বিশেষ সম্পাদকীয়: ভোটের টাকা উন্নয়নে খরচ করা যায়!

Slider গ্রাম বাংলা জাতীয় টপ নিউজ ফুলজান বিবির বাংলা বাধ ভাঙ্গা মত বিনোদন ও মিডিয়া সম্পাদকীয়

images

 

ড. এ কে এম রিপন আনসারী
এডিটর ইন চীফ
গ্রামবাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনে ছিল এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। স্বাধীনতা আর মুক্তি এ দুটি শব্দের কার্যকারিতার বাস্তবায়ন হবে গনতন্ত্রের মাধ্যমে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূলই মন্ত্র হল গনতন্ত্র। যেখানে জনগণ হবে রাষ্ট্রের মালিক। জনগন স্বাধীন ভাবে ভোটের মাধ্যমে মতামত দিয়ে একটি সরকার গঠন করবে। আর সরকার জনগনের মৌলিক অধিকার গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করে একটি সুন্দর ও গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে অগ্রগামি করবে। যদি সরকার জনগনের চাহিদা পূরণে ব্যার্থ হয় তবে পরবর্তি মেয়াদে জনগন অধিক ভাল একটি সরকার নির্বাচন করবেন। এটা আামদের সংবিধানের মৌলিক তত্ত্ব।

অতীত ভুলে যদি কিছুদিন পূর্বের সময় পর্যালোচনা করা যায়, যেমন ১৯৯১ থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে গনতন্ত্র চলছে। ২৫ বছরের সরকার গুলোর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগও নেই। ২০০৭-২০০৮ সালের সেনাসমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকায় ওই সরকারকেও স্বৈরাচারী সরকার বলা যাচ্ছে না। সুতরাং ২৫ বছরের সরকার গুলোর আমলে সকল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলতে হবেই। কিছু কিছু মিথ্যা আছে যাকে সত্য বলতে আমরা বাধ্য হই। ওই কারণে ২৫ বছরের সরকার বৈধ সরকার ও গনতান্ত্রিক সরকার।

১৯৯১ সালের সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে দেয়া হল। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে দলীয় লোক অপসারণের প্রয়োজনে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হল। চলে আসল অসাংবিধানিক সরকার। ওই সরকার দুই বছর দেশ পরিচালনা করে একটি নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিল। সেই থেকে দেশ ভাল চলার কথা ছিল। চলছেও ভালই। কিন্তু গনতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেলে। মানুষের ভোটের অধিকার ক্ষুন্ন হল। লোক দেখানো নির্বাচনের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী একটি সরকার গঠন হল। নির্বাচনের আগেই সরকার গঠন হয়ে গেল। মানে হল ১৫১ আসনে সরকার গঠন হয়। আর বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ১৫৩ আসনে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে জোট পাশ করায় নির্বাচনের আগেই সরকার গঠন হয়ে যায়।  ফলে অর্থহীন নির্বাচনে রাষ্ট্রের বিরাট অংকের টাকারও ক্ষতি হল। আর নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি জোট জ্বালাও পোঁড়াও করে রাষ্ট্রের আরো একটি অংকের ক্ষতি করে দিল। এরপর সিটি নির্বাচন ও পৌর নির্বাচন। ওই দুটি নির্বাচন কি ভাবে হয়েছে তা জনগন জানেন।

এবার ইউপি নির্বাচন। তপসিল ঘোষণার পর প্রথম ধাপেই ২৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। ওই ইউনিয়ন গুলোতে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনতাই হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তার অভাবে পুলিশ নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় পুলিশের সামনেই মনোনয়নপত্র ছিনতাই হয়েছে। ছিনতাইকারীরা মনোনয়নপত্র ছিনতাই করে মনোনয়পত্র বাহকদের অপহরণ করেছে পুলিশের সামনেই। এরপর পুলিশ ভিকটিম উদ্ধার করেছে কিন্তু উদ্ধার হয়নি মনোনয়নপত্র। আর উদ্ধার হলেই কোন লাভ ছিল না। কারণ ততক্ষনে মনোনয়নপত্র জমাদানের সময়ও শেষ হয়ে গিয়েছিল। এই অবস্থায় ২৫টি চেয়ারম্যান পদে একজন করে প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করায় ধরে নেয়া যায় তাদের এখন শুধু একটি ঘোষনার দরকার।

বর্তমান পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে যে, বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় পাশের এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কারণ বাছাইয়ে অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হবে। অনেকে স্বইচ্ছায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন। আবার অনেকে প্রার্থী ভোটের মাঠ থেকে পালিয়েও যেতে পারেন। এরপর ভোট ও ফলাফল। সব মিলিয়ে অনুমান করা যায় ইউপি নিবাচনে জনগনের মতামতের কেমন প্রভাব পড়তে পারে।

এমতাবস্থায়, দাবি করা যায় এই ধরণের নির্বাচন দেয়ার প্রয়োজন কি? দলীয় লোক দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো চালালে তেমন মন্দ হয় না। বরং ভোটের টাকা গুলো উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করলে দেশ অনেক এগিয়ে যেতে পারে। আমরা গনতন্ত্রের যোগ্য নই তাই আমাদের ভোট বিরতি দরকার। আমাদের এই বিরতিতে দেশ এগিয়ে যাবে ও আমরাও স্বনির্ভর হতে পারব। এই দাবি এখন আসতেই পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *