আমার মরদেহ যেন এফডিসিতে না যায়

Slider বিচিত্র


‘বাবা সেকালের বিখ্যাত স্কাউট। তার হাত ধরেই গাজীপুরে রোভার স্কাউটের গোড়াপত্তন। নামকরা ফুটবল রেফারি। আপাদমস্তক একজন ক্রীড়ামোদী হিসেবে পুরো ঢাকায় পরিচিত মুখ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। বাবা গত হয়েছেন দীর্ঘদিন, কেন আজ পর্যন্ত মূল্যায়িত হননি জানি না। ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের একটি নামফলকে বাবার নাম পাই, এর বেশি কিছু দেখিনি।’ জন্মদিনের কথা বলতেই হতাশায় কথাগুলো বলছিলেন উপমহাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। স্বভ‚মে বাবার মতো নিজেও উপেক্ষিত অজানা কারণে। উপেক্ষিত তার স্বামী খ্যাতিমান সংগীত পরিচালক রবিন ঘোষও।

জন্মদিনে বিশেষ কোনো আয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এখন ফায়সালাবাদে আছি, এখানে বসে আর কী পরিকল্পনা। দেশে থাকলে কাছের মানুষদের হয়তো দাওয়াত করতাম।’

ওখানে সহশিল্পীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে? শবনমÑ হ্যাঁ হ্যাঁ, জেবার বাসায় গিয়েছিলাম। দুজনে দীর্ঘ সময় গল্প করেছি। এ ছাড়া নাদিমের সঙ্গে কয়েকবার দেখা হয়েছে। তিনিও অসুস্থ, কানে শোনেন না, তবে ঢাকার অন্য সহশিল্পীর খবর জানতে চান। বয়স হয়েছে, শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। অতীতের স্মৃতিগুলো থেমে থেমে মনে পড়ে, তাই মাঝেমাধ্যে মনটা খারাপ হয়। খারাপ হয়, যখন শুনি আমি বাংলাদেশের নাগরিক কিনা। হৃদয়টা ভেঙে যায়Ñ বলতে বলতে চোখ ভিজে আসে। অথচ ব্রিটিশ-ভারতের পুরান ঢাকায় ১৯৪৬ সালের ১৭ আগস্ট আমার জন্ম। ক্যারিয়ারের সূচনা। তার পরও শুনতে হয়, আমি এদেশের কিনা।

তার এমন কথার দাবিতে কানাডায় অবস্থানরত প্রখ্যাত পরিচালক আজিজুর রহমান এবং আজিজুর রহমান বুলি বলেন, ‘শবনম গোটা পাকিস্তানের আর্টিস্ট ছিলেন। তিনি কাজের সুবাদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। সেখানে সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছেন। কখনো বাঙালি ছোট হবেÑ এমন কিছু করেননি। তার অভিনীত ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়, তিনি মনেপ্রাণে কতটা বাঙালি ছিলেন। এগুলো তাকে আইকনিক অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।’

এদিকে ফ্লাইট চলাচল ঠিক হলে চলতি মাসেই দেশে ফিরবেন জানিয়ে উপমহাদেশের কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী বলেন, ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অনেক কথা শুনি। এসব ভালো লাগে না, শংকিত হই। এখন আর খুব বেশি কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের আমার সমসাময়িকদের সঙ্গেই কেবল আলাপ হয়। এদের মধ্যে নায়ক হারুন, আজিজুর রহমান, আফজাল চৌধুরী, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আবু মুসা দেবু, নাসিমা খান, রাজ্জাক সাহেবের স্ত্রী ল²ী ভাবি ও ববিতার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। আসলে এখন সবারইতো ব্যস্ততা।

পূর্বসূরিদের প্রতি ইন্ডাস্ট্রির উদাসীনতা তাকে কষ্ট দেয় জানিয়ে শবনম বলেন, এদেশের ইন্ডাস্ট্রি যাদের হাতের ছোঁয়ায় প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, সেই এহতেশাম, মুস্তাফিজ, খান আতা, সালাউদ্দিন, রহমানÑ তারাই অবহেলিত, সেখানে আমি আর কে?

‘আমি আর এফডিসিতে যাব না’Ñ ক্ষোভমিশ্রিত কণ্ঠে বহুবার এ কথা বললেও সম্প্রতি ইন্ডাস্ট্রিতে বিতর্কিত ঘটনা প্রসঙ্গে ফের জানিয়ে দেন, ‘আমি আর এফডিসিতে যাব না’। তার বক্তব্যÑ সেখানে এখন কাজ হয় না, কেউ কাউকে সম্মান দেয় না, তাই ছেলের কাছে বলে রেখেছি মৃত্যু হলে আমার মরদেহ যেন এফডিসিতে না যায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *