মরণতন্ত্র লাগবে না, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টিটি দিন প্লিজ

Slider জাতীয় বাধ ভাঙ্গা মত রাজনীতি সম্পাদকীয়

274a33b3de233e28091cc56d0d53efdf

ব্যালটে রক্তের ছাপ দিয়ে ভোট দিতে চাই না। রক্তচক্ষুর আস্ফালনে সিল মারতে চাই না। ভোট দিতে গিয়ে খুন হতে চাই না। ভোটারকে খুন হতে হয় এমন ভোট চাই না। এই ধরণের গনতন্ত্র লাগবে না। শুধু  দু’মুঠো মোটা চালের ভাত বা এক টুকরো রুটি হলেই চলবে। দামি গাড়ি, বড় বাড়ি চাই না, গাড়ির চালক বা দারোয়ান হলেই চলবে। সেলুট নিতে চাই না দিতে চাই। তবু বাঁচতে চাই। এই গনতন্ত্র চাই না। এটা গনতন্ত্র নয় মরণতন্ত্র। এই মরণতন্ত্র লাগবে না। আমরা ক্ষমতা চাই না, ক্ষমতাসীনদের শোষনে  খেয়ে না খেয়ে কোন মতে বাঁচতে চাই। এই ধারণা এখন তৃনমূল মানুষের। 

উপরে ফিটফাট ভেতরে সদর ঘাট এমন ভোটই হচ্ছে এখন। বাইরে থেকে সুন্দর পরিবেশ। ভেতরে গেলে যা হয় তা বাইরে প্রকাশ করা যাবে না। প্রকাশ করলে মরতে হয়। এমন গনতন্ত্র কি দরকার?

চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অর্ধেক হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৮ জন মানুষ খুন হয়েছেন। তাদের মধ্যে খুন হওয়া ও খুন করার লোকগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের লোক। তাহলে এটা কোন নির্বাচন? খুন হওয়ার নির্বাচন? প্রশ্ন এসেছে কিন্তু উত্তর পাওয়া যাবে না। তবুও চলছে ভোট। উৎসবমুখর পরিবেশে।

মনে পড়ে যায়, জাতীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়ার সময় নির্বাচন কমিশন বলেছিলেন, দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না। কিন্তু পরে গিয়ে দেখো গেলো কথাটা উল্টো হয়ে গেছে। বিদ্রোহী প্রার্থী থেকেই গেলো। ফলে নৌকার সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংঘর্ষ শুরু হলো যা থামছে না। প্রতিটি নির্বাচনের আগেই ভোটার খুন শুরু হয়। ভোটার খুন করে নির্বাচন  উদ্বোধন হয়। নির্বাচনের পর পর্যন্ত চলে খুনের মহোৎসব। এই উৎসবের জন্য দায়ী কে? প্রশ্নের উত্তর জাতির জানা। অথচ নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নিজেদের লোক হারিয়েও বলছে সুন্দর ভোট হচ্ছে। কি আশ্চর্য গনতন্ত্র! তাহলে কি আমরা মানুষ খুন করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করছি? যদি তাই হয় তা হলে এটা কোন গনতন্ত্র? বাস্তবতায় বলতে গেলে এটাকে মরণতন্ত্রই বলা যায়। তাই আমরা মরণতন্ত্র চাই না। গনতন্ত্রও লাগবে না।

এদিকে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছে। তারা জানে তাদের ফলাফল কি হবে। তবুও অস্থিত্ব জানান দিতে তারা নির্বাচন করছে। যদি তারা নিজেদের স্বার্থে নির্বাচন না করে জনস্বার্থ দেখতে পেতেন তাহলে হয়তবা মানুষগুলোকে খুন হতে হত না। কারণ বিএনপি ও বিরোধীরা নির্বাচন না করলে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা অনেকটাই বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে যেতেন। বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সংস্কৃতি আওয়ামীলীগই শুধু চালু করেনি বিএনপি তা উদ্বোধন করেছে। সুতরাং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন না করলে হয়ত রক্তপাত অনেক কম হতে পারত।

তবে যাই হউক, এখন যে গনতন্ত্র চলছে, তা গনতন্ত্র নয় মরণতন্ত্র। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ নয় গুলিবিদ্ধ। ভোট নয় ভোটার খুন হওয়ার উৎসব। এই উৎসব বন্ধ হওয়া উচিত। প্রয়োজনে গনতন্ত্র না হলেও চলবে। বাঁচার জন্য ভোট যেহেতু দিতে হয় না তাই ভোটও লাগবে না। শুধু খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকলেই চলবে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি রাষ্ট্রের মালিক জনগনের অধিকারের কথা চিন্তা করেন তবে মরণতন্ত্র যেন বন্ধ করে দেন। তবুও মানুষ দু’ বেলা দু’মুঠো  ভাত খেয়ে না খেয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত থাকতে পারবেন। আবার এখন দেখা যাচ্ছে স্বাভাবিক মৃত্যুরও গ্যারান্টি নেই। যারা গ্যারন্টি দিবেন তারা বলছেন, যার যার গ্যারান্টি তাকেই  দিতে হবে।  তাহলে রাষ্ট্র আমাদের কি দিবে? মৃত্যু! তাই রাষ্ট্রের নিকট আামাদের একমাত্র চাওয়া গনতন্ত্রের নামে মরণতন্ত্র লাগবে না। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টিটি দেন প্লিজ।

ড. এ কে এম, রিপন আনসারী

এডিটর ইনচীফ

গ্রামবাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *