গাজীপুরবাসীর প্রশ্ন, জাহাঙ্গীর আলমের প্রতি প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্ট, বলছেন কে!

Slider টপ নিউজ


ঢাকা: গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে ৩ অক্টোবর একটি বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে আওয়ামীলীগ। ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় নির্ধারণ থাকায় নির্ধারিত সময়ে ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন মেয়র। গতকাল শুক্রবার মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় আওয়ামীলীগ এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহবান করা হয়। ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে গতকালের সভা থেকে জানানো হয়। এই সভায় বিগত সভার সিদ্ধান্ত সমূহ পর্যালোচনা করে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত দলীয় কার্যক্রম অনুমোদন হবে এটাই সাংগঠনিক নিয়ম। ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত দলীয় কার্যক্রমের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের প্রদানকৃত ব্যাখ্যা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। এটা সাংগঠনিক সভার রীতি বটে। কিন্তু আজ শনিবার গণমাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমের জবাবে প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্ট মর্মে খবর প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে। খবরগুলোকে গতকাল অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মনোনয়ন বোর্ডের সভার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্ট কিন্তু কোন খবরেই সূত্র সুনিদ্রিষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্ট কথাটি বৈঠকে অংশগ্রহণকারী কোন নেতা বলেছেন, তাও কোন সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি।

স্থানীয় সরকারের মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জাহাঙ্গীর ইস্যুতে কোন বক্তব্য নেই। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত গতকালের বৈঠকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, কাজী জাফরউল্লাহ, ড. আবদুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশচন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, রশিদুল আলম, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন বিষয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর নামও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৈঠক শেষে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন প্রাপ্তদের নাম প্রকাশ করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃতীয় ধাপের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী উল্লিখিত কোন নেতা বা প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে না থাকা বিষয়ে দায়িত্বশীল কোন সূত্র স্পষ্ট না করে অনুমান নির্ভর ও অসমর্থিত সূত্রে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ সমিচিন নয়। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মিডিয়া উইং থাকে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সাংবাদিকদের সামনে মতবিনিময় করেন বা সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে কথা বললে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচার ও প্রকাশ করা যায়।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী যদি দলীয় হন তবে দলের দপ্তর সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, দলীয় মুখপাত্র এমনকি সাধারণ সম্পাদক নিজেও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নেতার বক্তব্য প্রেস ব্রিফিং করে গণমাধ্যমকে জানাবেন। তবে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এক গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যার বিষয়টি ১৯ নভেম্বর দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে যে উত্তর দিয়েছেন তা সাংগঠনিক কার্যসূচির অংশ মাত্র। এতে নতুন কোন বিষয় বলা হয়নি এবং দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কোন মন্তব্য প্রকাশ করেননি দলের সাধারণ সম্পাদক।

কিন্তু দু:খ ও পরিতাপের বিষয় এই যে, বেশ কিছুদিন ধরে গাজীপুরে জাহাঙ্গীর ইস্যুতে স্পষ্ট ও অস্পষ্টভাবে পক্ষে বিপক্ষে উত্তেজনা চলমান। ১৯ নভেম্বর জাহাঙ্গীর আলম অপরাধী হলে দল, সরকার ও রাষ্ট্র, তার বিরুদ্ধে যে কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যদি জাহাঙ্গীর আলম নির্দোষ হয় তবে জাহাঙ্গীর আলম বিরোধী আন্দোলনে আইন ভঙ্গ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুরুপ ব্যাবস্থা গ্রহন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে কেন্দ্রীয় ভাবে তদন্তাধীন একটি বিষয়ে চুড়ান্ত বৈঠকের পূর্বে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অসমর্থিত সূত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশ নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

সাধারণ মানুষ আশা করে গণমাধ্যম রাষ্ট্রের শান্তি শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সর্বদায় সচেষ্ট থাকে। তাই উত্তেজনাকর ইস্যুতে এই ধরণের অসমর্থিত সংবাদ জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ হতে পারে বলে অনেকের অভিমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *