শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মস্থানের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষন সময়ের যথার্থ দাবী

Slider জাতীয়
14800905_555056271344391_1412639844_n
ঝালকাঠি জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক প্রাচীনতম উপজেলার নাম রাজাপুর। অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্য মন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশ সহ বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ত্বের জন্ম এই রাজাপুরে।এ কে ফজলুল হক, জীবনানন্দের মত বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিদের আলাদাভাবে প্রত্যেকের জন্মস্থান অবহেলায় অসংরক্ষিত পড়ে থাকায় উপজেলাবাসী সচেতন সুধীমহলে বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন ধরে পজেটিভ মনোভাবের সৃষ্টি হয়ে এসেছে। দুজনকে নিয়ে এতদাঞ্চলের লেখক সাংবাদিকদের কলম থেমে নেই।আজ ২৬ অক্টোবর ২০১৬ খ্রী: ছিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৪৩ তম জন্ম দিবস। দিবসটি পালন উপলক্ষে রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়ায় শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী সহ শেরে বাংলা প্রেমী শতশত মানুষের স্বত:স্ফূর্ত উপস্থিতিতে বুধবার শেরে বাংলার জন্মস্থান দ্রুত সংরক্ষণ ও শেরেবাংলা বিশ্বিবিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। উদ্যোগটি সম্পর্কে অবগত আমরা যেমনটি আনন্দিত হয়েছি তেমনটি আয়োজকদের প্রচেষ্টাকেও কৃতজ্ঞতা ভরে অবশ্যই সাধুবাদ জানিয়েছি। ইতিহাসের এমন একজন মহানায়ককে নিয়ে গবেষণা সহ যেভাবে তার স্মৃতি সংরক্ষন করা প্রয়োজন সেভাবে কোন উদ্যোগের অগ্রগতি না থাকায় আজকের আয়োজকবৃন্দ যেমন উৎকন্ঠিত চিত্তে তাদের অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন তেমনি আমাদের মত মানুষদের ও ব্যাথাহত মনে অনেকটাই পরিতৃপ্তির উদ্রেক সৃষ্টি হয়েছে।সাতুরিয়া ইঞ্জি. একেএম রেজাউল করিম স্কুল এন্ড কলেজের সুমহান উদ্যোগে বুধবার প্রতিষ্ঠানের মাঠে এ মহতী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ এলাকার শেরেবাংলা প্রেমী সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। মানববন্ধন কর্মসূচির প্রাক্কালে সাতুরিয়ার শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও সাতুরিয়া ইঞ্জি. একেএম রেজাউল করিম স্কুল এন্ড কলেজের আয়োজনে প্রতিষ্ঠানের সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।শেরে বাংলা’র জন্মস্থান সংরক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ডাকবাংলো ও মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেধরার মাধ্যমে তারা তাদের কর্মসীচিকে সমাপ্তির দিকে নিয়ে যায়। অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী ও উপমহাদেশের রাজনীতিবিদ শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের ১৪৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগ সমিতি জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বুধবার বিকাল চারটায় এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এছাড়াও বিকাল পাঁচটায় কৃষক শ্রমিক পার্টির উদ্যোগে রাজধানীর তোপখানার মেহেরবা প্লাজায় আয়োজিত হয় আলোচনা। আয়োজকদের এ সুন্দর আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছে শেরেবাংলা প্রেমী ব্যক্তিবর্গ। সবার অংশ গ্রহনের মাধ্যমে শেরেবাংলার স্মৃতি সংরক্ষনের বিষয়টি একদিন প্রতিষ্ঠা পাবে এটাই চাওয়া। শেরেবাংলা অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭–১৯৪৩),পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪),পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬–১৯৫৮) পদ সহ বহু গুরুত্ত্বপূর্ন রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক এর অবিস্মরণীয় অবদানের ইতিহাস বাঙালি জাতীর অজানা নয়।এমন একজন মহান নেতাকে এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরেই মনে রাখবে এটাই কাম্য। সাতুরিয়ার সচেতন সুধীমহলে আজ একটি প্রশ্নই ঘুরে ফিরে প্রতিটি বিবেককে নাড়া দিচ্ছে আর তা হল শেরে বাংলা’র জন্মস্থান সংরক্ষণ কাজ আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি? ১৮৭৩ সালের এই দিনে (২৬ অক্টোবর) ঝালকাঠিস্থ রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া মিয়াবাড়ির মাতুলালয়ে জন্মগ্রহন করেন অবিভক্ত বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের সুনিপুণ স্বপ্নদ্রষ্টা শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক। মহান নেতার জন্ম আলয়টি এবং তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি আজও অবহেলিত ভাবে পথ অতিক্রম করে চলেছে।এমন মনীষী ও মহান নেতার জন্ম স্থানটির টানে দেশ বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এখানে আসছেন আবার হতবাক ও হতাশ হয়ে ফিরেও যাচ্ছেন। সাতুরিয়া গ্রামের যে ভবনটিতে শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্ম হয়েছিল সেটিকে প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম অমূল্য সম্পদ হিসেবে ঘোষণার প্রায় ৬ বছর অতিক্রান্ত হলেও আজও শুরু হয়নি সংরক্ষণের কাজ। নামমাত্র ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন ও আতুরঘরটির ছাদটি সংস্কার করা হলেও অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা,বাংলার অবিসংবাদিত নেতা এ কে ফজলুল হকের মূল্যবান স্মৃতি চিহ্নগুলো। অযত্নে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এখানকার বিভিন্ন স্থাপনা। বাংলার অবিসংবাদিত এই নেতা আজ থেকে ১৪৩ বছর পূর্বেকার ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে সাতুরিয়ার বিখ্যাত যে বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন জানা যায় সে বাড়িটি ‘সাতুরিয়া মিয়াবাড়ি’ নামে সর্বসাধারনের কাছে সমধিক পরিচিত। শেরে বাংলা অর্থাৎ বাংলার বাঘ একে ফজলুল হকের স্মৃতি বিজড়িত স্বপ্নময় শৈশব ও কৈশোরের অনেকটা সময় কেটেছে সাতুরিয়ার এ বাড়ীতে। শোনা যায় এখানকার একটি মক্তবে তিনি লেখাপড়া করতেন। যে পুকুরে তিনি সানন্দে সাঁতার কাটতেন তা আজও অবহেলিতভাবে স্মৃতি বহন করে চলেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাতুরিয়া এমএম হাই স্কুল এলাকার ঐতিহ্যের এক পবিত্র বিদ্যাপীঠ যা ঝালকাঠি জেলার অন্যতম এক সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে । ১৯৪১ সালে শেরে বাংলা এটি প্রতিষ্ঠিত করেন। মহান এ নেতার জন্ম যে ভবনটিতে হয়েছিল সেটি ছিল মোঘল আমলে নির্মিত। আরও কয়েকটি ভবন এখনও সংরক্ষনের অপেক্ষায় অনেকটা অবহেলিতভাবেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভবনগুলোর অধিকাংশই জরাজীর্ণতায় কালের সাক্ষ্য বহন করছে। দীর্ঘদিন সংষ্কার করা হয়নি তাই কেউ কেউ এটাকে ভুতুড়ে বাড়ী হিসেবে ও অবিহিত করতে দ্বিধা করছেনা। ঐতিহাসিক বাড়ীর ভবনগুলো দেখলে যে কেউই বলবে পুরনো এই ইমারতগুলো যে কোন মুহূর্তে ভেঙ্গে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে অনেক স্মৃতিচিহ্ন হারিয়েও গেছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবী ভবন সহ তার স্মৃতির নিদর্শন গুলো সংরক্ষনের ব্যাবস্থা নেয়া হোক।নতুন প্রজন্মের কাছে একে ফজলুল হক এর পরিচয় পুরোপুরিভাবে না পৌঁছলেও তাঁর সম্পর্কে জানেননা এমন লোকের সংখ্যা বর্তমানে নেই বললেই চলে।তাঁর জীবনের ইতিহাস আমাদের আজো প্রাণিত করে। বিশেষ তথ্য মতে জানা যায় এক সময়ে রাজনীতির বিষয়টি অনেকটাই ছিল সাতুরিয়া কেন্দ্রিক। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের কর্নধার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, অনেকদিন কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব ও পালন করেছেন এ মহান নেতা। মূখ্য মন্ত্রী হওয়ার পরেও তিনি একাধিক বার তাঁর স্মৃতিবিজড়িত জন্মস্থান সাতুরিয়ার মিয়াবাড়ী নামক মাতুলালয়ে এসেছেন। তার ছেলে মরহুম একে ফাইজুল হক এক সময় বাংলাদেশের স্বনামধন্য মন্ত্রী ছিলেন। অথচ শেরে বাংলার জন্ম ভিটার মত পবিত্র স্থানটি যা ঐতিহাসিক নিদর্শন স্বরূপ এবং সাতুরিয়ায় তার নিজের প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি আজও অবহেলিতভাবে পথ অতিক্রম করছে। জন্ম ভবনে ঝুঁকি নিয়ে আজও বসবাস করছেন তার মাতুল বংশধরেরা। স্কুলটিতেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে কোমলমতি শিশু, কিশোর-কিশোরীদের পাঠদানের মত সুমহান কার্যক্রম। বহুবার এখানে একটি শেরেবাংলা স্মৃতি যাদুঘর স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হলেও এ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। যে নেতার জন্য বাংলার কৃষকরা জমিদারদের শোষণ নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল তার জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালনে বিভিন্ন মহলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অনিহা সত্যিই বেদনাদায়ক। রাজাপুরের খ্যাতিমান সাংবাদিক রহিম রেজার শেরেবাংলা সম্পর্কে লেখা থেকে কিছু লাইন সংযোগ করছি।” বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারের লক্ষ্যে ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার জন্য পর্যটন স্থান/স্পট চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করলে সে সময় শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মস্থানটিকেও এর আওতায় নেয়া হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক অধিদপ্তর শেরে বাংলার জন্মভবনকে ১৯৬৮ সালের প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণ আইন (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় ভবনটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
14825623_555056298011055_769892960_n
প্রত্নসম্পদ আইনের ১০ ধারা (১) উপ-ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ১ নং সাতুরিয়া মৌজার তিনটি খতিয়ান ও দাগের মোট দশমিক ৬১ একর জমি সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ বলে ঘোষণা করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ ব্যাপারে ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২০১০ সালের ১৮ মার্চের গেজেটে তা প্রকাশ করা হয়। এরপর ওই জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমান ও মালিকানা স্বত্ত্ব নিয়ে দু’জন ওয়ারিস লিখিতভাবে আপত্তি জানালে জটিলতা দেখা দেয়। এ নিয়ে যাচাই-বাছাই কাজে চলে যায় দীর্ঘ সময়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনাস্থ আঞ্চলিক পরিচালক শিহাব উদ্দিন আকবর ওই সময় জানিয়েছিলেন, জরুরিভাবে এখন শুধুমাত্র শেরে বাংলার জন্মভবনটি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যেই প্রকৌশলী টিম এলাকা পরিদর্শন করবে বলে জানা গেছে। এরপর বাজেট বরাদ্দ মিললে ৪-৫ মাসের মধ্যেই মূল কাজ শুরু হবে। কিন্তু দীর্ঘ ৬ বছর অতিবাহিত হলেও শুধু জন্মস্থানে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন ও আতুরঘরের ছাদ সংস্কার হয়েছে বলে জানা গেছে।” শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের মতো মহান নেতাকে সঠিকভাবে মর্যাদা দেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠছে সব মহলে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর ক্ষোভের শেষ নেই। শেরে বাংলার নিকটাত্মীয় নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শেরে বাংলাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। বর্তমান সময়েও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এর পিছনেও কোন অদৃশ্য শক্তি থাকতে পারে। সাতুরিয়া এমএম মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক ফজলুল হক আকন জানান, কোন সরকারই মহান নেতার স্মৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসেনি। শেরে বাংলার প্রতিষ্ঠিত এমএম হাইস্কুলে বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীতে ৬ শতাধিক ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করছে। ফলাফলও ভাল। কিন্তু স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে তেমন একটা নজর দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের। তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালে নির্মিত একটি ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনটি সংষ্কার বা পুনঃনির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য একাধিকবার আবেদন করেও কোন ফল মেলেনি। শেরে বাংলার জন্মভবনে দীর্ঘদিন যাবত বাস করছেন তার নিকটাত্মীয় হোসনে আরা বেগম বুলু ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারাও চান জরুরিভাবে ভবনটি সংস্কার করা হোক। কিন্তু আগে তাদের জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে বলেও তাদের দাবি। তারা নিজ উদ্যোগে ওই ভবনের কিছু সংস্কারও করেছেন। শেরে বাংলার স্মৃতি রক্ষাসহ তাঁর জীবনাদর্শ ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষে ১৯৯৪ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় শেরে বাংলা স্মৃতি একাডেমী। সংগঠনের মহাসচিব এসএম রেজাউল কবির পল্টু জানান, সাতুরিয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে শেরে বাংলার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার জন্য তারা দীর্ঘদিন যাবত সরকারের কাছে দাবি করে আসলেও আজও তা মেনে নেয়া হয়নি। ঝালকাঠি জেলা পরিষদের মাধ্যমে ২০০৮ সালে শেরে বাংলার নামে একটি পাঠাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এজন্য টাকাও বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে জন্মস্থানে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন ও জন্মগৃহের ছাদটি নামমাত্র সংস্কার করে। এছাড়া সাতুরিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ শেরে বাংলার নামে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ডাকবাংলো ও মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন ঢাকাস্থ ঝালকাঠি সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা। সাতুরিয়াসহ রাজাপুরবাসীর প্রানের দাবী দ্রুত এ স্থানটি সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা হোক। রাজাপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শাহ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ শেরে বাংলার জন্মস্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। আশা করি দ্রুত তার জন্মস্থানটি সংরক্ষণ এবং একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হবে।সাধারণ মানুষের ভাষ্য তারা আর আশার বানী না শুনে মহান নেতার স্মৃতি সংরক্ষনের কাজের শুরু অবস্থা দেখতে চায়। যে নেতার অপরিশোধ্য অবদানে সাতুরিয়ার মানুষ আলোকিত হয়েছে তাঁর জন্মস্থনের সুরক্ষা সহ স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষন তাদের প্রানের দাবী। সাতুরিয়ার মানুষের অকৃতিম চাওয়া পূর্ন হোক আমরা রইলাম সেই মহিমান্বিত দিনটির অপেক্ষায়।
লিখেছেন  প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাস প্রান্ত
 ব্যুরো প্রধান
বরিশাল বিভাগ
গ্রামবাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *