কোটবাড়ীর আস্তানায় মেলেনি জঙ্গি

Slider জাতীয় সামাজিক যোগাযোগ সঙ্গী

59739_kot

 

 

 

 

কুমিল্লা শহরের কোটবাড়ীর গন্ধমতি এলাকায় সন্ধান পাওয়া জঙ্গি আস্তানা থেকে কোনো জঙ্গির খোঁজ পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে বুধবার বাসাটি ঘিরে ফেলার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। এদের একজনের সাংগঠনিক নাম আনাস, অপরজন রনি। এরা আগে প্রায় ৫ মাস ধরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তবে বাসার
ভেতরে বিস্ফোরক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল দিনভর আস্তানাটিতে চালানো অভিযান শেষে সন্ধ্যার দিকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের ডিআইজি শফিকুর রহমান। অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়িতে বিদ্যুৎসংযোগ না থাকায় সন্ধ্যার পর থেকে আজ সকাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে সকালের দিকে তিনি জানান, আটটা থেকে ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউটের’ প্রস্তুতি শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে আস্তানা এলাকার চারদিক ঘিরে ফেলা হয়। আশপাশে যাতায়াতের সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। সকাল সাতটা থেকে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। গণমাধ্যমকর্মীরাও আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থান  করে। আস্তানার আশপাশের এলাকায় সকালে মাইকিং করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তায় সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সবাইকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়। সিএমপি ডিআইজি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সোয়াট, র?্যাব-১১ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। এর আগে গতকাল সকাল ১০টার দিকে অভিযান শুরু হওয়ার বেলা ১১টার দিকে দু’দফা এবং দুপুর সাড়ে ১২টার আরো দু’দফায় একটানা কয়েক মিনিট ধরে গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আর কোনো শব্দ শোনা যায়নি। এদিকে আলোর স্বল্পতার কারণে সন্ধ্যায় অভিযান স্থগিত করার পর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিএমপি উপপুলিশ কমিশনার শফিকুর রহমান। তিনি কোটবাড়ির জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া এবং অভিযান পরবর্তী নানা দিক তুলে ধরেন। ডিআইজি জানান, গত ১৫ই মার্চ চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন থেকে বেশ কিছু নাম্বার পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই নাম্বারগুলো বিভিন্ন অভিযানে নিহত এবং পলাতক জঙ্গিদের। পরে এ ব্যাপারে আরো তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমদিকে তারা অস্বীকার করলেও পরে কোটবাড়ীর এ জঙ্গি আস্তানার কথা স্বীকার করে। তারা এই আস্তানায় আনাস ও রনি নামে দুই জঙ্গি অবস্থানের কথা জানায়। এছাড়া বিস্ফোরক থাকার কথাও নিশ্চিত করে। মিরসরাই থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ওই জঙ্গিরা আরো জানায়, কোটবাড়ীতে অবস্থান করা দুই জঙ্গি সীতাকুণ্ড এলাকায় বাসাভাড়া নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের আইডি কার্ড না থাকায় সেখানে বাসাভাড়া নিতে পারেনি। পরে সংগঠনের নেতাদের পরামর্শ মতে, তারা এখানে বাসাভাড়া নেয়। শফিকুর রহমান বলেন, কোন এলাকায় দুই জঙ্গি আস্তানা গেড়েছে সে সম্পর্কে তথ্য থাকলে যে বাসায় তারা আছে সে সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। বুধবার সকালের দিকে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিলেও প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে বাসাটি চিহ্নিত করতে পারছিলেন না। পরে ঢাকা থেকে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা দিতে একটি দল এলাকায় পৌঁছলে তারা বাসাটি চিহ্নিত করে। এরপর বিকালে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। ওই সময় বাড়ির মালিক দেলোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, সকাল ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিচতলায় অবস্থান করা ওই দুজনের একজন আগেই বেরিয়ে গেছে। আরেকজনকে তখন ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছেন। এরপর বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়।
ডিআইজি বলেন,  কোটবাড়ীর জঙ্গি আস্তানায় যে দুই জঙ্গি ছিল তাদের একজনের নাম আনাস ওরফে আনিস। তার বাড়ি নোয়াখালী। বয়স ১৯/২০ বছর। সে পাঁচ মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছে। আরেকজন নাম রনি। সে নব্য জেএমবির সদস্য। তার বয়স ২২/২৩ বছর। বাড়ি রাজশাহী। সেও পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ হয়েছে।  ডিআইজি  বলেন, জঙ্গি আস্তানায় যে দুই জঙ্গি ছিল, তাদের মধ্যে আনিস বুধবার সকাল ১০টার আগেই চলে গেছে। আরেকজন বিকাল পৌনে চারটায় যখন জঙ্গি আস্তানা হিসেবে বাড়িটি চিহ্নিত করি, তার আগেই হয়তো পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গিদের একটি কৌশল আছে। একজন বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আরেকজনকে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে যায়। এর মধ্যে যদি সে ফিরে না আসে, তাহলে অন্যজন বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এ পন্থা ব্যবহার করে হয়তো দ্বিতীয় জন বেরিয়ে গেছে। যে কারণে আস্তানায় আমরা কাউকে পাইনি। তবে তারা দুজনই এখানে ছিল আমরা নিশ্চিত। বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ব্যাপারে শফিকুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পাঁচ কেজি ওজনের দু’টি বোমা রয়েছে। সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায় যে ধরনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল এটাও একই ধরনের। এছাড়া সেখানে চারটি হ্যান্ড গ্রেনেড ও দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট রয়েছে। জঙ্গির আস্তানায় গ্যাস ছোড়ার কারণে আমাদের বোম ডিসপোজাল ইউনিট গ্যাসের কারণে কাজ করতে পারেনি। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সেখানে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এ জন্য আমরা আজ বোম নিষ্ক্রিয় কার্যক্রম স্থগিত রেখেছি। আজ সকালে বোমা নিষ্ক্রিয়তার কাজ আবার শুরু হবে। পুলিশ জানায়, বাড়িটির নিচতলার আরেক পাশে বিজিবির এক সদস্যের পরিবার ভাড়া থাকে। দ্বিতীয় তলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেস করে থাকেন। তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ এখনো কাজ শেষ হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *