলো আসবে। বিএনপি’র নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল দুপুরে দলের এক যৌথসভা শেষে তিনি এ কথা জানান। মির্জা আলমগীর বলেন, এটা স্পষ্ট- বর্তমান সরকার আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে যেসব কথা মুখে বলছে সেগুলো সবই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। এমনকি বিদেশে গিয়েও প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তারা একটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন দেখতে চান। সকল দল আসুক সেটা তারা দেখতে চান।

সারা দেশে অব্যাহতভাবে গায়েবী মামলার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আলমগীর বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যে প্রতারণামূলক তার নমুনা হচ্ছে- তিন লাখ লোকের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের। তার নমুনা হচ্ছে, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা। তার নমুনা হচ্ছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে আবার একটা মামলায় সাজা দেয়ার চেষ্টা করা। আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মিথ্যা মামলাগুলোকে আবার তরান্বিত করা হচ্ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে দায়েরকৃত গায়েবী মামলার চিত্র তুলে ধরে মির্জা আলমগীর বলেন, সারা দেশে গায়েবী মামলার উৎসব চলছে। কে কতগুলো দিতে পারে, কিভাবে দিতে পারে সেই উৎসব চালাচ্ছে এখন সরকার। ফলে বাংলাদেশে বিএনপি’র এমন একটা ইউনিট নেই যেখানে একেবারে সভাপতি থেকে শুরু করে সদস্য পর্যন্ত মামলা দেয়া হয়নি।

আমাদের হিসাবে এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের উপরে মামলা হয়েছে। সোয়া তিন লাখেরও বেশি মানুষের নাম উল্লেখ করে আসামী করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা একথা বিশ্বাস করি- গুম-খুন, নিপীড়ন-নির্যাতন, হত্যা-নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। জনগণই এর জবাব দেবে। এবারো জনগণ তার জবাব দেবে বলে বিশ্বাস করি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, উনি (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন- বিএনপি নাকি এখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ভ্যানিটি ব্যাগে এবং আন্দোলন নাকি কারাগারে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলন তো কারাগারেই হবে। গোটা দেশকে কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। সেই কারাগারকে ভেঙে ফেলার জন্য দেশে আন্দোলন হবে। অবশ্যই এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ এদেশ ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করবে। শনিবারের জনসভার পুলিশি অনুমতির প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা জনসভা করতে চেয়েছিলাম ২৭শে সেপ্টেম্বর। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো, ২৭শে সেপ্টেম্বর করা ঠিক হবে না। শনিবার ২৯শে সেপ্টেম্বর ছুটির দিন আছে সেদিন করেন, সোহ্‌রাওয়ার্র্দী উদ্যানে করেন। সেজন্য আমরা ২৯শে সেপ্টেম্বর জনসভা করার এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছি। তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে- না।

সেদিন নাকি আওয়ামী লীগের কোনো একটা মতবিনিময় সভা আছে। আমি ঠিক জানি না, তবে সেটা মহানগর নাট্যমঞ্চে সম্ভবত। সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বহু দূরে এই মতবিনিময় সভার ভেন্যু। তার সঙ্গে আমাদের জনসভার সম্পর্কটা কোথায়, বিরোধ কোথায় সেটা তো আমরা বুঝতে পারছি না। মির্জা আলমগীর বলেন, নাসিম সাহেব (মোহাম্মদ নাসিম) এক সভায় বলেছেন- রাজপথে গলিতে যেখানে পাবা সেখানে আটকিয়ে দাও। সেখান থেকে যেন বিএনপি বেরিয়ে আসতে না পারে। আর জাহাঙ্গীর কবির নানক বলছেন, হাত-পা ভেঙে দাও। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই তো হচ্ছে তাদের গণতন্ত্রের ভাষা। জনগণ বিবেচনা করবেন এই সংঘাত-সহিংসতা কারা শুরু করে। ২০০৬ সালে ২৮শে অক্টোবর কারা লগি-বৈঠা দিয়ে সেদিন ২৭ জন তরুণকে হত্যা করেছিলো? এটা ভুলে যাওয়ার কথা নয়। দুর্ভাগ্য এটা যে, আমাদের মিডিয়া কেন জানি এসবকে সামনে তুলে নিয়ে আসে না। শনিবারের অনুমতির জন্য বিএনপি আবেদন করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, ভাই- অনুমতির আবেদন-টাবেদন না। ইট ইজ দেয়ার রেসপনসিবিলিটি। এটা তারা ঠিক করবেন, কী করবেন? ২৯শে সেপ্টেম্বর জনসভা করার জন্যই আজকে আমরা যৌথসভাটি করেছি। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। যৌথসভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, বিএনপি’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক হেলাল খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেক ও সাধারণ সম্পাদক শাহ নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *