ভূয়া প্রেমে জিসিসির মেয়র অশান্তির সংকেত

Slider গ্রাম বাংলা জাতীয় টপ নিউজ বাধ ভাঙ্গা মত রাজনীতি

mannan gone

সরেজমিন গাজীপুর-১০:
গ্রাম বাংলা টিম: গাজীপুর সিটিকর্পোরেশনের প্রথম মেয়র বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এম এ মান্নান। ২২বছর পর জনপ্রতিনিধি হওয়ায় অধ্যাপক মান্নানকে ব্যর্থ ও অজনপ্রিয় করে রাজনীতিতে জিরো করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন এক শ্রেনীর তোষামোদকারী চক্র। মেয়রের সামনে প্রশংসায় পঞ্চমুখ করতে সক্ষম ব্যাক্তিরা আদায় করছেন নানা ধরণের সুযোগ সুবিধা। ফলে মেয়রকে আবেগে ডুবিয়ে নগরের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন নগরবাসী। এতে করে মেয়রকে ভূয়া প্রেমে ফেলে অশান্তির সম্ভাবনার সংকেত বাজছে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর পৌরসভার জন্মলগ্ন থেকে চেয়ারম্যান/মেয়র পদে ছিলেন বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করায় মোজাম্মেলক হক পদত্যাগ করেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন আঃ করিম। আঃ করিমের আমলে অনেক সুবিধাবাদী মানুষ প্রশাসনকে জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আঃ করিম কাউন্সিলর পদে অভাবনীয় ভোটে পরাজিত হন।

পরবর্তি সময় গাজীপুর সিটিকর্পোরেশন নির্বাচনে অধ্যাপক এম এ মান্নান বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। আওয়ামীলীগ অধ্যুষিত গাজীপুরে বিএনপি প্রার্থীর বিজয়কে অনেকে নানা ভাবে বিশ্লেষন করছেন। কারো মতে, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এম এ মান্নান বিজয়ী হয়েছেন। কারো কারো মতে, সরকার বিরোধী মনোভাব মান্নানকে মেয়র করেছেন। আবার কারো মতে, ব্যাক্তি মান্নান গাজীপুরের জনগনের হৃদয়ে অনেক আগেই স্থান করে নিয়েছেন বিধায় তিনি বিজয়ী হয়েছেন। মোট কথা গাজীপুর নগর ভবনের প্রথম মেয়র বিএনপি থেকে হয়েছেন এটিই বিএনপির জন্য বড় সাফল্য।

বিভিন্ন দায়িত্ব শীল সূত্র বলছে, গাজীপুর নগর ভবন এখন একটি বানিজ্যিক কার্যালয়ে পরিনত হয়েছে। যারা অধ্যাপক মান্নানের নির্বাচনে প্রান পর চেষ্টা করেছেন তারা এখন মেয়রের কাছে যেতে পারছেন না। আবার যারা অধ্যাপক মান্নানের নির্বাচনে কর্মীর অভিনয় করেছেন তারাই এখন সকল সুবিধা ভোগ করছেন। গাজীপুর নগর ভবনকে ঘিরে এক শ্রেনীর সুবিধাবাদী চক্র অতীতের মত মেয়রের চারপাশে ঘুর ঘুর করছেন। কারণে অকারণে মেয়রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ করে মেয়রের কক্ষকে সব সময় চাঙ্গা করে রাখছেন। ফলে মেয়রের একনিষ্ট কর্মীরা প্রতিহিংসায় জ্বলে পুঁড়ে মেয়রের কাছে যাচ্ছেন না। আর মেয়রও প্রশংসার আবেগে ভেসে গিয়ে খাঁটি কর্মীদের নাম পর্যন্ত মনে রাখতে সময় পাচ্ছেন না।

নগর ভবন সূত্র বলছে, গাজীপুর বিএনপিতে দুটি গ্রুপ সর্বজন স্বীকৃত। অধ্যাপক এম এ মান্নানের গ্রুপ ও  হাসান সরকার গ্রুপ। অধ্যাপক মান্নান মেয়র হওয়ায় সঙ্গত কারণে মান্নান গ্রুপের নেতা-কর্মীরা লাভবান হচ্ছেন। হাসান সরকার পন্থীরা মেয়রের কাছে যেতে পারছেন না। এতে হাসান সরকার গ্রুপ মেয়রের প্রতি সংক্ষুব্ধ রয়েছেন।

অপর দিকে ক্ষমতসীন আওয়ামীলীগ সমর্থিক সুবিধাভোগী মানুষ মেয়রকে বেকায়দায় ফেলতে হাসান পন্থীদের সাথে গোপন আাঁতাত করছেন। এতে দিন দিন মেয়রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার মাত্রা বেড়েই চলছে। সম্প্রতি ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে নগর ভবনে যে ঘটনা ঘটেছে তা মেয়র বিরোধী মনোভাবেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে দিন দিন মেয়রের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে। আর সংক্ষুব্ধ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সুবিধাভোগী শ্রেনীর কুরুচীপূর্ন অপরাজনৈতিক কৌশলে পিছিয়ে নেই জাতির বিবেক বলে খ্যাত সংবাদিক সমাজের কিছু বিপদগামী লোক। সাংবাদিকদের মধ্যে এক শ্রেনীর সাংবাদিক যারা সব সময় সরকারী দলের ব্যানারে থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকেন তারাও এবার নগর ভবনে এসে কিছুক্ষনের জন্য কঠিন বিএনপি হয়ে যান। নগর ভবনে অবস্থানকালীন সময়ে বিএনপি বনে যাওয়া ওই সকল সাংবাদিক মেয়রের ঘনিষ্ট লোক হিসেবে এখন পরিচিত। যারা মেয়রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন তারা এখন মেয়রের খাঁটি কর্মী হয়ে গেছেন। ফলে মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান এখন বিশাল সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন।

ভূক্তভোগীরা বলছেন, গাজীপুর নগর ভবন এখন একটি বানিজ্যিক কার্যালয়ে পরিনিত হয়েছে। যে কোন ফাইল তদ্বিরে মেয়র পন্থী নেতারাই তদ্বির করছেন। যারা আওয়ামীলীগ সমর্থিত তারাও মেয়র পন্থী বিএনপি নেতাদের বাসায় লাইন ধরছেন সুবিধা আদায়ের জন্য।

এমতাবস্থায়, গাজীপুর নগর ভবনে মেয়রের বিরুদ্ধে দিন দিন সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। আর মেয়র সাহেব অফিসে বসে নিজের প্রশংসার কথা শুনতে শুনতে শতভাগ ভাল অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন।আর  মেয়র অফিসের চাটুকার ওই সকল লোকদের অপকর্ম মেয়রকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে যে কোন সময় মেয়র বিরোধী আন্দোলন রাজপথে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। সূত্র আরো বলছে, মেয়রকে বিপদে ফেলতে সুবিধাভোগী শ্রেনীর একটি অংশ গোপনে সক্রিয় রয়েছেন।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে,  ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম জনপ্রিতিনিধি হয়েছেন অধ্যাপক এম এ মান্নান। দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি প্রায় ২২ বছর জনপ্রতিনিধি হতে পারেন নি বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তাই বিএনপির মান্নান বিরোধী পক্ষ আওয়ামীলীগের সঙ্গে মিশে মেয়রকে অজনপ্রিয় করে তোলতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। এর অংশ হিসেবে মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের অতীত রেকর্ডগুলো এক সাথে করে জনসমক্ষে উপস্থাপনের মাধ্যমে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যথেষ্ট সতর্কতার মাধ্যমে নগর ভবনের সার্বিক কর্মকান্ড পর্যবেক্ষন করে নেতিবাচক দিক গুলো নিয়ে সামনে এগুচ্ছে সুবিধাভোগী চক্র।

যার ফলশ্রুতিতে মেয়রের বিজয়ের পর থেকে বর্তমানে তার জনপ্রিয়তা অনেক কমে গেছে বলেই মনে করছেন নগরবাসী।

চলবে–

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *