সরেজমিন গাজীপুর-৭ ভিজিটিং কার্ড দেখেই সই করেন ভূমিকর্তারা

Slider অর্থ ও বাণিজ্য গ্রাম বাংলা জাতীয় টপ নিউজ ঢাকা নারী ও শিশু বাধ ভাঙ্গা মত

DSC07409
গ্রাম বাংলা টিম- ঢাকার কুল ঘেঁষে গাজীপুর জেলা। কম ঘনবসতিপূর্ন বললেও এখন গাজীপুরে লোকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম নয়। তবে স্থায়ী লোকের বসতি কম। শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর জেলায়  ভাসমান লোকের সংখ্যা বেশী। বাইরের লোকজন জমি কিনে শিল্প কারখানা ও বিলাসবহুল বাগান বাড়ি তৈরী করায় জায়গার মূল্য ঢাকার চেয়ে কোন অংশে কম নয়। ফলে ঢাকায় যারা চাকুরী বা ব্যবসা করেন তারা গাজীপুরে বসবাস করতে বেশী আগ্রহী।

জনবহুল জায়গায় অপরাধ যেমন বেশী তেমনি জমিবহুল জায়গায় ভেজালের সংখ্যাও বেশী। আর এই জাল, ভেজাল কে পুঁজি করে ভূমি অফিসে কর্মরত সরকারি কর্মচারীরা আঙ্গুল ফুলে এমন বড় কলাগাছ বনে গেছেন যে, ভূমি অফিসকে এখন আমেরিকান অফিসও বলে মানুষ ডাকে। ভূমি অফিস গুলোর উর্বর মাটিতে ছোট কলা গাছের চারা অল্প দিনেই বড় গাছ হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর জেলার ৬টি থানা, ৩টি পৌরসভা ৪৬টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। এসকল ভূমি অফিসে যারা কাজ করেন তারা রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যান।

প্রবাদ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গাজীপুর জেলায় ভূমি অফিসে বদলী হতে একজন এম এল এস এস ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেন। জেলা সদরের সহকারী ভূমি কমিশনার এক কোটি টাকা দিয়ে শুধু বদলীই হন। এই প্রবাদও রয়েছে, সব সরকারের আমলে যে মন্ত্রী গাজীপুর জেলা দেখবাল করেন তাকেও নির্ধারিত হারে প্রতিমাসে একটি অংক দিতে হয় সহকারী ভূমি কমিশনার গাজীপুর সদরকে। প্রেত্যেক থানার ওসিরা যেমন স্থানীয় সাংসদের ডিও লেটার নিয়ে যোগদান করেন তেমনি সহকারী ভূমি কমিশনাররা অলিখিতভাবে এমপিদের ডিও লেটার নিয়ে যোগদান করেন।

সূত্র বলছে, ভূমি অফিসের সাথে ভূমি দস্যচক্র, রাজনৈতিক ভূমিদস্যু, তথাকথিত সুশীল সমাজের নেৃতৃবৃন্ধ, কতিপয় সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের একটি সুসম্পর্ক রয়েছে। গাজীপুর জেলায় বিভিন্ন সরকারের আমলে সুশীল সমাজ সেজে একাধিক ব্যাক্তি ৬/৭টি সরকারী প্লটের মালিকও হয়েছেন। আবার ২/১টি রেখে বিভিন্ন লোকের কাছে বড় অংকের টাকা নিয়ে প্লট হস্তান্তরও করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ জেলার বিভিন্ন সেক্টরের বড় কর্তাদের অফিসে নিয়মিত যাতায়াত ও বিভিন্ন সরকারী সভায় অংশ গ্রহন করে ওই সকল সুশীল সমাজের লোকজন ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে লিপ্ত রয়েছেন। সুশীল সমাজের ব্যানারে ভূমি দস্যু সিন্ডিকেটের সাথে যোগশাযশ করে নামজারী জমাভাগ, মিস কেইস সহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা নিরসনে সুশীল সমাজ একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

ভদ্র পোষাকের আবরণে তথাকথিত ওই সকল সুশীল সমাজের লোকজন প্রত্যেক সরকারের আমলেই নাগরিক সমাজের নেতৃত্বে থাকেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, চাটুকারী করার কারণে ওই সকল সুশীল সামজের ভদ্রলোক সম্পর্কে খোঁজ খবর না নিয়েই তাদের কথা মত কাজ করেন।

গোপন সূত্র বলছে, ভূমি অফিস গুলোতে নামজারীর আবেদনের ফাইলে বিভিন্ন ভিজিটিং কার্ড পিন দিয়ে আটকানো থাকে। সহকারী ভূমি কমিশনার ফাইল অনুমোদনের সময় ওই সকল ভিজিটিং কার্ডের দিকে চেয়ে ফাইলে স্বাক্ষর করেন। ফলে ভূল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। এই সকল ভূলের কারণে নামজারী অনুমোদন পত্রের বিরুদ্ধে অধিকাংশ সময় মিস কেইস হতে দেখা যায়। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তী বেড়েই চলছে।

সূত্র বলছে, রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার জন্য ভূমি অফিসের সাথে একটু ভাল সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়। এই সম্পর্কের সাথে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের সুনজর থাকলে আর কোটিপতি হতে কষ্ট করতে হয় না।

চলবে—

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *