রাজন হত্যায় কামরুলসহ চারজনের ফাঁসির রায়

Slider টপ নিউজ

2015_10_06_22_01_48_TlAV0VfASi8Ja1NIPaWe4xxrV1TuFm_original

 

 

 

 

রোববার ১১টা ২৯ মিনিট বহুল আলোচিত এ মামলার রায় পড়া শুরু হয় করেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা।

পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নূর মিয়ার (২০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি কামরুলের মেজো ভাই মুহিদ আলমের (৩২), বড়ভাই আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও ছোটভাই পলাতক শামীম আহমদের (২০) ৭ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এছাড়া শেখপাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন আহমদের ছেলে দুলাল আহমদ (৩০) ও সুনামগঞ্জের দোয়ারা উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরগাঁওয়ের মোস্তফা আলীর ছেলে আয়াজ আলীকে (৪৫) ১ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মামলার অপর তিন আসামি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি ইসলামপুর গ্রামের মৃত মজিদ উল্লাহর ছেলে মো. ফিরোজ আলী (৫০), কুমারগাঁওয়ের (মোল্লাবাড়ী) মৃত সেলিম উল্লাহর ছেলে মো. আজমত উল্লাহ (৪২) ও হায়দরপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন রুহেলকে (২৫) বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

হত্যাকাণ্ডের ৪ মাসের মাথায় সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হল। আদালত সূত্র জানিয়েছে, রাজন হত্যা মামলার রায়ের রায়ের মোট ৭৬ পৃষ্ঠা রয়েছে। তন্মধ্যে ৫৪নং পৃষ্ঠা থেকে পড়া শুরু করে পরবর্তী ২২ পৃষ্ঠা পড়ে শুনানো হয়েছে। রায়ের মোট ২ হাজার ৮১০ লাইন ছিল।

এর আগে বেলা ১১টা ১৮ মিনিটে আদালতে হাজির করা হয় মামলার আসামি কামরুলসহ অন্যদের। ১১টা ২৪ মিনিটে তাদেরকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।

সকাল ৯টা থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এসে ভিড় করতে দেখা গেছে। মানুষের চাপ সামলাতে জজকোর্টের মূলফটক বাদে সব গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। সকাল ৯টা ২৮ মিনিটে রাজনের শওকত চৌধুরী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন।

সকাল ১০টা ২২মিনিটে রাজনের মা, বাবা ও তার ছোট ভাই আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন। এসময় তাদের সঙ্গে গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই উপস্থিত হয়েছেন। রাজনের মা বাংলামেইলকে এক কথাতেই তার প্রত্যাশা জানালেন। বললেন, ‘ছেলে হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই আমি।’ এসময় উপস্থিত সবাই ফাঁসি ফাঁসি বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে সামিউল আলম রাজনকে চোর সাজিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। এরপর ১৬ আগস্ট রাজন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ২৪ আগস্ট, সোমবার চার্জশিট আমলে নেন। পরে ২২ সেপ্টেম্বর ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে রাজন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম, তার মেজো ভাই মুহিদ আলম (৩২), বড়ভাই আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪), ছোটভাই পলাতক শামীম আহমদ (২০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের অলিউর রহমান ওরফে অলিউল্লাহর ছেলে মো. জাকির হোসেন পাভেল ওরফে রাজু (১৮), জালালাবাদ থানার পীরপুর গ্রামের মৃত মব উল্লাহর ছেলে সাদিক আহমদ ময়না ওরফে বড় ময়না ওরফে ময়না চৌকিদার (৪৫), পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নূর মিয়া (২০), শেখপাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন আহমদের ছেলে দুলাল আহমদ (৩০), সুনামগঞ্জের দোয়ারা উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরগাঁওয়ের মোস্তফা আলীর ছেলে আয়াজ আলী (৪৫), শেখপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে তাজউদ্দিন আহমদ ওরফে বাদল (২৮), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি ইসলামপুর গ্রামের মৃত মজিদ উল্লাহর ছেলে মো. ফিরোজ আলী (৫০), কুমারগাঁওয়ের (মোল্লাবাড়ী) মৃত সেলিম উল্লাহর ছেলে মো. আজমত উল্লাহ (৪২) ও হায়দরপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন রুহেল (২৫)।

হত্যার পর লাশ গুম চেষ্টার অভিযোগে মুহিদ আলম, ময়না চৌকিদার, তাজ উদ্দিন আহমদ বাদল ও শামীম আহমদের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ আনা হয়।

গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় রাজন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। এরপর ৪,৭,৮,১১,১২,১৩,১৪,১৫ ও ১৮ অক্টোবর চলে সাক্ষ্যগ্রহণের কাজ। মামলার মোট সাক্ষী ৩৮ জনের মধ্যে ৩৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় আদালতে।

এদিকে রাজন হত্যাকাণ্ডের পর মুহিদ আলমের স্ত্রী লিপি বেগম ও শ্যালক ইসমাইল হোসেন আবলুছকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে মামলার অভিযোগপত্র থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়।

এদিকে, চার্জশিট আমলে নেয়ার পর, ২৫ আগস্ট পলাতক কামরুল ও শামীমের মালামাল ক্রোক করে নগরীর জালালাবাদ থানা পুলিশ। গত ৩১ আগস্ট রাজন হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি পলাতক কামরুল ইসলাম, তার ভাই শামীম আহমদ ও আরেক হোতা পাভেলকে পলাতক দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজন হত্যা মামলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে হস্তান্তর করা হয়। গত ১৫ অক্টোবর রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৌদিতে পলাতক কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *