জনগণের ভাগ্য ফেরাতে জীবন দিতে প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

Slider জাতীয়


বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে বাবার মতো নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমি কক্সবাজারবাসী এবং সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে প্রয়োজনে আমি আমার বাবার মতো জীবন উৎসর্গ করব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব বাধা অতিক্রম করে দেশবাসীর জন্য একটি সুন্দর ও উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করে যাব।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) গণভবন থেকে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত ‘উন্নয়নের নতুন জোয়ার: বদলে যাও কক্সবাজার’ কর্মসূচিতে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের আনুষ্ঠানিক উদযাপনের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উৎসবটির আয়োজন করছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

দিনব্যাপী এই জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে লাবণী সমুদ্র সৈকতে মেলা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া স্কুল পর্যায়ে গান, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যে বাংলাদেশ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)- এর ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় দ্বিতীয়বারের মত স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের সবগুলো সূচকে উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হয়।

এরপর, গত ৮ জুন ২০২১ তারিখ জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকসোক) সিডিপি’র উল্লিখিত সুপারিশে অনুমোদন প্রদান করে।

সবশেষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গত ২৪ নভেম্বর ২০২১ তারিখে ০৫ (পাঁচ) বছরের প্রস্তুতিকালসহ স্বল্পোন্নত দেশ হতে বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশে অনুমোদন প্রদান করে।

আশা করা হচ্ছে যে পাঁচ বছর প্রস্তুতিকাল শেষে বাংলাদেশের উত্তরণ ২০২৬ সালে কার্যকর হবে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেটি কিনা জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত উত্তরণের তিনটি মানদণ্ড পূরণের মাধ্যমে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এমন একটি সময়ে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জন করল যখন সমগ্র দেশ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছে।

স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের ঐতিহাসিক অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন সম্পর্কে আপামর জনসাধারণকে অবহিতকরণ এবং তাদের আত্মসম্মান ও মর্যাদাবোধ জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন যা বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপ অর্জনে সহায়ক হবে। এরই প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী ৩১ মার্চ ২০২২ তারিখ কক্সবাজার জেলার লাবণী সৈকতে উত্তরণ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কক্সবাজারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসমূহ এবং স্থানীয় নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি-সংস্কৃতি আপামর জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে অভাবনীয় আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে—এই আয়োজনটি হবে সেই অর্জনেরই একটি বিশেষ স্বীকৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *