গাজীপুরে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করার দন্ড কার মাথায় চাপছে!

Slider তথ্যপ্রযুক্তি

গাজীপুর: গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোষ্ট নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অডিও সহ একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা ও শুনা যায়, গাজীপুর মহানগর আওয়অমীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি মেয়র জনৈক ব্যক্তির সাথে মোবাইলে কথা বলছেন। অডিওর কথার মধ্যে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয় বলা-বলি হচ্ছে। ওই কথাগুলো বে-আইনী হওয়ায় মেয়রকে অভিযুক্ত করে আন্দোলন শুরু হয়েছে।

আজ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত গাজীপুর শহরের রাজবাড়ি রোড, বোর্ডবাজার ও টঙ্গীতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ, মিছিল, ছবি এবং ব্যানার পোঁড়ানোর কাজ হচ্ছে। আন্দোলনে ছিল মশাল মিছিলও। মিছিল ও সমাবেশে প্রদর্শন হয়েছে আলোর মশাল ও ঝাড়ু। এই সব কর্মসূচির ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। যারা আন্দোলন করছেন তারা আওয়ামীলীগ, অংগ ও সহযোগী সংগঠনের লোক। যার বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে তিনিও আওয়ামীলীগের নেতা। সুতরাং এই আন্দোলন আওয়ামীলীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলের আন্দোলন বলেই মনে হচ্ছে। তবে যে বক্তব্য নিয়ে আন্দোলন, সেই বক্তব্য আপত্তিকর ও মানহানিকর, যা আইনে গুরুতর অপরাধ। এই ধরণের বক্তব্য দেয়া ও প্রচার করাও অপরাধ বলে আইনে বলা হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১(১) ধারায় এই ধরণের বক্তব্য ও মানহানিকর আলামত প্রচার গুরুতর অপরাধ।

বর্তমান সরকারের ২০১৮ সালে করা ৪৬ নং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ২১ ধারায় বলা হয়েছে,

অপরাধ ও দণ্ড
—————

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা বা প্রচারণার দণ্ড
২১। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা উহাতে মদদ প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১(এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা ৩(তিন) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

এদিকে আজ সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়র বিরোধী একটি ফেসবুক আইডির ম্যাসেঞ্জারের একটি স্কিনশট ভাইরাল হয়। ওই খানে দেখা যায়, আন্দোলনকারী এক নেতাকে যা বলা হচ্ছে, তাতে বুঝা যায়, অডিওটি সুপার এডিট করা হয়েছে। আবার ওই নেতা বলছেন, তার নামে ভুয়া আাইডি খোলে অপপ্রচার করা হচ্ছে। অপরদিকে মেয়রপন্থী একজন নেতার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জোরের একটি কথোপকথনও ফাঁস হয়েছে বলে ভাইরাল হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মেয়রের পাকনামী ফাঁস হওয়ার খবর। তবে এই আাইডির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটাও ভুয়া আাইডি খোলে করা হয়েছে। মানে হল, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা যা আসছে তাতে অপরাধের পাল্লা ভারীই হচ্ছে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলারও অবনতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

সাধারণ মানুষ বলছেন,আওয়ামীলীগের করা আইন ভাঙছেন আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরাই। তবে অডিওর বক্তব্য তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীয় সর্বমহলের। বিষয়টি আইনের কাছে গেলে দেখা যাবে কার মাথায় দন্ড বর্তায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *