বিলুপ্তির পথে দৃষ্টিনন্দন ঢোলকলমি

Slider কৃষি, পরিবেশ ও প্রকৃতি
?????????

সাদা ও বেগুনি রঙের পাপড়ি জড়ানো দৃষ্টিনন্দন একটি ফুলের নাম ঢোলকলমি। পাঁচটি পাপড়ির মেলবন্ধনে ফুটে উঠে ফুলটি। শরতের নীল আকাশপানে চেয়ে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া এ গাছটি শীত ও বর্ষাকাল পর্যন্ত দেখা যায়। কখনো রাস্তার ধারে, জলাশয়ে, নদীর কিনারে কিংবা পরিত্যক্ত জায়গায় গজিয়ে উঠে। তবে ৮-১০ ফুট লম্বা ঢোলকলমি গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে। শৈশবের খেলার সঙ্গী ঢোলকলমির ডালে গড়া খেলার ঘর আর কনে সাজানো ফুলের বাহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

একসময় গ্রাম অঞ্চলে রাস্তার ধারে পাশে ঢোলকলমি গাছ দেখা গেলেও এখন আর চোখে পড়ে না। তবে শিবচরের কিছু কিছু এলাকায় দেখা যায়।

ঢোলকলমি জমির ক্ষয়রোধ করে। এটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতা আছে বলে গ্রামাঞ্চলে এই গাছ বাড়ি বা জমিতে বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে।

শিবচর উপজেলার চরজানাজাত এলাকার কৃষক আঃ রউফ ফকির বলেন, গ্রামের ভাষায় এই গাছ আমাদের কাছে ঢোলকমলি গাছ হিসেবে পরিচিত। নদীর তীর ভাঙন রক্ষায় এটি ব্যবহার করতাম। আবার রান্নার জ্বালানি উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করতাম। তবে এখন আর খুব একটা দেখা যায় না।

বাহাদুরপুর এলাকার সুমন হাওলাদার নয়া দিগন্তকে বলেন, ঢোলকলমি একটি উপকারী গাছ। এ গাছ দিয়ে বেড়া তৈরি করা। রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সবচেয়ে বড় উপকার হয় মাটি ক্ষয়রোধের কাজে। বর্ষা কিংবা বন্যার মৌসুমে ঢোলকলমি গাছ নদীর তীর ভাঙন রক্ষায় উপকারে আসে।

শিবচরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দেশের যুগ্ম সম্পাদক এস এম দেলোয়ার হোসাইন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ঢোলকলমির গাছ নদীভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি গ্রামাঞ্চলে প্রাকৃতিক বেড়া হিসেবে পরিচিত। অল্পদিনে ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়। জ্বালানির কাজে, ভূমিক্ষয় রোধ, ভাঙন রোধে ঢোলকলমি গাছের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এই উদ্ভিদকে সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের জন্য সকলের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *